দেশের মানুষের প্রধান স্বার্থ: বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন: জোনায়েদ সাকি
![]() |
| দলীয় প্রতীক মাথাল নিয়ে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকির নেতৃত্বে মিছিল। শুক্রবার বিকেলে নারায়ণগঞ্জের নিতাইগঞ্জ এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
এই মুহূর্তে বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন দেশের মানুষের প্রধান স্বার্থ বলে মন্তব্য করেছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি। তিনি বলেন, বর্তমান বিদ্যমান সংবিধান না বদলালে জনগণের হাতে ক্ষমতা আসবে না। কারণ সংবিধানের অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগে একজন ব্যক্তির হাতে সব ক্ষমতা কুক্ষিগত ছিল।
শুক্রবার বিকেলে গণসংহতি আন্দোলন নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার উদ্যোগে আয়োজিত মিছিলের পর সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোনায়েদ সাকি এই মন্তব্য করেন। নগরের খানপুর মেট্রো হলের সামনে থেকে দলের নির্বাচনী প্রতীক ‘মাথাল’ নিয়ে মিছিল শুরু হয় এবং শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে নিতাইগঞ্জে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা সংবিধানের অগণতান্ত্রিক ব্যবস্থার সুযোগ নিয়ে স্বৈরাচারী হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। সংবিধানে যতাধিক অধিকারের কথা থাকলেও কার্যত এক ব্যক্তির হাতে সব ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত ছিল। এর ফলে বাংলাদেশের মানুষের অধিকার ও ক্ষমতা এত দিন প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তিনি আবারও বলেন, বর্তমান বিদ্যমান সংবিধান না বদলালে জনগণের হাতে ক্ষমতা আসবে না। এটি শুরু থেকে গণসংহতি আন্দোলনের মূল বক্তব্য।
জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, ‘অভ্যুত্থানের পরও আমরা কথা বলা থামাইনি। জুলাই সনদ তৈরিতে আমরা গুরুত্বপূর্ণ মতামত দিয়েছি, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠতে না পারে। এখন দায়িত্ব জনগণের। চোর–লুটেরাদের ভোট দিলে তারা আবার ফাঁকফোকর খুঁজবে।’
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের স্বার্থই গণসংহতি আন্দোলনের স্বার্থ। তিনি জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমাদের নেতা–কর্মীরা গত ১৬ বছর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে লড়াই করেছেন, অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁদের ওপর ভরসা রাখুন এবং মাথাল মার্কাকে বিজয়ী করুন।’
জোনায়েদ সাকি বলেন, শেখ হাসিনা গায়ের জোরে তিনটি নির্বাচন করেছিল। এর মাধ্যমেই তারা সারা দেশে সহিংসতার ম্যান্ডেট পেয়েছে। নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যাকে তারা লাশের নদীতে পরিণত করেছে। তিনি বলেন, ‘এই শামীম ওসমান গং ত্বকীকে হত্যা করেছে। সাত খুন করেছে।’
সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন দলের জেলা সমন্বয়কারী তরিকুল সুজন, নির্বাহী সমন্বয়কারী অঞ্জন দাস, মহানগর সমন্বয়কারী বিপ্লব খান, নির্বাহী সমন্বয়কারী পপি রানী সরকার, জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী আলমগীর হোসেন আলম এবং মহানগর কমিটির সদস্য ফারহানা মানিক।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন