[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

পিছিয়ে ছিলেন না স্বতন্ত্র প্রার্থী, ডিজিটাল মাধ্যমে সরব তারা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
প্রচারণায় ব্যস্ত চাকসু নির্বাচনে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) ছাবেকুন নাহার | ছবি: ছাবেকুন নাহারের সৌজন্যে

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ছাবেকুন নাহার চাকসু নির্বাচনে সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) পদে প্রার্থী হয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনে তিনি প্রচারেও সক্রিয় ছিলেন।

ছাবেকুন নাহার বলেন, ‘দীর্ঘ ৩৫ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচন হচ্ছে। ইতিহাসের সাক্ষী হতে নির্বাচনে দাঁড়িয়েছি। সীমিত টিউশনির টাকা ব্যবহার করে প্রচার চালিয়েছি। হয়তো সব শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছাতে পারিনি, তবে চেষ্টা করেছি।’

ছাবেকুনের মতো আরও শতাধিক শিক্ষার্থী স্বতন্ত্রভাবে এবার চাকসু নির্বাচনে লড়ছেন। বড় ছাত্রসংগঠনগুলোর সঙ্গে তারা পাল্লা দিয়ে প্রচার চালাচ্ছেন। কেউ অনলাইন ও ডিজিটাল মাধ্যমকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। লিফলেট না ছাপিয়ে ডিজিটাল লিফলেট পাঠিয়েছেন ই–মেইল ও হোয়াটসঅ্যাপে। ভোটাররা স্বতন্ত্র প্রার্থীদের এমন উদ্ভাবনী প্রচার পছন্দ করছেন। যদিও সাংগঠনিক শক্তি না থাকার কারণে কিছুটা পিছিয়ে ছিলেন স্বতন্ত্ররা, তবু বিভিন্নভাবে শিক্ষার্থীদের কাছে নিজেদের লক্ষ্য পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।

প্রচারের শেষ দিনে কয়েকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ক্যাম্পাসে সরব ছিলেন। তাদের একজন জান্নাতুল ফেরদৌস, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী। তিনি বলেন, ‘২০১৯ সালে ফেসবুকে পেজ খুলে খাবারের ব্যবসা শুরু করি। টিউশনির টাকা ভেঙে নির্বাচনে কিছু খরচ করেছি। প্রচারপত্র বেশি ছাপাইনি, অনলাইনে প্রচার করেছি।’

ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল মামুন সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্রভাবে লড়াই করা বড় চ্যালেঞ্জ। একা ২৮ হাজার শিক্ষার্থীর কাছে পৌঁছানো সহজ নয়। তবে বন্ধু ও পরিবারের সাহায্যে প্রচার চালিয়ে ভালো সাড়া পেয়েছি।’

অর্থনীতি বিভাগের সহসভাপতি (ভিপি) পদপ্রার্থী মো. মাহফুজুর রহমান অনলাইন প্রচারকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে প্রচার কঠিন। বিভিন্ন হলে, কটেজে ও বাসায় প্রচার করেছি। শহরে যেতে চাইলেও একা হওয়ায় সম্ভব হয়নি। বাজেট সীমিত ছিল, তবু সমস্যা হয়নি।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাজ উদ্দিন বিজ্ঞান ও তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক পদে প্রার্থী। তিনি লিফলেট না ছাপিয়ে ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রচার চালিয়েছেন। ট্যাবের মাধ্যমে ডিজিটাল লিফলেট দেখিয়েছেন এবং শিক্ষার্থীদের ই–মেইলে ইশতেহার পাঠিয়েছেন।

৩৫ বছর পর আগামীকাল বুধবার চাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোট দেওয়া যাবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিরাপত্তা ও ভোটপ্রক্রিয়ার ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে।

এবারের নির্বাচনে ৯০৮ জন প্রার্থী হয়েছেন। কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদে ২৬টি পদে লড়ছেন ৪১৫ জন। একই সঙ্গে ১৪টি হল ও একটি হোস্টেলে ৪৯৩ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন