প্রেমের গল্পে ‘বাজি’ ধরলেন হাশিম–ইমন
![]() |
ইমন চৌধুরীর সঙ্গে গীতিকার ও সুরকার হাশিম মাহমুদ | ফেসবুক থেকে |
নতুন গান নিয়ে ফিরল কোক স্টুডিও বাংলা। শনিবার রাতে মুক্তি পেয়েছে নতুন গান ‘বাজি’। এতে ফুটে উঠেছে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সংগীত ঐতিহ্য ও শহুরে লোকসংগীতের মিশ্রণ। সংগীতায়োজনের পাশাপাশি গানটি গেয়েছেন ইমন চৌধুরী, তাঁর সঙ্গে আরও কণ্ঠ দিয়েছেন হাশিম মাহমুদ। গানটি কোক স্টুডিও বাংলার তৃতীয় মৌসুমের চতুর্থ গান।
হাশিম মাহমুদের লেখা ‘বাজি’ গানটিতে ফুটে উঠেছে এক কোমল প্রেমের হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া গল্প। এতে ফুটে উঠেছে বৈচিত্র্যময় লোকজ সংগীত, ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর বাদ্যযন্ত্রের মাধুর্য এবং ভরপুর লোকশিল্প।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, টাঙ্গাইলের ঐতিহ্যবাহী ‘ধুয়া গানের দল’কেও দেখা গেছে গানটিতে। এক শতাব্দীর বেশি সময় ধরে লালন করা সাংস্কৃতিক নিদর্শন বহন করে চলছে তারা। অংশ নিয়েছেন বংশীবাদক কিয়ো উ প্রু মারমা এবং তাঁর দাদি ম্রাকোইচিং মারমা। বান্দরবান পাহাড়ের বাসিন্দা ম্রাকোইচিং গানটিতে কণ্ঠ দিয়েছেন মারমা ভাষায়। বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে থাকা পূর্বপুরুষের গানে প্রাণ সঞ্চার করে সংস্কৃতি সংরক্ষণে তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন তিনি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, পার্বত্য চট্টগ্রামের বম ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীরাও তাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে তুলে ধরেছে এই গানে। ধ্রুপদি নৃত্য পরিবেশনা করেছে তারা। মনোমুগ্ধকর নৃত্য এবং জটিল ছন্দময় পায়ের কাজের জন্য বিশিষ্ট নৃত্যশিল্পীরা বাঁশের লাঠি ব্যবহার করে বিশেষ ভঙ্গিমায় নেচে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছেন গানে। গানটিতে মণিপুরী সম্প্রদায়ের পুং ড্রামাররা অসাধারণ অ্যাক্রোবেটিকস পরিবেশন করেছেন, যা গানের গল্পকে করেছে ছন্দময় ও গতিশীল। তাঁদের অবদান কেবল ‘বাজি’র শিকড় প্রশস্ত করেনি; বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রাণবন্ত, বৈচিত্র্যময় ও ক্রমবর্ধমান পালে হাওয়া দিয়েছে।
গানটি নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে ইমন চৌধুরী বলেন, ‘কোক স্টুডিও বাংলার ফিরে আসাটা সত্যিই আনন্দের। সেই সঙ্গে আমরা দারুণ উচ্ছ্বসিত আমাদের শ্রোতাদের জন্য “বাজি” গানটি নিয়ে আসতে পেরে। গানটি আমাদের কাছে খুবই বিশেষ, কারণ এতে শিল্পীরা তাঁদের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছেন।
গানটির কথা, সুর, নাচ, ভিজ্যুয়াল—সবকিছু মিলিয়ে এটি এমন এক সুরেলা সমন্বয়, যেখানে একসঙ্গে ধরা পড়েছে বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি।’
কোক স্টুডিও বাংলার অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেল ছাড়াও গানটি শোনা যাচ্ছে স্পটিফাইয়ে। ইউটিউবে ৩৩ মিনিটে গানটি শোনা হয়েছে সাড়ে তিন হাজারবারের বেশি।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন