{getBlock} $results={3} $label={ছবি} $type={headermagazine}

নিয়োগে সুপারিশকারীদের তালিকা প্রকাশ সমীচীন নয়: রাবি প্রশাসন

প্রকাশঃ
অ+ অ-

প্রতিনিধি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় | ফাইল ছবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষক নিয়োগে এক প্রার্থীর জন্য জামায়াতে ইসলামীর সাবেক এক সংসদ সদস্যের (এমপি) সুপারিশ করার বিষয়টি সামনে আসার পর অনেক শিক্ষার্থী ও ছাত্রনেতারা নিয়োগে সব সুপারিশকারীদের তালিকা প্রকাশের দাবি জানান। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, এ রকম শত শত সুপারিশ প্রতিনিয়ত আসে। তবে সুপারিশকারীদের তালিকা প্রকাশ করা সমীচীন হবে না। যেখানে যোগ্যতার প্রশ্ন, সেখানে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে এসব সুপারিশ আমলে নেওয়া হয় না।

শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদ খান খানের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে একটি স্টোরির মাধ্যমে সুপারিশের বিষয়টি সামনে আসে। মুহূর্তেই তা ছড়িয়ে পড়ে। স্টোরিতে দেখা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের প্রভাষক পদে জন্য আজমীরা আরেফিন নামের একজন প্রার্থীর প্রবেশপত্রে চাঁপাইনবাবগঞ্জে জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য মো. লতিফুর রহমানের সুপারিশ। আগামীকাল সোমবার উপাচার্যের বাসভবনের দপ্তরে মৌখিক পরীক্ষা হবে।

এরপর স্টোরিটিকে ঘিরে দেশব্যাপী ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। নিয়োগ নিয়ে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ তোলেন অনেকে। সেই সঙ্গে অনেক শিক্ষার্থীরা সুপারিশকারীদের তালিকা প্রকাশের দাবি জানান। যেন ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের সুপারিশ করার সাহস না পায়।

লতিফুর রহমান চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর-৩ আসন থেকে দুইবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৮২ সালে ইতিহাস বিভাগ থেকে এমএ পাস করেন। তিনি ছাত্রজীবনে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের পরপর দুইবারের সভাপতি ছিলেন। পরে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের নির্বাহী সদস্য হিসেবে সম্প্রতি নির্বাচিত হয়েছেন।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সমন্বয়ক গোলাম কিবরিয়া মো. মেশকাত চৌধুরী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘সুপারিশে আসা বাকি সব প্রবেশপত্র পোস্ট করার দাবি জানাচ্ছি। আমরা জানতে চাই কারা এইটারে বিশ্ববিদ্যালয় না ভাইভা দলীয় গোয়ালঘর বানাতে চায়।’

সুপারিশকারীদের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সালেহ্ হাসান নকীব বলেন, ‘শত শত, হাজার হাজার মানুষ এ রকম বিরক্তিকর কাজগুলো করে। এটাই বাংলাদেশের কালচার এবং সেই কালচার এখনো চর্চা করছে। আমরা যতই অপছন্দ করি না কেন মানুষ তো থামে না। এ রকম সুপারিশকে আমরা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে কখনো আমলে নেই না। যেখানে যোগ্যতার প্রশ্ন সেখানে যোগ্যতা, সে ক্ষেত্রে সুপারিশ করলেই কী বা না করলেই কী।’

সুপারিশকারীদের তালিকা প্রকাশ করা সমীচীন হবে না বলে উল্লেখ করে সহ-উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন খান  বলেন, ‘আমাদের পরিচিত অনেকেই সুপারিশ করে। এখন তাঁদের নাম প্রকাশ করলে তাদের ব্যক্তিজীবনে বিষয়টি প্রভাব ফেলবে। এ জন্য আমার মনে হয়, সুপারিশকারীদের তালিকা প্রকাশ করা সমীচীন হবে না। তবে এসব সুপারিশ কোনো কাজে আসে না।’

এদিকে সাবেক সংসদ সদস্যের সুপারিশ ফেসবুকে প্রকাশিত হওয়ায় তাঁর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে বক্তব্য দিয়েছেন সহ-উপাচার্য ফরিদ উদ্দিন খান। রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।

ফরিদ উদ্দিন খান বলেন, ‘কেউ যদি কারও সম্পর্কে ভালো বলে সেটি দোষের বা পাপের কিছু নয়। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টা এমনভাবে প্রচার করা হচ্ছে, আমরা যেন বিশাল পাপ করে ফেলেছি। আমি খুবই দুঃখিত যে উনার (এমপি) কোনো দোষ নেই। আমার অসাবধানতার কারণে উনার নামটা চলে এসেছে।’

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন