চট্টগ্রাম বন্দরে পড়ে আছে ‘বিপজ্জনক’ তিন শতাধিক কনটেইনার
![]() |
| এসব কনটেইনারে রয়েছে রাসায়নিক ও তেজস্ক্রিয়তার মতো বিপজ্জনক পণ্য | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
চট্টগ্রাম বন্দরের শেড ও ইয়ার্ডে বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছে ঝুঁকিপূর্ণ তিন শতাধিক কনটেইনার। এর মধ্যে কিছু কনটেইনারে দাহ্য রাসায়নিক মজুত রয়েছে, আবার কয়েকটিতে শনাক্ত হয়েছে তেজস্ক্রিয় উপাদান। দীর্ঘদিন ধরে খালাস না হওয়া এসব মালামাল কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিলামে তুলতে পারেনি, আবার ধ্বংস করার ব্যবস্থাও নেয়া যায়নি। সংশ্লিষ্টদের শঙ্কা, যে কোনো মুহূর্তে এগুলো ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
২০২০ সালের ৪ আগস্ট লেবাননের বৈরুত বন্দরে ভয়াবহ বিস্ফোরণ হয়েছিল রাসায়নিক পদার্থ থেকে। ২০২২ সালের ৪ জুন রাতে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোতে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড বিস্ফোরণে প্রাণ হারান ৫১ জন। ওই ঘটনার পর বন্দর কর্তৃপক্ষ বিপজ্জনক কনটেইনার সরানোর উদ্যোগ নেয়। কিছু রাসায়নিক ধ্বংস করা হয়, কিছু নিলামে বিক্রি হয়। তবে জটিলতায় আটকে থাকা বহু কনটেইনার থেকে যায়, পরের বছরগুলোতে আরও যুক্ত হয়।
চলতি মাসের ৬ আগস্ট ব্রাজিল থেকে আসা একটি স্ক্র্যাপ লোহার কনটেইনারে তেজস্ক্রিয়তার উপস্থিতি ধরা পড়ে। বন্দরের ‘মেগাপোর্ট ইনিশিয়েটিভ রেডিয়েশন ডিটেকশন সিস্টেমে’ পরীক্ষা করে কনটেইনারে থোরিয়াম–২৩২, রেডিয়াম–২২৬ ও ইরিডিয়াম–১৯২ আইসোটোপ শনাক্ত হয়। কাস্টমস কর্তৃপক্ষ কনটেইনারটির খালাস স্থগিত করে আলাদা স্থানে রেখেছে। এ নিয়ে বন্দরে তেজস্ক্রিয়তার উপস্থিতি পাওয়া কনটেইনারের সংখ্যা দাঁড়াল ১৩টিতে।
কাস্টমস নথি অনুযায়ী, ঢাকার ডেমরার আল আকসা স্টিল মিলস লিমিটেড ব্রাজিল থেকে পাঁচ কনটেইনারে ১৩৫ টন স্ক্র্যাপ আমদানি করেছিল। এর মধ্যে একটিতে তেজস্ক্রিয়তা শনাক্ত হয়।
বন্দর সূত্রে জানা যায়, বন্দরে বর্তমানে অন্তত ৩৫০টি কনটেইনারে রাসায়নিক পদার্থ মজুত রয়েছে। এর মধ্যে অনেক কনটেইনার ১০ থেকে ১৫ বছরের পুরোনো। এসব কনটেইনারে হাইড্রোজেন পার-অক্সাইড, সালফিউরিক অ্যাসিড, নাইট্রিক অ্যাসিড, মিথানল, থিনার, ফায়ার এক্সটিংগুইশার, ক্যালসিয়াম অক্সাইড, সোডিয়াম সালফেট, রং ও টেক্সটাইলের কাঁচামাল, এমনকি ফার্মাসিউটিক্যালস শিল্পের কাঁচামালও আছে। যেগুলোর অনেকই দাহ্য বা বিস্ফোরকজাতীয় পদার্থ।
বন্দরে এর আগে ছোটখাটো দুর্ঘটনাও ঘটেছে। ২০২২ সালের ১৩ মে ব্যাটারি ও ইলেকট্রনিক পণ্যবাহী একটি কনটেইনারে অগ্নিকাণ্ড হয়। ২০১৫ সালের ২২ এপ্রিল নিউমুরিং টার্মিনালে মিথানলভর্তি ড্রাম খালাসের সময় বিস্ফোরণে আহত হন চার শ্রমিক। ওই বছরই নাইট্রিক অ্যাসিডভর্তি কনটেইনার থেকে ধোঁয়া বের হয়ে আতঙ্ক তৈরি করে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক বলেন, 'বন্দরে বর্তমানে ১৩টি তেজস্ক্রিয় কনটেইনার ও প্রায় সাড়ে তিন শ’ রাসায়নিকভর্তি কনটেইনার আছে। এগুলো দ্রুত খালাসের জন্য কাস্টমসকে একাধিকবার চিঠি দেওয়া হয়েছে।'
চট্টগ্রাম কাস্টমসের সহকারী কমিশনার মো. সাকিব হোসেন জানান, 'সম্প্রতি ৪২টি পুরোনো কনটেইনার খালি করা হয়েছে। এ মাসে আরও ৫০টি খালি করার উদ্যোগ আছে। “দীর্ঘদিন ধরে রাখা এসব কনটেইনার সত্যিই ঝুঁকিপূর্ণ,' বলেন তিনি।
কাস্টমসের যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ মারুফুর রহমান বলেন, 'তেজস্ক্রিয় কনটেইনার আলাদা স্থানে রাখা হয়েছে। বিষয়টি পরমাণু শক্তি কমিশনকে জানানো হয়েছে। তাঁদের পরীক্ষার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

Comments
Comments