তিন দাবিতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধ
অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ তিন দফা দাবিতে দেওয়া ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম শেষ হলেও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) কোনো সাড়া না দেওয়ায় আবার বরিশাল–কুয়াকাটা মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবার বেলা তিনটা থেকে বিকেল চারটা পর্যন্ত এক ঘণ্টা ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকসংলগ্ন বরিশাল–পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করেন তাঁরা। এতে মহাসড়কের দুই প্রান্তে অসংখ্য যানবাহন আটকা পড়ে ভোগান্তিতে পড়েন হাজারো যাত্রী।
গতকাল রোববার একই স্থানে এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধের পর সংবাদ সম্মেলন করে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছিলেন শিক্ষার্থীরা। আন্দোলনকারীরা জানান, নির্ধারিত সময়ে ইউজিসি কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি। তাই বাধ্য হয়েই আবারও রাজপথে নামতে হয়েছে তাঁদের। তিন দফা দাবি হলো অবকাঠামোগত উন্নয়ন, বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তন বৃদ্ধি ও নিরাপদ পরিবহনব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী শওকাত ওসমান বলেন, ‘১৪ বছরেও শ্রেণিকক্ষের সংকট কাটেনি। সাতটি অনুষদের ২৫টি বিভাগের প্রায় ১০ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য প্রয়োজন অন্তত ৭৫টি কক্ষ। এর মধ্যে রয়েছে মাত্র ৩৬টি। অনেক সময় খোলা মাঠে ক্লাস নিতে হয়। আবাসন, শিক্ষক, পরিবহন ও গ্রন্থাগারেও তীব্র সংকট রয়েছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ফিটনেসবিহীন গাড়িতে আসা–যাওয়া করতে হয় শিক্ষার্থীদের।’
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর রাহাত হোসাইন বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবি যৌক্তিক। এরই মধ্যে অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য ৩ কোটি ৯ লাখ টাকার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের (ফিজিবিলিটি স্টাডি) কাজ শুরু হচ্ছে। জমি অধিগ্রহণেও জেলা প্রশাসক ইতিবাচক ভূমিকা রাখছেন। আর পরিবহন–সংকট সমাধানে নতুন অর্থবছরে গাড়ি কেনা হবে।
শিক্ষার্থীদের মহাসড়ক অবরোধের কারণে তীব্র ভোগান্তি দেখা দেয়। বরগুনাগামী একটি বাসের যাত্রী মো. আবদুল্লাহ বলেন, ‘বরিশাল থেকে বাসে উঠে আটকে পড়েছি। এক ঘণ্টা ভোগান্তি পোহাতে হলো। এভাবে একটি গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়ক কথায় কথায় অবরোধে আন্দোলন করে হাজার হাজার যাত্রীকে ভোগান্তিতে ফেলার কী যুক্তি থাকতে পারে?’
বরিশাল বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম বিকেল সাড়ে চারটার দিকে জানান, শিক্ষার্থীরা এক ঘণ্টা মহাসড়ক অবরোধ করেন। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
এর আগে ২৯ জুলাই বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অবকাঠামোগত উন্নয়নের দাবিতে গণস্বাক্ষর কর্মসূচি ও মানববন্ধন করেছিলেন। কিন্তু তাতে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয়ের মাত্র দুটি একাডেমিক ভবন, সীমিত ল্যাবরেটরি ও অপ্রতুল শ্রেণিকক্ষের কারণে শিক্ষার্থীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন