{getBlock} $results={3} $label={ছবি} $type={headermagazine}

বিপুল ভর্তুকির মধ্যেও সরকারি বিদ্যুৎ কোম্পানির মুনাফা ভাগাভাগি

প্রকাশঃ
অ+ অ-

বিদ্যুৎ | প্রতীকী ছবি

বছরের পর বছর লোকসান করছে বিদ্যুৎ উৎপাদন খাত। প্রতিবছর এ খাতে সরকারের ভর্তুকি বাড়ছে। সর্বোচ্চ ৬২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি গেছে গত অর্থবছরে। এর মধ্যেও নিয়মিত মুনাফা করছে সরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিগুলো।

সরকার একে বলছে, ‘কৃত্রিম মুনাফা’। এটি বন্ধে গত সেপ্টেম্বরে বিদ্যুৎ বিভাগ নির্দেশনা দেয়। কিন্তু তারপরও মুনাফা ভাগাভাগি করে নিয়েছেন কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

চুক্তি অনুসারে, সরকারি-বেসরকারি সব বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত বিদ্যুৎ কিনে নেয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। এরপর তারা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) নির্ধারিত দামে ছয়টি বিতরণ সংস্থার কাছে তা বিক্রি করে।

প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ কিনতে পিডিবির খরচ হয় গড়ে ১১ টাকার বেশি। আর পিডিবি প্রতি ইউনিট বিক্রি করে ৭ টাকা ৪ পয়সায়। এ কারণে লোকসান গুনতে হয় পিডিবির, যা তারা ভর্তুকি হিসেবে সরকারের কাছ থেকে নেয়।

বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে ৬টি, বিতরণ খাতে ৬টি ও সঞ্চালন খাতে ১টি সরকারি কোম্পানি আছে। এসব কোম্পানির বেতনকাঠামো সরকারি বেতন স্কেলের চেয়ে অনেক বেশি। কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ভবিষ্য তহবিল/প্রভিডেন্ট ফান্ড, গ্র্যাচুইটি, বার্ষিক ছুটি, গ্রুপ ইনস্যুরেন্স, বার্ষিক বেতন বৃদ্ধিসহ নানা সুবিধা পান। এর বাইরে তাঁরা প্রতিবছর কোম্পানির মুনাফা ভাগাভাগি করেন, যা ‘প্রফিট বোনাস’ হিসেবে পরিচিত।

পর্যালোচনার আগপর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতের সরকারি কোম্পানিগুলোকে মুনাফা ভাগাভাগি বন্ধ রাখতে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর নির্দেশনা দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর সব কোম্পানিকে একটি চিঠি পাঠিয়ে উপদেষ্টার নির্দেশনা মানতে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ।

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, কোম্পানিগুলোর বিদ্যুৎকেন্দ্রের মুনাফা আসলে জনবলের দক্ষতা বা বিদ্যুৎ উৎপাদনের ওপর নির্ভর করে না। সারা বছর কোনো বিদ্যুৎ উৎপাদন না করেও বিদ্যুৎকেন্দ্র মুনাফা করতে পারে। এভাবেই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি করে পিডিবি। চুক্তিতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ভাড়া (ক্যাপাসিটি চার্জ) নির্ধারণ করা থাকে। ফলে কেন্দ্র বিদ্যুৎ উৎপাদন করুক আর না–করুক, ভাড়া পরিশোধ করে পিডিবি। তাই এমন ‘প্রফিট বোনাস’ রাখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। কোম্পানি আইনে নিবন্ধিত হলেও এই কোম্পানিগুলো সরকারের ভর্তুকির প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ গ্রহীতা বা উপকারভোগী। বিদ্যুৎ খাতে সরকারি ভর্তুকি বাদ দিলে এসব কোম্পানি কখনোই লাভজনক থাকে না। তাই এসব কোম্পানিকে লাভজনক দেখিয়ে মুনাফা ভাগাভাগি বাস্তবতা পরিপন্থী। কোম্পানির নিট আয়ের সঙ্গে ভর্তুকির টাকা সমন্বয় করে প্রতিষ্ঠানের লাভ-ক্ষতি হিসাব করা উচিত।

শ্রম আইন অনুসারে কোম্পানিগুলোর মুনাফার ৫ শতাংশ জমা হয় ওয়ার্কার্স প্রফিট পার্টিসিপেশন ফান্ডে (ডব্লিউপিপিএফ)। এই ফান্ড থেকে অংশগ্রহণ তহবিলে ৮০ শতাংশ জমা হয়। আর কল্যাণ তহবিল ও শ্রমিক কল্যাণ ফাউন্ডেশন তহবিলে জমা হয় ১০ শতাংশ করে। অংশগ্রহণ তহবিলের তিন ভাগের দুই ভাগ প্রতিবছর সমহারে ভাগাভাগি করে নেন কোম্পানির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আরেক ভাগ তাঁদের অবসর তহবিলে জমা হয়। প্রতি অর্থবছরের ৯ মাসের মধ্যে আগের অর্থবছরের মুনাফা ভাগাভাগি করার বিধান আছে শ্রম আইনে। এতে কোম্পানির প্রত্যেক কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিবছর গড়ে কয়েক লাখ টাকা করে পান।

মুনাফা ভাগাভাগি
বিদ্যুৎ খাতের খরচের ঘাটতি মেটাতে বিগত সরকার দেড় দশকে পাইকারি পর্যায়ে ১২ বার, খুচরা পর্যায়ে ১৪ বার বিদ্যুতের দাম বাড়ায়। এরপরও প্রতিবছর বেড়েছে বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি।

২০২৩-২৪ অর্থবছরের হিসাব আগেই চূড়ান্ত করা ছিল। তাই ডব্লিউপিপিএফ থেকে মুনাফা বিতরণ করেছে কোম্পানিগুলো। তবে এরপর আর তা বিতরণ করা হবে না। মুনাফা ভাগাভাগি পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।
মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা

গত অর্থবছরে ৬২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়া হয়েছে। এই ভর্তুকি আসলে দিতে হয় বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে চড়া খরচের দায় মেটাতে।

বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতে সরকারের মালিকানাধীন কোম্পানি আছে ছয়টি। পিডিবি বিদ্যুৎ কিনে লোকসান করলেও এই কোম্পানিগুলো প্রতিবছর মুনাফা করছে।

পর্যালোচনার আগপর্যন্ত বিদ্যুৎ খাতের সরকারি কোম্পানিগুলোকে মুনাফা ভাগাভাগি বন্ধ রাখতে গত বছরের ১২ সেপ্টেম্বর নির্দেশনা দেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা। এর পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৪ সেপ্টেম্বর সব কোম্পানিকে একটি চিঠি পাঠিয়ে উপদেষ্টার নির্দেশনা মানতে বলে বিদ্যুৎ বিভাগ।

বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিগুলোর মুনাফা ভাগাভাগি নিয়ে বিদ্যুৎ বিভাগ গত ১৬ এপ্রিল একটি সভা করে। সভার পর পিডিবিকে পাঠানো বিদ্যুৎ বিভাগের এক চিঠিতে বলা হয়, বিদ্যুৎ খাতের কোম্পানিগুলো কৃত্রিম মুনাফা প্রদর্শন করে। এর কারণ হলো, সরকার থেকে দেওয়া ভর্তুকি কোম্পানিগুলোর দায় হিসেবে বিতরণ হচ্ছে না। তাই ভর্তুকি বিতরণের একটি সূত্র ঠিক করে দেওয়া হয় চিঠিতে। নির্ধারিত সূত্র অনুসারে কোম্পানিগুলোকে আয়-ব্যয় হিসাব করতে হবে। একই সঙ্গে সব বিদ্যুৎ কোম্পানিকে এই নির্দেশনা মানতে বলা হয়।

তবে গত মার্চের শেষ দিকে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মুনাফা ভাগাভাগি করে সরকারি মালিকানাধীন ইলেক্ট্রিসিটি জেনারেশন কোম্পানি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ইজিসিবি)। (এরপর) ধাপে ধাপে মে মাসের মধ্যে একই অর্থবছরের মুনাফা ভাগ করে নেয় সরকারি মালিকানাধীন অপর চার কোম্পানি। এগুলো হলো আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড (এপিএসসিএল), নর্থ-ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি লিমিটেড (নওপাজেকো), রুরাল পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (আরপিসিএল) ও বি-আর পাওয়ারজেন লিমিটেড (বিআরপিএল)।

বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিগুলোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, শ্রম আইন মানার আইনগত বাধ্যবাধকতা আছে। তাই তাঁরা আইনগত ঝামেলা এড়াতে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে মৌখিকভাবে আলোচনা করে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মুনাফা ভাগাভাগি করেছেন।

অপর কোম্পানি কোল পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেড (সিপিজিসিবিএল) এখনো মুনাফায় আসেনি। কারণ, কোম্পানিটির বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তি প্রক্রিয়াধীন।

গত অর্থবছরের (২০২৪-২৫) হিসাব এখনো চূড়ান্ত হয়নি। কোম্পানিগুলোর বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৭-১৮ অর্থবছর থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবছর পর্যন্ত ডব্লিউপিপিএফে ২১৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা জমা করে নওপাজেকো। এর মধ্যে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুনাফা দিয়েছে প্রায় ৩৭ কোটি টাকা। একই অর্থবছরে ইজিসিবি মুনাফা দিয়েছে ১৬ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, আগের বছর তা ছিল ১৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা। এপিএসসিএল দিয়েছে ২৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা, আগের বছরে ১৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। আরপিসিএল দিয়েছে ৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা, আগের বছর তা ছিল ২ কোটি ২৭ লাখ টাকা। বিআরপিএল দিয়েছে ৫ কোটি ৬২ লাখ টাকা, আগের বছর তা ছিল ২ কোটি ৯ লাখ টাকা।

বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানিগুলোর দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন, শ্রম আইন মানার আইনগত বাধ্যবাধকতা আছে। তাই তাঁরা আইনগত ঝামেলা এড়াতে বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গে মৌখিকভাবে আলোচনা করে ২০২৩-২৪ অর্থবছরের মুনাফা ভাগাভাগি করেছেন।

চাপে যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানি

২০১৯-২০ অর্থবছরের শেষ দিকে চালুর পর দুই মাস উৎপাদন করেছিল পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র। এই অর্থবছরের মুনাফা ভাগাভাগি করা হয়। এর পর থেকে এই যৌথ মালিকানাধীন বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিপিসিএল) মুনাফা ভাগাভাগি বন্ধ আছে।

কোম্পানি যদি মুনাফার ভাগ নেয়, তবে লোকসানের দায়ও নেওয়ার কথা। তাহলে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে কেন? টানা লোকসানের মধ্যে বিপুল ভর্তুকি নিয়ে মুনাফা ভাগাভাগি হয় কীভাবে? এটা মুনাফার নামে লুণ্ঠন। লোকসানের মধ্যে মুনাফার এমন নজির বিশ্বে কোথাও নেই।

—এম শামসুল আলম, কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা

 
তবে মুনাফা ভাগাভাগি করতে চাপ দিচ্ছেন বিসিপিসিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কিন্তু মুনাফার ভাগ দিতে রাজি নয় কোম্পানির ৫০ শতাংশ মালিকানায় থাকা চীনের কোম্পানি সিএমসি। তারা এ নিয়ে আনুষ্ঠানিক আপত্তি জানিয়েছে। তারা বলেছে, পায়রা নির্মিত হয়েছে চীনের এক্সিম ব্যাংকের ঋণসহায়তায়। সাড়ে ১১ বছরের মধ্যে তা শোধ করতে হবে। ঋণ পরিশোধের আগে মুনাফা বণ্টনের সুযোগ নেই।
 
বিসিপিসিএল সূত্র বলছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে তারা মুনাফা করে প্রায় ১২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ডব্লিউপিপিএফে গেছে ৬ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। এরপর প্রতিবছর মুনাফা বেড়েছে কোম্পানিটির। এখন ডব্লিউপিপিএফ চালু হলে ২০২০-২১ থেকে ২০২৩-২৪ পর্যন্ত চার বছরের মুনাফার টাকা দিতে হবে। এতে কোম্পানির পরিশোধ করতে হবে প্রায় ২১১ কোটি টাকা। এ চার বছরে তারা মুনাফা করেছে ৪ হাজার ২১৬ কোটি টাকা। ২০২৪ সালের আগস্টে সরকার পরিবর্তনের পর মুনাফা ভাগাভাগি বন্ধে উচ্চ আদালতে একটি রিট করে বিসিপিসিএল। রিটটি বাতিলের আবেদন করেন কোম্পানির ৫৫ জন কর্মচারী। এটি এখনো আদালতে বিচারাধীন। এর বাইরে বিসিপিসিএলের কর্মচারীদের একটি রিট আছে আদালতে। 

মুনাফা ভাগাভাগি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে দুই অংশীদারের মতামত চায় বাগেরহাটের রামপাল তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের যৌথ মালিকানাধীন কোম্পানি বাংলাদেশ ইন্ডিয়া ফ্রেন্ডশিপ পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিআইএফপিসিএল)। বাংলাদেশি অংশের মালিকানায় থাকা পিডিবি গত ১৭ জুলাই বিআইএফপিসিএলে পাঠানো চিঠিতে বলেছে, সরকারের নির্দেশনা অনুসারে মুনাফা ভাগাভাগি বন্ধ রাখতে হবে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, ২০২৩-২৪ অর্থবছরের হিসাব আগেই চূড়ান্ত করা ছিল। তাই ডব্লিউপিপিএফ থেকে মুনাফা বিতরণ করেছে কোম্পানিগুলো। তবে এরপর আর তা বিতরণ করা হবে না। মুনাফা ভাগাভাগি পুরোপুরি বন্ধ থাকবে।

‘মুনাফার নামে লুণ্ঠন’

বিদ্যুৎ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মুনাফা নয়, লোকসান নয়—এটাই সরকারি প্রতিষ্ঠানের নীতি। তাই সরকারি কোম্পানির মুনাফা করার কথা নয়। সরকারি কোম্পানি সেবার জন্য তৈরি, অথচ তারা মুনাফা করছে। আবার শ্রম আইনের দোহাই দিয়ে সেই মুনাফা ভাগ করে নিচ্ছে। বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোতে বেতন সরকারি বেতন স্কেলের চেয়ে দেড় গুণ বেশি। এরপরও মুনাফার নামে শত শত কোটি টাকা নিয়ে যাচ্ছেন কোম্পানিগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আর তার দায় চাপছে জনগণের ওপর। একইভাবে ভর্তুকির মধ্যে মুনাফা নিচ্ছে গ্যাস খাতের কোম্পানিগুলো। তাই সরকারকে প্রয়োজনে আইন সংশোধন করতে হবে। সরকারি কোম্পানিতে ডব্লিউপিপিএফ রাখার বিধান বাদ দিতে হবে।

ভোক্তা অধিকার সংগঠন কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, ‘তাঁরা (কোম্পানির কর্মচারী) কেউ শ্রমিক নন, তাঁরা সরকারি কর্মচারী। অথচ শ্রম আইনের দোহাই দিয়ে তাঁরা মুনাফার ভাগ নেন। এটা মগের মুল্লুক। আর কোম্পানি যদি মুনাফার ভাগ নেয়, তবে লোকসানের দায়ও নেওয়ার কথা। তাহলে ভর্তুকি দেওয়া হচ্ছে কেন? টানা লোকসানের মধ্যে বিপুল ভর্তুকি নিয়ে মুনাফা ভাগাভাগি হয় কীভাবে? এটা মুনাফার নামে লুণ্ঠন। লোকসানের মধ্যে মুনাফার এমন নজির বিশ্বে কোথাও নেই।’

একটি মন্তব্য করুন

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন