[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে শিশুদের যোগ্য করে গড়ে তুলতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশঃ
অ+ অ-

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার গাজীপুরে জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৩২তম এশিয়া-প্যাসিফিক এবং ১১তম জাতীয় স্কাউট জাম্বুরির সমাপনী অনুষ্ঠানে পুরস্কারপ্রাপ্ত স্কাউটদের ব্যাজ ও সনদপত্র প্রদান করেন | ছবি: ফোকাস বাংলা

প্রতিনিধি গাজীপুর: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রতিটি শিক্ষার্থীকে সম্পৃক্ত করার মাধ্যমে স্কাউট আন্দোলন জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। সরকারপ্রধান বলেছেন, ২০৪১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি উন্নত, সমৃদ্ধ ও স্মার্ট দেশের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য শিশুদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।

বুধবার গাজীপুরের মৌচাকের জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৩২তম এশিয়া-প্যাসিফিক এবং ১১তম জাতীয় স্কাউট জাম্বুরির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

প্রতিটি শিশুকে দেশের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘স্কাউটদের নৈতিক ও জীবনমুখী শিক্ষা দিয়ে, সেবা দেয়ার মানসিকতা সম্পন্ন করে দেশপ্রেমিক ও সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।’

‘আমি চাই আমাদের দেশটা আরও চমৎকারভাবে গড়ে উঠুক, যেখানে মাদক, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের কোনো স্থান হবে না। দেশ সাম্প্রদায়িকতা ও সন্ত্রাসমুক্ত থাকবে। কাজেই বাংলাদেশে যে শিশুরা বড় হবে তারা উদার মন নিয়ে বড় হবে, দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে এবং দেশকে সুন্দরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য তারা কাজ করবে।’

স্কাউটিং নতুন প্রজন্মকে নৈতিক ও জীবনধর্মী প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এর মাধ্যমে তরুণদের মাঝে আধুনিক, প্রগতিশীল ও সৃজনশীল গুণাবলী বিকশিত হয়। ফলে স্কাউট সদস্যরা সেবার মন্ত্রে দীক্ষিত হচ্ছে এবং সচেতন দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে নিজেদের গড়ে তুলছে। পরোপকারী হিসেবে সমাজসেবার ক্ষেত্রে বিশেষ অবদান ও প্রশংসনীয় ভূমিকা রেখে যাচ্ছে। নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা কোভিডকালে স্কাউট সদস্যদের সেই আন্তরিকতা আমরা দেখতে পেয়েছি। কাজেই আমি চাই আমাদের দেশে এই স্কাউট আন্দোলন আরও ব্যাপকভাবে গড়ে উঠুক।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বুধবার গাজীপুরে জাতীয় স্কাউট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ৩২তম এশিয়া-প্যাসিফিক এবং ১১তম জাতীয় স্কাউট জাম্বুরির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির ভাষণ দেন | ছবি: ফোকাস বাংলা

শেখ হাসিনা উল্লেখ করেন, তিনি যখনই শিশুদের মাঝে আসেন তখন তার ১০ বছরের ছোট ভাই শেখ রাসেলকে খুঁজে পান। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাবা, মা, ভাইদের, ভ্রাতৃবধূদের সঙ্গে ঘাতকরা সেদিন তাকেও রেহাই দেয়নি।’

সেই প্রেক্ষাপট স্মরণ করে সরকারপ্রধান বলেন, ‘আমি চাই আমাদের দেশের শিশু-কিশোরদের জীবন নিরাপদ হোক, সুন্দর হোক, অর্থবহ হোক। কারণ, আজকের শিশু-কিশোররাই আগামীর বাংলাদেশের কর্ণধার হবে। আমাদের সব শিশু সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠুক আমি তা-ই চাই।’

দেশে স্কাউট আন্দোলন জোরদার করতে সরকারের উদ্যোগের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার প্রতিটি উপজেলা ও জেলায় স্কাউট ভবন ও প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নির্মাণ করবে।’

বিশ্ব স্কাউটস জাম্বুরি ভবিষ্যতে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী এ লক্ষ্যে প্রস্তুতি নিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংঘাত, ক্ষমতা দখল, আগুন সন্ত্রাসসহ সব বাধা পেছনে ফেলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে। আমাদের প্রচেষ্টা হচ্ছে ক্ষুধামুক্ত, দারিদ্র্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্কার্ফ, ব্যাজ ও ক্যাপ পরিয়ে দেন স্কাউটরা | ছবি: ফোকাস বাংলা

অনেক ঘাত-প্রতিঘাত পেরিয়ে সরকার বাংলাদেশকে আজকের অবস্থানে নিয়ে এসেছে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘যে বাংলাদেশ ২০২২ সালে আমরা দেখেছি এই বাংলাদেশ কিন্তু এমন ছিল না। প্রতিনিয়ত সংঘাত, খুনোখুনি, অগ্নিসন্ত্রাস, দুর্নীতি, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পালা, নির্বাচন নিয়ে খেলা-নানা ধরনের ঘাত-প্রতিঘাত আমাদের অতিক্রম করতে হয়েছে। তবে, ২০০৯ সালে সরকারে আসার পর টানা তিন মেয়াদে ক্ষমতায় থাকতে পারায় বাংলাদেশকে আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারছি।’

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী কাব স্কাউটসদের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি ‘শাপলা কাব অ্যাওয়ার্ড’ বিতরণ করেন এবং তার স্বাক্ষরিত সনদপত্র ১২ জনের হাতে তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ স্কাউটসের সভাপতি মো. আবুল কালাম আজাদ এবং জাম্বুরি আয়োজক কমিটির সভাপতি ও বাংলাদেশ স্কাউটসের প্রধান জাতীয় কমিশনার ড. মো. মোজাম্মেল হক খান।

প্রধানমন্ত্রী আঞ্চলিক ও জাতীয় স্কাউটদের জাম্বুরি চিহ্নিত করে একটি স্মারক ডাক টিকিট ও অবমুক্ত করেন।

এ সময় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান ও ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হারুনুর রশীদ উপস্থিত ছিলেন।

নয় দিনব্যাপী জাম্বুরিতে ভারত, নেপাল, মালদ্বীপ, ফিলিপাইন, স্কাউট চায়না (তাইওয়ান), থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং কানাডা থেকে ৮ হাজার স্কাউট, ১ হাজার ইউনিট নেতা এবং আন্তর্জাতিক পরিসেবা দলের সদস্যসহ মোট ১১ হাজার জন অংশ নেন।

পরে স্কাউটদের পরিবেশনায় বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন প্রধানমন্ত্রী।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন