পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা আবারও পরিচালনা কমিটির হাতে

অন্যদিকে, নিবন্ধন সনদধারীদের মধ্য থেকে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদ লিখিত, মৌখিক বা নির্ধারিত বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেবে।

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
এনটিআরসিএ
এনটিআরসিএ

এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজে শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থায় বড় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। দীর্ঘ এক দশক ধরে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। বিদ্যমান ব্যবস্থা বাতিল করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদের হাতে নিয়োগের ক্ষমতা ফিরিয়ে দেওয়ার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ২০১৫ সালের পর চালু হওয়া কেন্দ্রীয় সুপারিশভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। এনটিআরসিএ আগের মতো শুধু শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা নেওয়া ও নিবন্ধন সনদ দেওয়ার দায়িত্ব পালন করবে। অন্যদিকে, নিবন্ধন সনদধারীদের মধ্য থেকে নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদ লিখিত, মৌখিক বা নির্ধারিত বাছাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেবে।


তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের খবর জানাজানি হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট মহলে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। শিক্ষাবিদ, শিক্ষক সংগঠন, ছাত্র সংগঠন এবং রাজনৈতিক মহলের একাংশের দাবি, এতে শিক্ষক নিয়োগে আবারও রাজনৈতিক প্রভাব, স্বজনপ্রীতি ও ঘুষ বাণিজ্যের সুযোগ তৈরি হবে। অন্যদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যুক্তি, এনটিআরসিএকে আইন অনুযায়ী মূল দায়িত্বে ফিরিয়ে এনে বর্তমান নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা দূর করাই এ পরিবর্তনের লক্ষ্য।


শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩ আগস্ট সচিবালয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সম্মেলন কক্ষে এনটিআরসিএর সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা নিয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি সভা হয়। ওই বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়।


বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, এনটিআরসিএর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আলিফ রুদাবা প্রমুখ।


বৈঠকের কার্যবিবরণীতে বলা হয়েছে, ‘বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫’ অনুযায়ী এনটিআরসিএর কাজ নিবন্ধন পরীক্ষা নেওয়া ও প্রত্যয়ন দেওয়া। নিয়োগের সুপারিশ করার বিষয়টি আইনে নেই। তাই ২০১৫ সালের পরিপত্র অনুযায়ী চালু হওয়া নিয়োগ সুপারিশ ব্যবস্থা বাতিল করে এনটিআরসিএকে শুধু নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কার্যক্রমে সীমাবদ্ধ রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।


বৈঠকে অংশ নেওয়া একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সমকালকে জানান, ওই সভায় শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ২০০৫ সালে এনটিআরসিএ প্রতিষ্ঠার পর প্রথম এক দশক সংস্থাটি শুধু নিবন্ধন পরীক্ষা পরিচালনা করত। কিন্তু ২০১৫ সালে নিয়োগের সুপারিশের দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন মামলা, জটিলতা এবং প্রশাসনিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।


তাঁর মতে, নির্বাচিত সরকার একটি কার্যকর ও সুস্থ শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। এ জন্য এনটিআরসিএকে মূল দায়িত্বে ফিরিয়ে এনে নিবন্ধনধারীদের মধ্য থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগই অধিক কার্যকর হতে পারে। মন্ত্রীর বক্তব্যের পর সভায় উপস্থিত কর্মকর্তারাও এ যুক্তির সঙ্গে একমত হন।


সভায় সিদ্ধান্ত হয়, আসছে ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা থেকেই এনটিআরসিএ শুধু সনদ দেবে। আর নিয়োগ প্রক্রিয়া হবে পরিচালনা কমিটির মাধ্যমে। মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, প্রয়োজনীয় আইন ও বিধিমালা সংশোধনের পর ১৯তম শিক্ষক নিবন্ধন থেকেই নতুন পদ্ধতি কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে।


এ ছাড়া ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৯ হাজার ৮৪২ নিবন্ধনধারীকেও নিজ উদ্যোগে পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করে ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব ওই সভায় ইতিবাচকভাবে আলোচিত হয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের একাধিক সূত্র জানায়, ইতিমধ্যে ওই সভার কার্যবিবরণী চূড়ান্ত করা হয়েছে। তাতে শিক্ষামন্ত্রী সইও করেছেন।


২০০৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এনটিআরসিএ প্রথমে শুধু নিবন্ধন পরীক্ষা নিত। ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে শূন্য পদের বিপরীতে নিবন্ধনধারীদের নিয়োগের সুপারিশ শুরু করে। অনেকটা সরকারি কর্ম কমিশনের আদলে এই নিয়োগ এখন সম্পন্ন হচ্ছে। গত এক দশকে সংস্থাটি এক লাখ ৭৭ হাজার ৫৭১ জন শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে।


এই ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে স্থানীয় প্রভাব, অর্থ লেনদেন ও রাজনৈতিক সুপারিশ কমিয়ে একটি কেন্দ্রীয় মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা।


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বর্তমান ব্যবস্থায় অনেক শিক্ষক নিজ জেলা থেকে শত শত কিলোমিটার দূরের প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ পাচ্ছেন। এতে চাকরিতে যোগদান, দীর্ঘমেয়াদি অবস্থান এবং শূন্য পদ পূরণে নানা বাস্তব সমস্যা তৈরি হচ্ছে। তাঁদের মতে, স্থানীয়ভাবে নিয়োগ হলে শিক্ষকরা নিজ জেলা বা পাশের এলাকায় চাকরির সুযোগ পাবেন। এর ফলে পদত্যাগ বা বদলির প্রবণতাও কমবে।


একই সঙ্গে আইনি ভিত্তির বিষয়টিও গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ এনটিআরসিএ আইনে নিয়োগের সুপারিশের ক্ষমতা স্পষ্টভাবে উল্লেখ নেই। আছে শুধু পরীক্ষা গ্রহণ ও সনদপত্র দেওয়ার ক্ষমতা।


শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভায় কার্যবিবরণী গ্রহণের পর এই সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক, রাজনৈতিক ও শিক্ষাসংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২০১৫ সালের আগে ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, অর্থ লেনদেন, রাজনৈতিক সুপারিশ ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ ছিল। অনেক ক্ষেত্রে লাখ লাখ টাকার বিনিময়ে নিয়োগের অভিযোগও ওঠে।


সম্প্রতি ৯৭৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন বিষয়ের শিক্ষকদের জাল সনদ ব্যবহারের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার ঘটনাও নতুন করে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মতে, নিয়োগ আবার স্থানীয় কমিটির হাতে গেলে সেই পুরোনো বাস্তবতা ফিরে আসার ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।


গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধুরী সমকালকে বলেন, সরকারের এ সিদ্ধান্ত যদি রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত ও স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়িত হয়, তাহলে উদ্বেগের তেমন কারণ নেই। তবে শিক্ষক নিয়োগ ঘিরে যদি আবারও বাণিজ্য, অনিয়ম কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার শুরু হয়, তাহলে তা শিক্ষাব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করবে।


তিনি বলেন, এই ঝুঁকিগুলো দূর করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তা না হলে আমরা আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যাব। এত দিনের সংস্কার ও পরিবর্তনের প্রচেষ্টা তখন প্রশ্নের মুখে পড়বে, আর সেই পুরোনো সংকটের গর্ত থেকে আমরা আদৌ বের হতে পারব কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন।


এদিকে অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি জিয়াউল কবির দুলু সমকালকে বলেন, রাজনৈতিক পরিচয় বা স্থানীয় প্রভাব নিয়োগের প্রধান বিবেচ্য হলে মেধাবীরা বঞ্চিত হবেন।


২০১০ সালের জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটির সদস্য অধ্যক্ষ কাজী ফারুক আহমেদ সমকালকে বলেন, শিক্ষক নিয়োগ ব্যবস্থার এই পরিবর্তন শুধু প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নয়; এটি দেশের বেসরকারি শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ কাঠামো নির্ধারণ করতে পারে। একদিকে সরকার এনটিআরসিএকে তার আইনি সীমার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে চায় এবং স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষক নিয়োগ সহজ করার যুক্তি দিচ্ছে। তিনি বলেন, গত এক দশকে গড়ে ওঠা কেন্দ্রীয়, তুলনামূলক স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা ভেঙে গেলে পুরোনো অনিয়ম, রাজনৈতিক প্রভাব ও আর্থিক লেনদেনের সংস্কৃতি ফিরে আসার শঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।


এ মুহূর্তে দেশের অধিকাংশ বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নির্বাচিত ব্যবস্থাপনা কমিটি নেই। দুই বছরের বেশি সময় ধরে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান অন্তর্বর্তী কমিটির মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। এ অবস্থায় যদি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা আবারও কমিটির হাতে দেওয়া হয়, তাহলে সেই নিয়োগের বৈধতা, নিরপেক্ষতা ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মো. জিয়াউল কবির দুলু বলেন, আগে নির্বাচনের মাধ্যমে বৈধ পরিচালনা পর্ষদ গঠন করতে হবে। অন্তর্বর্তী কমিটির হাতে বড় ধরনের নিয়োগ ক্ষমতা দেওয়া হলে বিতর্ক আরও বাড়বে।


সিদ্ধান্ত প্রকাশ্যে আসার পরপরই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ, জাতীয় ছাত্রশক্তিসহ বিভিন্ন সংগঠন প্রতিবাদ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের দাবি, শিক্ষক নিয়োগ অবশ্যই স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও কেন্দ্রীয়ভাবে পরিচালিত হতে হবে। স্থানীয় কমিটির হাতে ক্ষমতা ফিরিয়ে দিলে শিক্ষাব্যবস্থায় দুর্নীতির নতুন দ্বার খুলে যাবে।


জাতীয় নাগরিক পার্টির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহও সিদ্ধান্তটি বাতিলের দাবি জানিয়েছেন। সোমবার তিনি এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বক্তব্যও দেন। তাঁর ভাষ্য, ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া শিক্ষাব্যবস্থাকে দলীয়করণের ঝুঁকিতে ফেলবে।


শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে ফিরিয়ে দেওয়া দেশের শিক্ষাব্যবস্থার কফিনে শেষ পেরেক মারা বলে মনে করেন জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। সোমবার তাঁর আনুষ্ঠানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।


এর আগে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতাও পরিচালনা পর্ষদের হাতে ফিরিয়ে দিয়েছে সরকার। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জেলা প্রশাসকের নেতৃত্বাধীন কমিটির মাধ্যমে কর্মচারী নিয়োগের যে ব্যবস্থা চালু হয়েছিল, গত ২১ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে তা বাতিল করা হয়।


যদিও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কয়েকজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ আইন, ২০০৫ এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা সংশোধন করতে হবে। তবে মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুল খালেক আনুষ্ঠানিকভাবে বলেছেন, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা চলছে। আইনি ও প্রশাসনিক সব দিক পর্যালোচনা করেই সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।


ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগ হলে স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাব ও ঘুষ বাণিজ্যের পুরোনো চক্র আবার ফিরবে বলে শঙ্কা জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। ব্যবস্থাপনা কমিটির কাছে শিক্ষক নিয়োগের দায়িত্ব ফিরিয়ে দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ ও নিন্দাও জানিয়েছে দলটি।


সোমবার জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার প্রধান শর্ত—যোগ্য, মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ। নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব ব্যবস্থাপনা কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হলে শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হবে।


এদিকে ব্যবস্থাপনা কমিটিকে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন। চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের ছাত্র সংগঠনের সভাপতি মুনতাছির আহমাদ ও সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত শিক্ষা খাতকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে। সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার না হলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাওসহ কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।


বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ব্যবস্থাপনা কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়ে সরকার কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


সোমবার রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘এনটিআরসিএ ২০০৫ সালে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন সরকারের সময়ে প্রতিষ্ঠিত হয়। এনটিআরসিএর কার্যক্রম ও শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, দক্ষ ও সুন্দরভাবে কীভাবে পরিচালনা করা যায়, সে বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পর্যালোচনা অব্যাহত রেখেছে। ব্যবস্থাপনা কমিটি বা পরিচালনা পর্ষদ কর্তৃক শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া-সংক্রান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। এ বিষয়ে কোনো অপতথ্য প্রচার না করার জন্য সকলের প্রতি অনুরোধ রইল।’

শিক্ষা থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.