পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় গোপন বার্তা ফাঁস নিয়ে তোলপাড়

রোববার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়

প্রতিনিধি খুলনা
পুলিশ
পুলিশ | প্রতীকী ছবি

খুলনায় পুলিশ পরিদর্শক শাহ আলমের ওপর ছিনতাইকারীদের হামলার পর পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তায় জারি করা গোপন নির্দেশনা ফাঁসের ঘটনায় তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা পুলিশ। রোববার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, শাহ আলমের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। তবে তাঁর দুই হাতের কয়েকটি আঙুল গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আঙুলগুলোর কর্মক্ষমতা স্থায়ীভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।


পুলিশের দাবি, সদস্যদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং দায়িত্ব পালন শেষে, বিশেষ করে গভীর রাতে সাদা পোশাকে চলাচলের ক্ষেত্রে সতর্ক করতে গত শুক্রবার সকালে পুলিশ সুপারের স্বাক্ষরে একটি অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা জারি করা হয়। নির্দেশনাটি শুধু খুলনা জেলা পুলিশের সদস্যদের জন্য প্রণয়ন করা হয়েছিল। জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নেতিবাচক বার্তা দেওয়া বা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রম সীমিত করা এর উদ্দেশ্য ছিল না।


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নির্দেশনাটি জনসমক্ষে প্রকাশিত হওয়ায় বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। এটি ফাঁস ও প্রচারের সঙ্গে কারও দায়িত্বহীনতা বা বিধিবহির্ভূত কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে প্রচলিত বিধি অনুযায়ী বিভাগীয় ও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


খুলনা জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, সরকারি গোপনীয়তা আইন অনুযায়ী গোপন নির্দেশনাটি বাইরে যাওয়ার সুযোগ নেই। গোয়েন্দা শাখার (ডিএসবি) চিঠিপত্র অত্যন্ত গোপনীয়। কীভাবে চিঠিটি ফাঁস হলো, তা তদন্ত করে দেখা হবে। পাশাপাশি, চিঠিটি প্রচারের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার অভাবে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শাহ আলমের ওপর হামলার বিবরণ দিয়ে বলা হয়, দায়িত্ব পালন শেষে গভীর রাতে সাদা পোশাকে রূপসা ফেরিঘাট পার হয়ে রিকশায় খুলনা মহানগরীর পুলিশ ক্লাবে যাচ্ছিলেন তিনি। পথে কলেজিয়েট স্কুলের কাছে তিন ছিনতাইকারীর হামলার শিকার হন। ছিনতাইকারীরা তাঁর মানিব্যাগ ও দুটি মুঠোফোন ছিনিয়ে নেয়। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাদের একজন চাপাতি দিয়ে পুলিশ কর্মকর্তাকে এলোপাতাড়ি কোপায়। আত্মরক্ষায় হাত দিয়ে আঘাত প্রতিহত করতে গিয়ে তাঁর দুই হাত গুরুতর জখম হয়।


আহত অবস্থায় তাঁকে প্রথমে পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাঁকে এক ব্যাগ রক্ত দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরবর্তী সময়ে পুলিশ সুপারের উদ্যোগে তাঁকে ঢাকার রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতাল এবং জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে সাপ্তাহিক ছুটিতে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের স্বল্পতার কারণে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাঁর দুই হাতে অস্ত্রোপচার করা হয়।


বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, খুলনা জেলা পুলিশ জেলার আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত অভিযান, তল্লাশিচৌকি স্থাপন, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং পরোয়ানাভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে। কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা অভ্যন্তরীণ নির্দেশনা নিয়ে সৃষ্ট বিভ্রান্তি পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটাবে না বলেও জানানো হয়।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.