পাবনায় প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আলোকচিত্রীর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ, বিক্ষোভ
ঠিকাদার ও ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি, অবৈধ দখল, টেন্ডারবাজি এবং সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ব্যক্তিগত আলোকচিত্রী খালেদ হোসেন পরাগের বিরুদ্ধে পাবনায় মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এসব অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে।
রোববার দুপুরে পাবনা প্রেসক্লাবের সামনে ভুক্তভোগীদের উদ্যোগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন পেশার কয়েক শ নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। পরে ভুক্তভোগীদের একটি প্রতিনিধিদল জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি হস্তান্তর করে।
পাবনা জুলাই ঐক্য পরিষদের সদস্য আবদুল্লাহ আল নোমানের সঞ্চালনায় কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন এটিএন বাংলার পাবনা প্রতিনিধি মোবারক বিশ্বাস, জাতীয় নাগরিক কমিটি পাবনার যুগ্ম আহ্বায়ক নুর হোসেন লিওন, পাবনা সদর উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, জুলাই রাজবন্দী অ্যালায়েন্সের পাবনা জেলা আহ্বায়ক প্রকৌশলী আবদুল্লাহ করিম তন্ময় ও পাবনা চেম্বার অব কমার্সের পরিচালক ইমামুর রহমানসহ অনেকে।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, খালেদ হোসেন পরাগ বিগত ১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগ নেতাদের ছত্রচ্ছায়ায় পাবনায় নিজস্ব প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। যার সপক্ষে বিভিন্ন ভিডিও ও ছবি রয়েছে। গত ৫ আগস্টের পর তিনি নতুন করে নানা অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। সম্প্রতি প্রধান উপদেষ্টার আলোকচিত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর তাঁর এই অপতৎপরতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
বক্তারা আরও জানান, জাসাসের কর্মসূচির নাম ভাঙিয়ে বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে অন্যায়ভাবে চাঁদা আদায় করা হয়েছে। এ ছাড়া পাবনা জেনারেল হাসপাতাল, মানসিক হাসপাতাল ও গণপূর্ত বিভাগের নানা দরপত্র প্রক্রিয়ায় সরাসরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে দরপত্রবাজির অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। পাশাপাশি পৌরসভাসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের জমি দখল এবং ঘটনার প্রতিবাদ করায় সাংবাদিকদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ আনেন ভুক্তভোগীরা।
কর্মসূচিতে বক্তারা উল্লেখ করেন, এসব অনিয়ম ও অপকর্মের পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ স্থানীয় প্রশাসনের কাছে ইতিমধ্যেই রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখলেই প্রকৃত সত্য উন্মোচিত হবে। শুরুতে খালেদ হোসেন পরাগের নিয়োগে পাবনাবাসী আনন্দ প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে তাঁর বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও সাংবাদিকসহ সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে খালেদ হোসেন পরাগের বক্তব্য জানতে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
How did this article make you feel?