পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

প্রিজন ভ্যানে জিয়াউলকে একা আনা-নেওয়া করা বিপজ্জনক, ট্রাইব্যুনালে বললেন আইনজীবী

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বৃহস্পতিবার এই আবেদন করেন আইনজীবী নাজনীন নাহার। তাঁর আবেদনের বিরোধিতা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান
মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান | ফাইল ছবি

সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে কারাগার থেকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একা একটি গাড়িতে আনা-নেওয়া করা হয় বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী ও বোন নাজনীন নাহার। শুনানিতে তিনি বলেছেন, ‘কারাগারের গাড়িতে জিয়াউলকে একা আনা-নেওয়া করা বিপজ্জনক, উদ্বেগজনক বিষয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ততটা ভালো নয়। যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এককভাবে না এনে, জিয়াউল আহসানকে যেন অন্য আসামিদের সঙ্গে আনা হয়।’


আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বৃহস্পতিবার এই আবেদন করেন আইনজীবী নাজনীন নাহার। তাঁর আবেদনের বিরোধিতা করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।


শুনানিতে আসামি জিয়াউল আহসানকে কারাগারে রেখে সেখান থেকে দূরবর্তীভাবে অংশগ্রহণের মাধ্যমে মামলার বিচারকাজ পরিচালনার আবেদন করেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। তিনি বলেন, কারাগার থেকে ভিডিওর মাধ্যমে আসামির অংশগ্রহণের সুযোগ রয়েছে।


গাজী মোনাওয়ার বলেন, অন্য আসামিরা জীবননাশের আশঙ্কার কথা বলছেন না। জিয়াউল যে নিরাপত্তার কথা বলছেন, এটা স্বীকার করেই তিনি বলছেন, তাঁকে না এনে কারাগারে রেখে দূরবর্তীভাবে শুনানি করা হোক।


রাষ্ট্রপক্ষের এসব কথার বিরোধিতা করেন জিয়াউল আহসানের আইনজীবী নাজনীন নাহার। তিনি বলেন, একা আনা হচ্ছে দেখেই উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। অন্য সব আসামির সঙ্গে জিয়াউলকে আনলে সমস্যা কোথায়, সেই প্রশ্ন রাখেন তিনি। অন্য কোনো আসামিকে একা আনা হয় না। জিয়াউলকে একা আনা হচ্ছে, এর উদ্দেশ্য কী, সে প্রশ্নও রাখেন তিনি।


ট্রাইব্যুনালের এজলাসের কাঠগড়ায় থাকা আসামি জিয়াউল আহসান কথা বলতে চান। ট্রাইব্যুনাল তাঁকে কথা বলার অনুমতি দেন। তখন জিয়াউল আহসান বলেন, তাঁকে একা একটি গাড়িতে আনার উদ্দেশ্য হচ্ছে নিজেরা ঘটনা ঘটিয়ে তাঁর ওপর দায় চাপাবে।


ট্রাইব্যুনাল তাৎক্ষণিকভাবে এই আবেদনের ওপর কোনো আদেশ দেননি।


শুনানির পর সাংবাদিকদের আইনজীবী নাজনীন নাহার বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আসামি করার পর থেকে জিয়াউল আহসানকে অন্য আসামির সঙ্গে আনা হতো। গত ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁকে একা একটি কারাগারের গাড়িতে করে কারাগার থেকে আনা-নেওয়া করা হয়।


শতাধিক ব্যক্তিকে গুম ও হত্যার অভিযোগে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষের দিকে। বর্তমানে এই মামলায় তদন্ত কর্মকর্তার জবানবন্দি গ্রহণ করা হচ্ছে। এ ছাড়া জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে গুম, খুন ও নির্যাতনের অভিযোগে একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.