পদ্মা ট্রিবিউন | বাংলা নিউজ পেপার
বাংলাদেশ রাজনীতি বিশ্ব বাণিজ্য মতামত খেলা বিনোদন চাকরি জীবনযাপন ভিডিও

বোয়িং থেকে ১১ বিমান কেনার চুক্তি সম্পন্ন: মাহদী আমিন

যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ উপস্থিত ছিলেন।

নিজস্ব প্রতিবেদক ঢাকা
বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন
বোয়িংয়ের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরের পর নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে সংবাদ সম্মেলনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

দেশের আকাশপথ ও বিমান পরিবহন খাতের সম্প্রসারণে মার্কিন উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে নতুন আরও ১১টি উড়োজাহাজ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ।


যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইডলাইনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন এবং বোয়িংয়ের বাণিজ্যিক বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ব্র্যাড ম্যাকমুলেন নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।


চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুন, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন, যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যমন্ত্রী হাওয়ার্ড লুটনিক এবং উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার ল্যান্ডাউ উপস্থিত ছিলেন।


এ ছাড়া অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যবিষয়ক মার্কিন বাণিজ্য বিভাগের আন্ডার সেক্রেটারি উইলিয়াম কিমিট, বোয়িং গ্লোবালের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি ব্রেন্ডান নেলসন, বোয়িং কমার্শিয়াল এয়ারপ্লেনসের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্টেফানি পোপ, দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস পল কাপুর, ইউরেশিয়া ও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের বাণিজ্যিক বিক্রয় ও বিপণন বিভাগের সহসভাপতি পল রিগিসহ উভয় দেশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।


চুক্তি স্বাক্ষর শেষে বোয়িংয়ের একটি প্রতিনিধিদল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। পরে নিউইয়র্কের গ্র্যান্ড হায়াত হোটেলের লবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন বলেন, দেশের বিমান পরিবহন খাতের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন ও নতুন নতুন রুট চালুর পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বোয়িংয়ের সঙ্গে দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক থাকলেও বাংলাদেশ বাস্তব চাহিদার ভিত্তিতেই উড়োজাহাজ সংগ্রহ করবে জানিয়ে তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে ইউরোপীয় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাসের সঙ্গেও আলোচনা হতে পারে।


অনুষ্ঠানে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের চেয়ারম্যান রুমী এ হোসেন বলেন, এই সম্পূরক চুক্তি বিমানের বহর আধুনিকায়ন ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। জাতীয় পতাকাবাহী এয়ারলাইনস হিসেবে দেশি-বিদেশি যাত্রী, প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের যোগাযোগের চাহিদা পূরণে বিমানের সক্ষমতা বাড়াতে এটি দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অংশ।


এদিকে নতুন উড়োজাহাজ কেনার সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন। এক বিবৃতিতে তিনি এ ঘটনাকে ‘যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ সম্পর্কের জন্য আরেকটি উভয় পক্ষের জয়’ হিসেবে উল্লেখ করে দুই প্রতিষ্ঠানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।


বিমান কর্মকর্তারা জানান, গত ৩০ এপ্রিল বোয়িংয়ের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ৩.৭ বিলিয়ন ডলারের চুক্তির আওতায় নির্ধারিত ১৪টি উড়োজাহাজের অতিরিক্ত হিসেবে এই ১১টি কেনা হচ্ছে। এর ফলে বোয়িংয়ের কাছ থেকে বিমানের প্রস্তাবিত মোট সংগ্রহ দাঁড়াচ্ছে ২৫টিতে। তবে অতিরিক্ত উড়োজাহাজগুলোর মডেল, মূল্য ও সরবরাহের সময়সূচি এখনো নির্ধারণ করা হয়নি। অন্যদিকে, ১০টি এয়ারবাস উড়োজাহাজ কেনার একটি আলাদা প্রস্তাবও সরকারের বিবেচনায় রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে আরও পড়ুন

0 Comments

No comments yet. Be the first to share your thoughts!

Leave a Comment

Moderated — may take a moment.