প্রকৃতির মোহনীয় রূপ করতোয়ার বালুচরে, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়
প্রকৃতির এমন মোহনীয় ও কাব্যিক রূপ এখন শোভা পাচ্ছে করতোয়া নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে।
শরতের শান্ত-স্নিগ্ধ নীল আকাশে মেঘের ভেসে চলা আর নিচে সবুজের বুকে দিগন্তজোড়া সাদা কাশফুলের মেলা। বাতাসে দুলতে থাকা কাশের নরম শিষ দূর থেকে দেখলে মনে হয়, কোনো চরে যেন নেমে এসেছে দুধসাদা ফেনার ঢেউ। প্রকৃতির এমন মোহনীয় ও কাব্যিক রূপ এখন শোভা পাচ্ছে করতোয়া নদীর বিস্তীর্ণ চরাঞ্চলে।
রংপুরের পীরগঞ্জ ও দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার সীমান্ত ঘেঁষে বয়ে চলা করতোয়া নদীর বালুচরে শুভ্রতার পসরা সাজিয়েছে এই কাশবন। প্রকৃতির এই রূপ দেখতে প্রতিদিন বিকেলে সেখানে ভিড় করছেন শত শত দর্শনার্থী। কেউ পরিবার-পরিজন নিয়ে, কেউবা প্রিয়জনের হাত ধরে, আবার কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মেতে হারিয়ে যাচ্ছেন কাশফুলের শুভ্রতায়।
কাশবনের নরম শিষ আর সুনীল আকাশের মিতালি যেন এক মায়াবী দৃশ্য তৈরি করেছে। সেই অনুপম সৌন্দর্যকে স্মৃতিতে ধরে রাখতে ব্যস্ত সব বয়সের মানুষ। কাশের সরু পথে হেঁটে চলা, ছবি তোলা আর নদীছোঁয়া বাতাসে জিরিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়ে জমে উঠছে প্রকৃতিপ্রেমীদের মিলনমেলা।
ঘুরতে আসা রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘কাশফুলের এত কাছাকাছি আসার অভিজ্ঞতা সত্যিই দারুণ। বিকেলের মিষ্টি রোদে পরিবার নিয়ে এসে ভীষণ ভালো লাগছে। ছবি তোলার জন্য এটি এক চমৎকার জায়গা।’
প্রকৃতির এমন রূপে বিমোহিত আরেক দর্শনার্থী মিরাজ বলেন, ‘শরতের কাশফুলের যে কী অপরূপ মহিমা, এখানে না এলে বোঝা যেত না। নদী, নীল আকাশ আর কাশবন—সব মিলিয়ে নিমেষেই মন ভালো হয়ে যায়।’
প্রতিবছর শরৎ এলেই করতোয়া নদীর বুকে ভেসে ওঠে এই সাদা মায়াজাল। তবে স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, ভ্রমণপিপাসুদের যাতায়াত সহজ করা, বসার সুব্যবস্থা ও নিরাপত্তা জোরদার করা গেলে চরাঞ্চলটি রূপ নিতে পারে এক চমৎকার প্রাকৃতিক বিনোদনকেন্দ্রে।
এ বিষয়ে নবাবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, কাশবনে দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। দর্শনার্থীরা যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির শিকার না হন, সে জন্য পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি সবাইকে সতর্কতার সঙ্গে চলাফেরার অনুরোধ জানান তিনি।