[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

ঢোল-বাদ্য আর রঙিন মোটিফে শুরু বৈশাখী শোভাযাত্রা, ঢাবিতে উৎসবের ঢল

প্রকাশঃ
অ+ অ-
চারুকলা অনুষদের সামনে থেকে বের হওয়া এই শোভাযাত্রায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সর্বস্তরের মানুষ যোগ দেন | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ঢোল-বাদ্যের তালে আর রঙিন নকশার বর্ণিল আয়োজনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শুরু হয়েছে বাংলা নববর্ষের বহুল প্রতীক্ষিত বৈশাখী শোভাযাত্রা।

মঙ্গলবার সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদ থেকে জাতীয় সংগীতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই শোভাযাত্রায় শিক্ষার্থী, শিক্ষকসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে উৎসবের ঢল নেমেছে।

সকাল ৮টা থেকেই চারুকলা অনুষদ প্রাঙ্গণে জড়ো হতে শুরু করেন উৎসবপ্রিয় মানুষ। বর্ণিল পোশাকে শোভাযাত্রায় অংশ নিয়েছেন সবাই। চারদিকে ঢাক-ঢোল আর বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে তৈরি হয়েছে উৎসবের আমেজ। শোভাযাত্রায় অংশ নিচ্ছেন ২০০ জন শিক্ষার্থী, যাঁরা বহন করছেন বাংলাদেশের জাতীয় পতাকা। পাশাপাশি ৩৫ জন বাদ্যযন্ত্রশিল্পীর পরিবেশনাও রয়েছে।

বরাবরের মতো এবারও শোভাযাত্রায় লোকঐতিহ্য ও স্বকীয়তাকে বড় পরিসরে তুলে ধরা হয়েছে। বাঁশ, কাঠ ও রঙিন কাগজে তৈরি বিশাল বাঘ, হাতি, ময়ূর এবং মা ও শিশুর প্রতিকৃতি শোভাযাত্রায় যুক্ত হয়ে এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করেছে। এবারের মূল বার্তা—অশুভ শক্তির বিনাশ এবং কল্যাণময় আগামীর পথে যাত্রা।

এবারের শোভাযাত্রায় বিশেষভাবে স্থান পেয়েছে পাঁচটি প্রধান মোটিফ—মোরগ, বেহালা বা দোতারা, পায়রা, হাতি ও ঘোড়া। এগুলো যথাক্রমে শক্তি, সৃজনশীলতা, শান্তি, গৌরব ও গতিময়তার প্রতীক হিসেবে উপস্থাপিত হচ্ছে। অনুষদের খোলা প্রাঙ্গণে আগে থেকেই এসব প্রতিকৃতি তৈরির কাজ চলছিল। বাঁশ ও বেত দিয়ে কাঠামো তৈরির পর শেষ মুহূর্তে রঙ-তুলির কাজ করেছেন শিক্ষার্থীরা।

লাল ঝুঁটির বিশাল মোরগ, নারায়ণগঞ্জের লোকশিল্প জাদুঘরের আদলে কাঠের হাতি, শান্তির প্রতীক পায়রা, বড় দোতারা ও টেপা পুতুলের আদলে তৈরি ঘোড়া শোভাযাত্রার আকর্ষণ বাড়িয়েছে। পাশাপাশি ছোট ছোট আরও অনেক অনুষঙ্গ যুক্ত হয়েছে এই আয়োজনে।

এদিকে শোভাযাত্রা ঘিরে নেওয়া হয়েছে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে মুখোশ পরে প্রবেশ, ব্যাগ বহন, ইংরেজি ব্যানার, বেলুন ও আতশবাজি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভুভুজেলা বাঁশি বাজানো ও বিক্রি না করতে উৎসাহিত করা হয়েছে। শোভাযাত্রা চলাকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশির ভাগ প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়েছে।

নিরাপত্তা জোরদারে ক্যাম্পাসজুড়ে নজরদারি ক্যামেরা ও তল্লাশি গেট স্থাপন করা হয়েছে। ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের সামনে তথ্য কেন্দ্র, নিয়ন্ত্রণ কক্ষ ও অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র বসানো হয়েছে। দোয়েল চত্বর, কার্জন হলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় স্থাপন করা হয়েছে ভ্রাম্যমাণ শৌচাগার।

নববর্ষ উপলক্ষে চারুকলা অনুষদে সাংস্কৃতিক আয়োজনও রাখা হয়েছে। চৈত্র সংক্রান্তির দিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত বকুলতলায় লোকসংগীত, নৃত্যসহ বিভিন্ন পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ ছাড়া ১৫ ও ১৬ এপ্রিল ‘বাগদত্তা’ ও ‘দেবী সুলতানা’ নামের দুটি যাত্রাপালা মঞ্চস্থ হওয়ার কথা রয়েছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন