শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড বাতিলের দাবি জানিয়ে আইনি নোটিশ
![]() |
| সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা | ফাইল ছবি |
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিচার ও মৃত্যুদণ্ডাদেশকে বেআইনি দাবি করে তা বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঠানো এক চিঠিতে এই দাবি জানানো হয়।
শেখ হাসিনার পক্ষে লন্ডনভিত্তিক আইনি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান কিংসলে ন্যাপলি সোমবার ই-মেইলের মাধ্যমে এই চিঠি পাঠায়। এতে ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়াকে ‘অন্যায্য’ ও ‘অবৈধ’ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার অনুপস্থিতিতে বিচার শেষ করে তাঁকে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। এর ফলে তাঁর ন্যায্য বিচার পাওয়ার অধিকার ও মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
আইনজীবীদের মতে, বিচারটি এমন এক রাজনৈতিক পরিবেশে হয়েছে যেখানে আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের ওপর কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। চিঠিতে ২০২৫ সালে দলটির কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা, চলমান সহিংসতা এবং আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ট্রাইব্যুনালের বিচারক নিয়োগে স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিদের দিয়ে বিচারিক দল গঠন করা হয়েছে। এর ফলে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি একজন বিচারক আগেই দোষী সাব্যস্ত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলেও অভিযোগ তোলা হয়েছে।
প্রধান কৌঁসুলির রাজনৈতিক পরিচয় ও আওয়ামী লীগবিরোধী অবস্থানকে পক্ষপাতমূলক হিসেবে চিঠিতে তুলে ধরা হয়। সেই সঙ্গে প্রসিকিউশন টিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও আনা হয়েছে।
দাবিতে বলা হয়, শেখ হাসিনাকে অভিযোগের বিরুদ্ধে প্রমাণ দেওয়া বা নিজের পক্ষে সাফাই গাওয়ার যথাযথ সুযোগ দেওয়া হয়নি। এটি নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার বিষয়ক আন্তর্জাতিক চুক্তির ১৪ নম্বর ধারার লঙ্ঘন। চিঠিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, ফ্রিডম হাউস ও ইন্টারন্যাশনাল বার অ্যাসোসিয়েশনসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার উদ্বেগের বিষয়টিও জানানো হয়।
লন্ডনের ওই আইনি প্রতিষ্ঠানটি ট্রাইব্যুনালের বিচার করার ক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে। তাদের মতে, এই আদালত মূলত ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধকালীন অপরাধের বিচারের জন্য তৈরি হলেও পরে এর ক্ষমতা বাড়ানো হয়েছে, যা বেআইনি।
সবশেষে চিঠিতে দাবি করা হয়, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায় বাতিল করতে হবে এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা যাবে না। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী নতুন করে বিচারের ব্যবস্থা করা এবং আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।
জুলাই আন্দোলন দমনে এক হাজার ৪০০ জনকে হত্যায় উসকানি ও নির্দেশ দেওয়ার চারটি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে গত বছরের ১৭ নভেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছিলেন।

Comments
Comments