নারায়ণগঞ্জে বাস পেতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা যাত্রীদের, নেই যানজট
![]() |
| ঈদে বাড়ি ফিরতে পরিবহন কাউন্টারগুলোতে যাত্রীদের অপেক্ষা। বৃহস্পতিবার সকালে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ সাইনবোর্ড এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখী মানুষের ভিড় নেমেছে সড়কপথে। তবে ঈদযাত্রার শুরুতেই নারায়ণগঞ্জে বাসের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে। এই সুযোগে অনেক পরিবহন যাত্রীদের কাছ থেকে বেশি ভাড়া নিচ্ছে। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। তবে মহাসড়কের পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তির, গাড়ির চাপ বেশি থাকলেও যানজট নেই।
বৃহস্পতিবার সকালে সরেজমিন সিদ্ধিরগঞ্জের সাইনবোর্ড এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে যানবাহনের চাপ রয়েছে। শত শত যাত্রী পরিবহন কাউন্টারগুলোতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন। টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। আবার অনেক কাউন্টারে নির্ধারিত সময়েও গাড়ি মিলছে না।
রাজধানীর একটি ছাপা কারখানায় কাজ করেন মাসুদ মিয়া। ঈদ করতে মা, বোনসহ পরিবারের ছয়জনকে নিয়ে ভৈরব গ্রামের বাড়ি যাচ্ছেন। সকাল ছয়টায় এলেও এখনো গাড়ি পাননি। তিনি অভিযোগ করেন, কাউন্টারগুলোতে যাত্রীপ্রতি ১০০ থেকে ১৫০ টাকা বেশি ভাড়া চাওয়া হচ্ছে। তবু টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না।
সকাল থেকে সোয়া ৯টা পর্যন্ত সাইনবোর্ড কাউন্টার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রুটে চলাচলকারী তিশা পরিবহনের তিনটি বাস ছেড়ে যায়। অনেক যাত্রী এখনো কাউন্টারে বাসের জন্য অপেক্ষা করছেন, কিন্তু গাড়ি পাচ্ছেন না। কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা শাহাদাত হোসেন জানান, তিনটি বাস ছেড়ে গেলেও একটি সিটও খালি ছিল না। ঈদ উপলক্ষে ৫০ টাকা বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে।
পরিবহন–সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, ঈদের সময় সব সময়ই যাত্রীর চাপ বেশি থাকে। গত বুধবার সব পোশাক কারখানা ছুটি হয়েছে। এতে যাত্রী আরও বেড়েছে। ঢাকায় গাড়ি ঢোকা ও বের হতে সময় লাগছে। এ কারণে নির্ধারিত সময়ে গাড়ি আসছে না। গাড়ির তুলনায় যাত্রী বেশি।
তাঁরা আরও বলেন, ঈদ উপলক্ষে আগাম বিক্রি হওয়া টিকিট ইতিমধ্যে শেষ। এখন যাত্রীরা নির্ভর করছেন চলমান বাসের ওপর, যা সময়মতো টার্মিনালে পৌঁছাতে পারছে না। নোয়াখালী রুটে চলাচলকারী সারা এক্সপ্রেস বাসের কাউন্টারের দায়িত্বে থাকা মোহাম্মদ মিঠু বলেন, তাঁদের পরিবহনের ছয়টি গাড়ি ছেড়ে গেছে। যাত্রীর তুলনায় গাড়ির সংখ্যা কম।
অন্যদিকে যাত্রীদের অভিযোগ, ঈদের সুযোগে কিছু পরিবহন বেশি ভাড়া নিচ্ছে। নির্ধারিত ভাড়ার তুলনায় কোনো কোনো রুটে দ্বিগুণ টাকা পর্যন্ত চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
চাঁদপুরগামী যাত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘সকাল সাতটা থেকে পরিবার নিয়ে বসে আছি। তিন ঘণ্টা হয়ে গেল, এখনো বাস আসেনি। ছোট বাচ্চা নিয়ে এই গরমে অপেক্ষা করা খুব কষ্টকর। আড়াই শ টাকার ভাড়া ৪০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।’
নারায়ণগঞ্জ হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে ২১টি জেলার যানবাহন চলাচল করে। ঈদের এই সময়ে মহাসড়ক দুটিতে যানবাহনের চাপ বেশি থাকে। তবে এবার এখন পর্যন্ত তেমন যানজট দেখা যায়নি। কাঁচপুর হাইওয়ে পুলিশের পরিদর্শক বিষ্ণু পদ শর্মা বলেন, মহাসড়কে যানজট নেই। মানুষ স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে।

Comments
Comments