মাগুরায় আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলনের পর ভাঙচুর ও আগুন, আটক ৩
![]() |
| জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করছেন নেতা–কর্মীরা। আজ বৃহস্পতিবার মাগুরা শহরের জামরুলতলা এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
মাগুরায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের পরপরই ওই কার্যালয়ে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে শহরের জামরুলতলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলা আওয়ামী লীগের এক সহসভাপতিসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।
আটক ব্যক্তিরা হলেন—জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হক হীরক (৫২), জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মোছা. সোনিয়া সুলতানা (৪০) এবং আওয়ামী লীগ কর্মী উসমান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিকেলে নেতা-কর্মীরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে সমবেত হয়ে পতাকা উত্তোলন করেন। এর কিছুক্ষণ পরই একদল লোক সেখানে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর শুরু করে এবং একপর্যায়ে কার্যালয়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং জড়িত সন্দেহে ওই তিনজনকে আটক করে।
![]() |
| জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের ভেতর ভাঙা আসবাবে আগুন জ্বলছে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে এনামুল হকের নেতৃত্বে একদল কর্মী জামরুলতলায় জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের সামনের সড়কের পাশে দলীয় ও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর তাঁরা সেখানে মোনাজাত করে চলে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এনামুল হককে বলতে শোনা যায়, ‘৫ আগস্টের পর দীর্ঘ ১৮ মাস দলীয় কার্যালয় বন্ধ ছিল। এখন যেভাবেই হোক একটি নির্বাচনের মাধ্যমে একটি দল ক্ষমতায় এসেছে। একটি গণতান্ত্রিক সরকার নির্বাচিত হয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় রাজনীতি শুরু হোক। আমরা একসঙ্গে মিলে বাংলাদেশকে আবার নতুন করে গড়তে চাই।’
এই খবর ছড়িয়ে পড়ার পর বিএনপির বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কর্মীরা এসে পতাকা স্ট্যান্ড ভাঙচুর করেন। পরে তাঁরা ভবনের তৃতীয় তলায় আওয়ামী লীগের কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে ঢুকে পড়ে ভাঙা আসবাবে আগুন ধরিয়ে দেন।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব আবদুর রহিম বলেন, ‘ঘটনা জানার পর সেখানে গিয়ে দেখি উৎসুক জনতা গণহত্যাকারী দল হিসেবে তাদের প্রতিহত করেছে। তবে তাদের দলীয় কার্যালয়ে কারা আগুন দিয়েছে তা জানি না।’
সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ওই কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, তৃতীয় তলার একটি কক্ষে তখনো আগুন জ্বলছে। ভবনের অন্যতম মালিক তাহমিদ হাসান জানান, ৫ আগস্ট সরকার পতনের দিনই এই কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল। পরে ভবনটি ভাড়ার বিজ্ঞপ্তি দিলেও আগুনে পোড়া তৃতীয় তলার ফ্ল্যাটটি কেউ ভাড়া নিতে আগ্রহী হয়নি। ফলে সেটি তালাবদ্ধ ছিল। আজ সেখানে পুনরায় অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটল।
মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের কার্যালয় খোলা ও প্রচারণা চালানোর অভিযোগে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদেরও আটকের চেষ্টা চলছে। তাঁদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’


Comments
Comments