রাতের বৃষ্টিতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট, ভোগান্তিতে যাত্রীরা
![]() |
| গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় বুধবার রাতভর থেমে থেমে বৃষ্টি হয়েছে। এতে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা থেকে তিন দিকে দীর্ঘ এলাকায় তীব্র যানজট তৈরি হয়। এতে ঈদে ঘরমুখী হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েন। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে যানজট কিছুটা কমতে শুরু করেছে।
স্থানীয় লোকজন ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বুধবার বিকেল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি থেমে থেমে রাতভর চলেছে। এতে মহাসড়কের বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে যায়। ফলে যানবাহনের গতি কমে গিয়ে একসময় দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। বিশেষ করে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের চন্দ্রা, চন্দ্রা-নবীনগর সড়ক ও চন্দ্রা-কোনাবাড়ী সড়কের বিভিন্ন অংশে গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়।
এতে গাজীপুর মহানগরের কোনাবাড়ী থেকে টাঙ্গাইলের মির্জাপুর পর্যন্ত প্রায় ২৫ কিলোমিটার এলাকায় যানজট ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া চন্দ্রা থেকে নবীনগর সড়কের জিরানী বাজার পর্যন্ত ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার এলাকায় থেমে থেমে যান চলাচল করছে। তবে সকাল থেকে যানজট কিছুটা কমেছে।
সকাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বৃষ্টি কমে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হতে শুরু করে। তবে এখনো চন্দ্রা ও আশপাশের এলাকায় গাড়ি ধীরগতিতে চলছে। প্রতিবছরের মতো এবারও ঈদে ঘরমুখী মানুষের চাপ, সড়কের অব্যবস্থাপনা ও খারাপ আবহাওয়ার কারণে চন্দ্রা ত্রিমোড় এলাকায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়েছে।
ঘরমুখী যাত্রীদের অভিযোগ, কয়েক কিলোমিটারের পথ যেতে তাঁদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগেছে। যাঁদের নির্দিষ্ট বাস ছিল না, তাঁদের অনেকেই ট্রাক বা পিকআপ থেকে নেমে কিছুটা পথ হেঁটে আবার গাড়িতে উঠে গন্তব্যের দিকে যাচ্ছেন।
রাজশাহীগামী যাত্রী আবদুল মালেক বলেন, কোনাবাড়ী থেকে রাত ১২টার দিকে বাসে উঠেছেন। ভোর চারটায় চন্দ্রায় এসে সাহ্রি খেয়ে আবার বাসে উঠেছেন। কিন্তু সকাল ৯টা হয়ে গেলেও খুব বেশি দূর যেতে পারেননি। বৃষ্টি ও যানজটে আটকে পরিবার নিয়ে কষ্টে আছেন।
বগুড়াগামী আরেক যাত্রী শিউলি আক্তার বলেন, ছোট বাচ্চা নিয়ে বাসে বসে থাকা খুব কষ্টের। না আছে ঠিকমতো খাবার, না আছে বিশ্রামের সুযোগ। কখন বাড়ি পৌঁছাবেন, সেটাও জানেন না।
পাবনাগামী যাত্রী রবিউল ইসলাম বলেন, প্রতি ঈদেই এই সড়কে এমন ভোগান্তি হয়। এবার বৃষ্টির কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা ধরে একই জায়গায় আটকে আছেন তিনি।
পরিবহনচালকেরাও সমস্যায় পড়েছেন। আর কে ট্রাভেলের বাসচালক মাহফুজ রহমান বলেন, বৃষ্টির কারণে কোথাও পুলিশ দেখা যাচ্ছে না। এই সুযোগে যানবাহনগুলো যেভাবে খুশি চলাচল করছে। এতে যানজট আরও বেড়েছে।
কোনাবাড়ী নাওজোর হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সওগাতুল আলম বলেন, রাত থেকেই যানজট কমাতে কাজ করা হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। সকাল পর্যন্ত চাপ বেশি থাকলেও এখন ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে। তিনি জানান, যানজট কমাতে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতির আরও উন্নতি হবে বলে আশা করছেন তিনি।

Comments
Comments