বিএনপির উপকার করেছেন বলেই খলিলুর রহমান মন্ত্রী হয়েছেন: গোলাম পরওয়ার
| জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ পূর্ব সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
অন্তর্বর্তী সরকারে থেকে বিএনপির উপকার করেছেন বলেই বর্তমান সরকারে জায়গা পেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান—এমন মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘নির্বাচনী কারসাজি’ (ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং) হওয়ার অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, ‘জোর করে হারিয়ে দেওয়ার অনেক কষ্ট বুকে নিয়ে আমরা নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিয়েছি।’
শুক্রবার জুমার নামাজের পর জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব কথা বলেন। নির্বাচনী কারসাজির মাধ্যমে জনগণের রায় পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান ও ড. খলিলুর রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদের দাবিতে এই সমাবেশের আয়োজন করে জামায়াতে ইসলামী।
খলিলুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আপনাকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য যাঁরা দাবি তুলেছিলেন, তাঁদেরই সরকারে আপনি যোগ দিলেন। শুধু ইচ্ছা করে যোগ দেননি; নিশ্চয়ই সরকারের ভেতরে যাঁরা নীতিনির্ধারক ছিলেন, তাঁরাই আপনাকে পছন্দ করে পুনরায় মন্ত্রিসভায় নিয়ে এসেছেন।’ অন্তর্বর্তী সরকারে থেকে বিএনপির উপকার করার পুরস্কার হিসেবেই তিনি এই পদ পেয়েছেন বলে মন্তব্য করেন গোলাম পরওয়ার।
বিএনপি সরকারের বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘ওই সময় আপনি চেষ্টা করেছেন বলেই আজ আপনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী।’ অরাজনৈতিক সরকার থেকে সরাসরি রাজনৈতিক সরকারের দায়িত্ব নেওয়াকে তিনি নিয়মের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেন।
জামায়াতের এই নেতা অভিযোগ করেন, ভোট গ্রহণ শেষ হওয়ার পর ফলাফল ঘোষণা ও গণনার বিভিন্ন ধাপে অনিয়মের মাধ্যমে নির্বাচনের ফল পরিবর্তন করা হয়েছে।
সমাবেশে ইসলামী ছাত্রশিবির ও জামায়াতের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল বায়তুল মোকাররম থেকে পল্টন মোড় হয়ে বিজয়নগরে গিয়ে শেষ হয়।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘সরকারের ভেতরে বা সাবেক উপদেষ্টাদের মধ্যে যাঁরা কারসাজির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিশেষ একটি দলকে ক্ষমতায় আনতে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে থেকে চেষ্টা করেছেন—তাঁরা আল্লাহকে সাক্ষী রেখে আত্মবিচার করুন। আপনারা নিশ্চয়ই বিবেকের দংশনে দংশিত হবেন।’
সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের একটি বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলকে মূলধারায় আসতে দেওয়া হয়নি’—এমন মন্তব্যের ব্যাখ্যা ও বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রয়োজন। এ ধরনের বক্তব্য নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
নির্বাচন নিয়ে সব অভিযোগ খতিয়ে দেখতে বিচার বিভাগীয় তদন্ত শুরুর আহ্বান জানিয়ে জামায়াতের এই নেতা বলেন, নির্বাচিত সরকার হওয়ার পরও স্থানীয় সরকারে নির্বাচন না দিয়ে প্রশাসক বা দলীয় ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক চর্চার বিরোধী।
Comments
Comments