প্রয়াত মুক্তিযোদ্ধার বাড়িঘরে হামলা–ভাঙচুর, সুনামগঞ্জে অভিযুক্ত যুবদল নেতা
![]() |
| সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ইসলামপুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ খানের বসতঘরে হামলা চালিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। রোববার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলায় জমি থেকে উচ্ছেদ করতে না পেরে এক বীর মুক্তিযোদ্ধার বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। দুপুরে উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামপুর গ্রামের প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ খানের বাড়িতে এই হামলা চালানো হয়। এই ঘটনার পর থেকে ওই মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন।
অভিযোগ উঠেছে, হামলার সময় উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন সেখানে উপস্থিত ছিলেন। তবে তিনি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না। আমি সেখানে যাইনি।’
মুক্তিযোদ্ধা আবদুল্লাহ খানের ছেলে আবদুল গফফার জানান, দেশ স্বাধীনের পর থেকে তাঁরা ইসলামপুর গ্রামের কিছু সরকারি জায়গায় পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন। পরে সরকার তাঁর বাবা আবদুল্লাহ খানকে ওই জায়গা ৯৯ বছরের জন্য বন্দোবস্ত দেয়।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রানীগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক নিজাম উদ্দিন ও তাঁর সহযোগীরা ওই জায়গা জোর করে দখলের চেষ্টা শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা আবদুল গফফারের কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তরা তাঁদের প্রাণনাশের হুমকি দেন। এর জের ধরেই দুপুরে যুবদল নেতা নিজাম উদ্দিনের নেতৃত্বে বাড়িতে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর করা হয় এবং ঘরের আসবাবপত্র লুট করে নিয়ে যাওয়া হয়।
আবদুল গফফার বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে নিজাম উদ্দিনসহ কয়েকজন আমাদের জায়গা দখলের চেষ্টা করছিলেন। এ নিয়ে আমি থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগও করি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তাঁরা পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায় তাঁরা আমাদের ঘরটি গুঁড়িয়ে দিয়েছেন এবং আসবাবপত্র লুট করেছেন। হামলার ভিডিও আমাদের কাছে আছে। নিজাম উদ্দিন নিজেই এই হামলায় নেতৃত্ব দিয়েছেন।’
ঘটনাস্থল পরিদর্শনকারী জগন্নাথপুর থানার উপপরিদর্শক হাদী আবদুল্লাহ বলেন, ‘ভাঙচুরের খবর পেয়ে আমরা সেখানে গিয়েছি। মুক্তিযোদ্ধার ছেলের ঘরটি ভেঙে দেওয়া হয়েছে। পুলিশ পুরো বিষয়টি গুরুত্বের সাথে খতিয়ে দেখছে।’

Comments
Comments