কামরুল ইসলাম ক্যানসারে আক্রান্ত, দাবি আইনজীবীর; শুনানি বুধবার
| কামরুল ইসলাম | গ্রাফিক্স: পদ্মা ট্রিবিউন |
সাবেক খাদ্যমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলামকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তির আবেদন করেছেন তাঁর আইনজীবীরা। তবে আসামিপক্ষের এই আবেদনটি প্রায় ৭০ পৃষ্ঠার হওয়ায় সেটি ভালোভাবে খতিয়ে দেখতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বুধবার শুনানির দিন নির্ধারণ করেছেন।
আজ মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১–এর চেয়ারম্যান, অবসরপ্রাপ্ত জেলা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত বেঞ্চ এই আদেশ দেন।
আদালতে কামরুল ইসলামের আইনজীবী সিফাত মাহমুদ জানান, ৭৬ বছর বয়সী এই সাবেক মন্ত্রী দীর্ঘদিন ধরে লিভার ক্যানসার ও ডিমেনশিয়া (স্মৃতিভ্রংশ) রোগে ভুগছেন। ২০১৭ সাল থেকেই তিনি ক্যানসারে আক্রান্ত। বর্তমানে রোগের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে তাঁর শরীরে বিভিন্ন সংক্রমণ দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি স্মৃতিশক্তি ও আচরণেও অস্বাভাবিক পরিবর্তন এসেছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, কামরুল ইসলাম যেন নিজ খরচে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারেন, সে বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হোক। একই সঙ্গে তাঁর ছেলে যেহেতু একজন চিকিৎসক, চিকিৎসার সময় তাঁকে হাসপাতালে থাকার অনুমতিও চাওয়া হয়েছে। বর্তমানে কামরুল ইসলাম কেরানীগঞ্জ কারাগারে আছেন। এর আগে তাঁকে বাংলাদেশ মেডিকেল ও স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘আসামিপক্ষ উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি আবেদন দিয়েছে। বিষয়টি আজ কার্যতালিকায় ছিল না। তাই বুধবার বিস্তারিত শুনানি হবে। আমরা আবেদনটি খতিয়ে দেখব। তিনি সত্যিই অসুস্থ হলে মানবিক কারণে তাঁর চিকিৎসা পাওয়ার অধিকার রয়েছে।’
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসার প্রসঙ্গ তুলে তিনি আরও বলেন, ‘বিগত সরকারের সময় আমরা বেগম জিয়ার চিকিৎসার জন্য বারবার আবেদন করেও অনুমতি পাইনি। তবে আমরা সেই অমানবিকতার পুনরাবৃত্তি করতে চাই না। বিচার তার নিজস্ব গতিতে চলবে। কিন্তু একজন মানুষ হিসেবে আসামির যথাযথ চিকিৎসা পাওয়ার বিষয়ে আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না।’
২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর গ্রেপ্তার হন কামরুল ইসলাম। শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে আওয়ামী লীগের অনেক নেতার মতো তিনিও আত্মগোপনে ছিলেন। জানা গেছে, সাবেক এই মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অন্তত ২০টি মামলা রয়েছে। গত বছরের মে মাসে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে হাজিরা দিতে এসে টয়লেটে পড়ে তাঁর মাথা ফেটে যায়।
আওয়ামী লীগের এই জ্যেষ্ঠ নেতা ২০১৪ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ৬ জানুয়ারি পর্যন্ত খাদ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে ২০০৮ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকারের আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। কামরুল ইসলাম টানা চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।
Comments
Comments