[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি বিধিনিষেধ, মানছে না রাজধানীর বিপণিবিতানগুলো

প্রকাশঃ
অ+ অ-
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের নির্দেশনা মানছে না ঢাকা নিউমার্কেট কর্তৃপক্ষও। মার্কেটের ১ নম্বর ফটকজুড়ে জ্বলছে এমন বাতি | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে এবং কোথাও কোথাও সংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে শুরু করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জ্বালানি তেল ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে গত ৮ মার্চ (রোববার) বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে বিশেষ কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়। তবে রাজধানীর বড় বড় শপিং মল ও বিপণিবিতানগুলোতে এই নির্দেশনা মানার কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না।

সরকারি নির্দেশনায় শপিং মল ও বিপণিবিতানসহ সর্বত্র অতিরিক্ত আলোকসজ্জা নিষিদ্ধ করা হলেও গত রবি ও সোমবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। বেশির ভাগ মার্কেটের ভেতরে ও বাইরে আগের মতোই জমকালো আলোকসজ্জা অব্যাহত রয়েছে।

রোববার রাতে রাজধানীর মৌচাক এলাকার ফরচুন শপিং কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, পুরো মার্কেটজুড়েই অতিরিক্ত আলোকসজ্জা করা হয়েছে। সরকারি নির্দেশনার বিষয়ে জানতে মার্কেটের দোকান মালিক সমিতির কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে দায়িত্বশীল কাউকে পাওয়া যায়নি। তবে সেখানে কর্মরত এক কর্মী জানান, এই ধরনের কোনো নির্দেশনার বিষয়ে তাঁরা কিছুই জানেন না।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের এই সময়ে সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষিত হলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের মূল লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে।

ধানমন্ডি হকার্স মার্কেট ও আশপাশের মার্কেটগুলোতেও নির্দেশ অমান্য করে চলছে এমন চোখধাঁধানো আলোকসজ্জা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

মৌচাকে অবস্থিত অপর একটি বড় বিপণিবিতান ‘সেন্টার পয়েন্ট শপিং মল’-এ গিয়েও দেখা যায় পুরো ভবনজুড়ে জমকালো আলোকসজ্জা। এ বিষয়ে মার্কেটটির দোকান মালিক সমিতির সভাপতি মজিবর রহমান বলেন, ‘আলোকসজ্জা না করার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো নির্দেশনা আসেনি। নির্দেশনা পেলে আমরা অবশ্যই তা মেনে চলব। তবে আমাদের পাশাপাশি আশপাশের অন্য মার্কেটগুলোও তো আলোকসজ্জা করছে।’

সোমবার রাতে রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সব কটি শপিং মল ও বিপণিবিতানেই আলোকসজ্জা করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা সেখানেও কেউ মানছেন না।

নিউমার্কেট এলাকার গাউছিয়া মার্কেটেও দেখা গেছে আলোকসজ্জার ব্যাপক আয়োজন। এ বিষয়ে মার্কেটটির ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক মো. কাবিল হোসেন বলেন, ‘শবে বরাত থেকে ঈদ পর্যন্ত প্রতিবছরই আমাদের এখানে আলোকসজ্জা থাকে। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এখন পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে এটি বন্ধ রাখার কোনো নির্দেশনা আমরা পাইনি। তবে সরকারি কোনো আদেশ এলে আমরা তা মানতে বাধ্য।’

সরকারি নিষেধাজ্ঞা না মেনেই নিউমার্কেট-সংলগ্ন মার্কেটগুলো এভাবেই সাজানো হয়েছে রঙিন বাতিতে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

একই এলাকার ‘মক্কা শপিং মল’-এর পুরো ভবনজুড়েও নানা রঙের কৃত্রিম বাতি দেখা গেছে। এ বিষয়ে মলটির ব্যবস্থাপক তানভীর রহমান জানান, সন্ধ্যায় ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ডিপিডিসি) প্রতিনিধিরা তাঁদের মার্কেটে এসে আলোকসজ্জা করতে নিষেধ করেছেন।

নিষেধ করার পরও কেন আলোকসজ্জা বন্ধ করা হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে তানভীর রহমান বলেন, ‘শুধু আমাদের মার্কেট নয়, নিউমার্কেটের সবাই তো বাতি জ্বালাচ্ছে। আমরা যেহেতু এখন নির্দেশনা পেয়েছি, আগামীকাল থেকে আর জ্বালাব না।’

সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘রোববার থেকেই আমরা মার্কেটগুলোতে অতিরিক্ত আলোকসজ্জা বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছি। কিছু মার্কেট তা মেনে চললেও অনেকেই কথা শোনেননি। ছোটখাটো অনেক ব্যবসায়ী নিজেদের মতো করে আলোকসজ্জা করে রেখেছেন। এ বিষয়ে ডিপিডিসির একজন কর্মকর্তার সঙ্গেও আমাদের কথা হয়েছে; আমরা তাঁদের সহযোগিতা চেয়েছি।’

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে রাজধানীর চন্দ্রিমা ও নূরজাহান সুপার মার্কেটে করা হয়েছে আলোকসজ্জা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

সরকারি নির্দেশনা সবার মেনে চলা উচিত উল্লেখ করে হেলাল উদ্দিন আরও বলেন, সবাই যাতে এই নিয়ম মেনে চলেন, সে বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর তদারকি করা প্রয়োজন। তদারকি ছাড়া সব জায়গায় এটি কার্যকর করা সম্ভব হবে না।

এদিকে সোমবার রাতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে জানানো হয়েছে, অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা পরিহার করে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে উৎসাহিত করতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকার বিপণিকেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ বিভাগের মোবাইল কোর্টের অভিযান চলছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন