ছেলের বিরুদ্ধে চুরির অভিযোগে মা-বাবাকে মারধর, অপমান সইতে না পেরে মায়ের আত্মহত্যা
জামালপুর সদর উপজেলায় গরু চুরির অভিযোগে ছেলেকে না পেয়ে তাঁর মা–বাবাকে সালিসে মারধর করা হয়েছে। অপমান ও নির্যাতন সইতে না পেরে ওই নারী আত্মহত্যা করেছেন বলে দাবি করেন স্বজনেরা। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার পূর্ব কোটামনি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
ওই নারীর নাম জোছনা বেগম (৪৫)। তিনি পূর্ব কোটামনি এলাকার কৃষক সুরুজ মিয়ার স্ত্রী। তাঁদের দুই ছেলে সুজন মিয়া (৩০) ও সজীব মিয়া (২৭)।
স্থানীয় লোকজন জানান, জোছনা–সুরুজ দম্পতির বড় ছেলে সুজন মাদকাসক্ত এবং চুরির সঙ্গে জড়িত।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার গভীর রাতে প্রতিবেশী কাউসার মিয়ার গোয়ালঘরে গরু চুরির চেষ্টা হয়েছে—এমন অভিযোগে সুরুজ মিয়ার বাড়িতে যান স্থানীয় কয়েকজন। তাঁরা সুজনকে ধরে নিতে চাইলে তাঁর মা–বাবা বাধা দেন। এ সময় ধস্তাধস্তির মধ্যে সুজন পালিয়ে যান। পরে বাবা সুরুজ মিয়া ও জোছনা বেগমকে ধরে কাউসারের বাড়ির উঠানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চুরির অভিযোগে আরও দুজনকে আনা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কেন্দুয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ নায়েব আলীর উপস্থিতিতে সালিসে সুরুজ মিয়াসহ তিনজনকে বেঁধে মারধর করা হয়। সুরুজকে বাঁচাতে গেলে জোছনাকেও মারধর ও অপমান করা হয়। একপর্যায়ে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার সকালে স্বামীকে ছাড়িয়ে আনতে গেলে আবারও অপমান ও নির্যাতনের শিকার হন জোছনা।
![]() |
| জোছনা বেগমের মরদেহ উদ্ধারের পর বাড়িতে স্বজনদের আহাজারি। আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
স্বজনদের ভাষ্য, সুরুজ মিয়াসহ তিনজনকে বেঁধে এলাকায় ঘোরানোর পর ইউনিয়ন পরিষদে নেওয়া হয়। এসব ঘটনায় অপমান সইতে না পেরে সকালে বাড়ি ফিরে ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন জোছনা। খবর পেয়ে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে জামালপুর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
সুরুজকে সরল মানুষ বলে দাবি করে তাঁর ভাই মোখলেছুর রহমান বলেন, ছেলের অপরাধ থাকলেও মা–বাবাকে এভাবে সবার সামনে মারধর করা ঠিক হয়নি। অপমান সইতে না পেরে জোছনা বেগম আত্মহত্যা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।
তবে মারধরের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ নায়েব আলী। তাঁর দাবি, সুজন এলাকায় চিহ্নিত চোর। তিনি মারধরের নির্দেশ দেননি। স্থানীয় লোকজন সুজনের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে ছিলেন। সেই ক্ষোভ থেকেই এমন ঘটনা ঘটেছে।
এ ছাড়া অভিযুক্ত কাউসার মিয়া ঘটনার পরপরই আত্মগোপনে গেছেন। এ কারণে তাঁর বক্তব্য নেওয়া যায়নি।
জামালপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, সুজনের মা–বাবাকে ধরে মারধরের বিষয়টি আগে পুলিশকে জানানো হয়নি। তাঁর মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


Comments
Comments