বৃষ্টিতে স্বস্তি রাজশাহীর আমচাষিদের
![]() |
| রাজশাহীতে রোববার রাতে ৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটি আমের জন্য উপকারী বলে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। আজ সোমবার নগরের মোহনপুর এলাকায় বৃষ্টির পর আমগাছের চিত্র | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
রাজশাহীতে রোববার রাতে ৫ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ ও কৃষকদের মতে, এই বৃষ্টি রাজশাহীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফল আমের জন্য উপকারী।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার সূত্রে জানা গেছে, মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহে তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বাড়তে শুরু করেছে। গত শনিবার রাজশাহীতে এই মৌসুমের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তীব্র গরমের মধ্যে রোববার দিনভর আকাশ মেঘাচ্ছন্ন ছিল। পরে রাত ৯টার দিকে হালকা ঝড়ের সঙ্গে বৃষ্টি শুরু হয়। রাত ১১টা পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি শূন্য দশমিক ১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছিল।
রাজশাহী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের দায়িত্বে থাকা আবহাওয়া পর্যবেক্ষক রহিদুল ইসলাম বলেন, এ সময়ে কালবৈশাখীর কারণে বৃষ্টি হয়। তখন তাপমাত্রা কিছুটা কমে আসে, পরে আবার বাড়ে। এগুলো এই মৌসুমের স্বাভাবিক ঘটনা।
এদিকে কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই বৃষ্টি আমের জন্য উপকারী। তাঁদের ভাষ্য, এই সময়ে আমগাছে আলাদা করে সেচ দিতে হয়। নিয়মিত বৃষ্টি না হলে আমের গুটি ঝরে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। আবার বর্তমানে ডিজেল পেতেও কৃষকদের বেগ পেতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে এই বৃষ্টি কৃষকদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
পুঠিয়ার আমচাষি মাহবুব ইসলাম বলেন, এ বছর গাছগুলোতে প্রচুর মুকুল এসেছে। তাঁর প্রতিটি গাছে সেচ দিতে হতো। গত রাতে বৃষ্টি হওয়ায় কয়েক দিন সেচ দিতে হবে না। এই বৃষ্টির পর আমের গুটি দেখা যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, এতে বোঁটা শক্ত হবে। এখন একবার স্প্রে করতে হবে।
রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ বছর জেলায় ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। যেখানে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬০০ মেট্রিক টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।
অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, রাজশাহীর কোথাও একটু বেশি, কোথাও কম বৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের হিসাবে গড় বৃষ্টি হয়েছে ২ দশমিক ৩২ মিলিমিটার। এই বৃষ্টি আমের জন্য খুবই উপকারী হয়েছে। এ বৃষ্টিতে পানি জমে না থাকায় মাঠে থাকা আলু ও গমের কোনো ক্ষতিও হবে না।

Comments
Comments