ধর্ষণের পর ফাঁসিতে ঝোলানো অবস্থায় মিলল শিশুর মরদেহ
| শিশু ধর্ষণ | প্রতীকী ছবি |
নেত্রকোনার বারহাট্টায় ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার দুপুরে উপজেলার একটি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত শিশুটি স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। এই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ চার কিশোর ও দুই তরুণকে আটক করেছে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, শুক্রবার দুপুর আড়াইটার দিকে শিশুটিকে খাবার খেতে দিয়ে তার মা বাড়ির সামনের মাঠ থেকে ছাগল আনতে গিয়েছিলেন। প্রায় আধা ঘণ্টা পর ঘরে ফিরে তিনি দেখেন, গলায় ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় ঘরের আড়ার সঙ্গে মেয়ের নিরাবরণ দেহ ঝুলছে। তাঁর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিশুটি তিন ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়। তার বাবা পেশায় একজন অটোরিকশা চালক। ঘটনার সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। শিশুটির মা কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, ‘মেয়েরে ভাত বেড়ে দিয়ে ছাগল আনতে গিয়েছিলাম। যাওয়ার সময় পাশের দোকানের কাছে তিনজন ছেলেকে দেখেছিলাম। ফিরে আসার সময় তাদের আর দেখিনি। ঘরে গিয়ে আমার মেয়ের ঝুলন্ত দেহ দেখতে পাই। যারা আমার ছোট্ট শিশুটার সাথে এই কাজ করেছে, আমি তাদের ফাঁসি চাই।’
নেত্রকোনার পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম শুক্রবার রাতে জানান, বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয়বিদারক। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। যারা এই জঘন্য কাজ করেছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সজল সরকারসহ পুলিশের একাধিক দল এই ঘটনায় কাজ করছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এরই মধ্যে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনের বয়স ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে এবং বাকি দুজনের বয়স ২২ বছর। পুলিশ আশা করছে, খুব দ্রুতই প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
Comments
Comments