[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

সংসদে নারী প্রতিনিধিত্ব নিয়ে জলি তালুকদারের উদ্বেগ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
নারী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন সিপিবির প্রেসিডিয়াম সদস্য জলি তালুকদার। জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা; ৭ মার্চ ২০২৬ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন   

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রায় ২ হাজার প্রার্থীর মধ্যে নারী ছিলেন মাত্র ৮৭ জন। তাঁদের মধ্যে নির্বাচিত হয়েছেন সাতজন। আর বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন তিনজন নারী। অথচ মোট ভোটারের ৫১ শতাংশ বা তার বেশি নারী। রাজনীতির এই চিত্র এবং সংসদের এই অবস্থা যদি পরিবর্তন করা না যায়, তাহলে নারীর অবস্থার কোনো উন্নতি হবে না।

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জলি তালুকদার এসব কথা বলেন। ‘আক্রমণ, বিদ্বেষ, আধিপত্যের বিরুদ্ধে নারীর সংগ্রাম ও আগামীর বাংলাদেশ’ শিরোনামে সিপিবির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা এই সভার আয়োজন করে। সভায় তিনি সভাপতিত্ব করেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নেত্রকোনা-৪ আসনে সিপিবির প্রার্থী ছিলেন জলি তালুকদার। সেই অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে সভায় তিনি বলেন, টাকা দিয়ে ভোট কেনা এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও প্রশাসনিক কারসাজির সঙ্গে নারীরা পেরে ওঠেন না।

নারীদের পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখা হয় মন্তব্য করে সিপিবির এই নেত্রী বলেন, সংসদে সংরক্ষিত আসনে ৫০ জন নারীকে পুরুষতান্ত্রিক নেতারাই পছন্দ করে বসান। এ ক্ষেত্রে তিনি সরাসরি নির্বাচনের দাবি জানান।

জলি তালুকদার আরও বলেন, দেশে ধর্ষণ ও নির্যাতনের ঘটনার পেছনের মূল কারণ আসলে রাজনীতি। একটি দেশের বা রাষ্ট্রের রাজনীতির চরিত্র কেমন, তার ওপরই নির্ভর করে সেখানে নারীদের অবস্থা কেমন হবে।

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে সরকারি দলে যাঁরা আছেন, তাঁদের আমরা চিনি। আর বিরোধী দলে যাঁরা আছেন, তাঁরা তো মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী ও ঘাতক শক্তি। আমাদের লাখো মা-বোনকে নির্যাতন ও নিপীড়নের সঙ্গে তাঁরা যুক্ত ছিলেন। তাঁরাই এখন বিরোধী দলে চলে গেছেন।’

প্রগতিশীল দলগুলোর আওয়ামী লীগ বা বিএনপির সঙ্গে থাকার প্রবণতার বিরোধিতা করে তিনি বলেন, ‘আজকে আপনি জামায়াতের বিরুদ্ধে ভোট দিয়ে বিএনপিকে জয়ী করে দেশ বাঁচিয়েছেন! এটাকে কি দেশ বাঁচানো বলে? এর চেয়ে যদি নারী আন্দোলনের ক্ষেত্রেও আমরা একটি বিকল্প ধারা গড়ে তুলতে পারতাম, তবে দেশের অবস্থার পরিবর্তন হতো।’

তিন জায়গায় হয়রানির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান
সিপিবি আয়োজিত আলোচনা সভায় অংশ নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, বাংলাদেশে ক্ষমতার পরিবর্তন হয়, দেশও সামনের দিকে এগোচ্ছে। কিন্তু এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিহিংসা ও হয়রানির রাজনীতি এবং বাস্তবতা চলতেই থাকে। তিনি আরও বলেন, ‘সব ধরনের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে। আমরা যাদের পছন্দ করি না, তাদের সঙ্গে অন্যায় হলেও পাশে দাঁড়াতে হবে।’

সারা হোসেন উল্লেখ করেন, সাধারণ মানুষের চলাচলের জায়গা (জনপরিসর), কাজের জায়গা ও পরিবার—এই তিনটি জায়গাতেই হয়রানির বিরুদ্ধে নারীসহ সবাইকে লড়াই করতে হবে। সেই সঙ্গে বৈষম্য দূর করতে সবাইকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভার শুরুতে একটি ধারণাপত্র তুলে ধরেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাচ্যকলা বিভাগের শিক্ষক দীপ্তি দত্ত। সভায় আরও বক্তব্য দেন চিকিৎসক আখতার বানু, সিপিবি ও কৃষক সমিতির সদস্য লাকী আক্তার, সিপিবির ঢাকা দক্ষিণ শাখার নারী সম্পাদক মমতা চক্রবর্তী এবং বস্তিবাসী ইউনিয়নের সভাপতি কুলসুম বেগম প্রমুখ। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন