[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

নদীতে ৬০০ লাশের পরিচয় কী, উঠছে নানা প্রশ্ন?

প্রকাশঃ
অ+ অ-
নদীপথে টহল দিচ্ছে নৌ পুলিশ  | ফাইল ছবি

দেশের বিভিন্ন নদী থেকে মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা বাড়ছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে হত্যাকাণ্ড অন্য কোথাও ঘটলেও তথ্য-প্রমাণ লোপাট ও আইনের চোখ ফাঁকি দিতে অপরাধীরা মরদেহ নদীতে ফেলে দিচ্ছে।

নৌপুলিশের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত বছর দেশের বিভিন্ন নদী থেকে অন্তত ৩০১ জন নারী, পুরুষ ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগের বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালে উদ্ধার হয়েছিল অন্তত ৪৪০টি মরদেহ। গত পাঁচ বছরে নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে ৬০০টিরও বেশি মরদেহের পরিচয় এখনো মেলেনি। এসব ঘটনার মধ্যে ১৫০টির বেশি হত্যা মামলার তদন্ত চলছে।

জানা গেছে, গত বছরের ২৮ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে একটি মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) সহায়তায় আঙুলের ছাপ মিলিয়ে নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। নিহতের নাম হাবিব (২৭)। তিনি সোনারগাঁ উপজেলার মধ্য কাঁচপুর এলাকার বাসিন্দা। তবে তার বিচ্ছিন্ন মাথাটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পরিচয় শনাক্তের পর মামলাটির তদন্তভার পিবিআইয়ের কাছে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় অন্তত চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

এদিকে গত বছরের ২৩ আগস্ট বুড়িগঙ্গা নদী থেকে এক অজ্ঞাত নারী ও শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে জানা যায়, শ্বাসরোধ করে হত্যার পর মরদেহ দুটি নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছিল। এই ঘটনায় সদরঘাট নৌ থানায় হত্যা মামলা হয়েছে। ঘটনার ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তাদের পরিচয় জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় আঙুলের ছাপ নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তাদের শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তবে নিহত দুজনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে রাখা হয়েছে। কোনো নিখোঁজ ব্যক্তির তথ্যের সঙ্গে তা মিলিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি বিভিন্ন থানায় করা নিখোঁজ সংবাদের (জিডি) তথ্যও যাচাই করা হচ্ছে।

সদরঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সোহাগ রানা বলেন, নিহতদের পরিচয় এখনো জানা যায়নি। পরিচয় নিশ্চিত হওয়া না গেলে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। নদী থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে গ্রেপ্তার এড়াতেই অপরাধীরা মরদেহ নদীতে ফেলে দেয়।

নৌপুলিশ সদর দপ্তরের পুলিশ সুপার (গোয়েন্দা শাখা) মারুফা ইয়াসমিন জানান, ২০২১ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন নদী থেকে মোট ২ হাজার ৬৪টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার ৪২৫টির পরিচয় শনাক্ত করা গেলেও ৬৩৯টির পরিচয় এখনো অজানা। পরিচয়হীন এসব ঘটনার মধ্যে ১৫৪টি হত্যা মামলা হয়েছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা জানান, পানিতে দীর্ঘ সময় থাকলে মরদেহ পচে যায় এবং গুরুত্বপূর্ণ আলামত নষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় মাছের কামড় বা নৌযানের আঘাতে তৈরি হওয়া ক্ষত দেখে তদন্ত কর্মকর্তা ও চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বিভ্রান্ত হতে পারেন। প্রাথমিকভাবে হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া না গেলে পুলিশ সাধারণত অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা করে। পরে তদন্ত বা ময়নাতদন্তে হত্যার প্রমাণ মিললে তা হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ও অপরাধ বিশ্লেষক তৌহিদুল হক বলেন, অপরাধীরা প্রমাণ নষ্ট করতে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করতে হত্যার পর মরদেহ নদী বা রেলপথের আশপাশে ফেলে দেয়। সাধারণত সংঘবদ্ধ অপরাধের ক্ষেত্রেই এমন পরিকল্পনা দেখা যায়। অনেক সময় হত্যার আগেই মরদেহ কোথায় ফেলা হবে, তা ঠিক করে রাখা হয়।

ঢাকা জেলা নৌপুলিশের পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, কোনো মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা না গেলে আদালতে ‘ঘটনা সত্য, তবে জড়িত ব্যক্তি শনাক্ত হয়নি’—এই মর্মে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়। তবে ডিএনএ নমুনা সংরক্ষিত থাকে। ভবিষ্যতে নতুন কোনো সূত্র পাওয়া গেলে সেই মামলার তদন্ত আবারও শুরু করা হয়। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন