[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

শাবিপ্রবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে নতুন নিয়ম, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ

প্রকাশঃ
অ+ অ-
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় | ফাইল ছবি

ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের মান-সম্মান নষ্ট হয়—শিক্ষার্থীরা এমন কোনো বার্তা বা লেখা পোস্ট করলে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেবে সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৬ সালের ডায়েরিতে শৃঙ্খলা রক্ষা নীতিমালা অংশে এই বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে নীতিনির্ধারণী সভায় নতুন এই নীতিমালা অনুমোদন দেওয়া হয়।

সোমবার বিকেলে বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে বেশ আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ এই পদক্ষেপকে ‘মত প্রকাশের পথে বাধা’ এবং ‘ব্যক্তিগত স্বাধীনতায়’ হস্তক্ষেপ বলে মনে করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের শৃঙ্খলা রক্ষা নীতিমালায় শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনার ৯, ১০ ও ১২ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে কারও গঠনমূলক সমালোচনা করা যাবে। তবে শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকতে হবে। কাউকেই ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা যাবে না। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে নিয়ে মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো বা লেখার মাধ্যমে অপমান করা যাবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের মান ক্ষুণ্ন হয় এমন কিছু পোস্ট করা যাবে না। কেউ যদি তা করেন, তবে শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে, অনুমতি ছাড়া ওয়েবসাইট কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম ও লোগো ব্যবহার করে কোনো অ্যাকাউন্ট, পেজ বা ইউটিউব চ্যানেল চালানো যাবে না। কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে নাম ও লোগো ব্যবহার করা গেলেও পরিচালনাকারীদের বিস্তারিত তথ্য জমা দিতে হবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা পড়ালেখা শেষ করার পর আর ওই সব পাতার পরিচালক (অ্যাডমিন) হিসেবে থাকতে পারবেন না।

ফেসবুকে এই বিষয়ের সমালোচনা করে ছাত্রদল নেতা মো. আফফান লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের সমালোচনা করা যাবে না বা মান ক্ষুণ্ন হবে—এমন কিছু লেখা যাবে না, এটা মানা কঠিন। তিনি এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন।

কেন্দ্রীয় ছাত্রসংসদের (শাকসু) সাধারণ সম্পাদক পদপ্রার্থী সাইফুর রহমান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো অন্যায় বা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বললেও তো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হতে পারে, তাহলে কি প্রতিবাদকারীদের বহিষ্কার করা হবে?

কেমিকৌশল ও পলিমার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রাশিদ আবরার লিখেছেন, শিক্ষার্থীরা নিজেদের স্বাধীনমতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখবে। অন্যায়, অসংগতি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কথা বলবেই। কোনো হুমকি বা চোখ রাঙানিতে শিক্ষার্থীরা প্রভাবিত হবে না।

এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মোখলেসুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীরা যেভাবে বিষয়টি ভাবছে প্রকৃতপক্ষে তা নয়। মূল উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীরা যেন গঠনমূলক সমালোচনা করে এবং কাউকে ব্যক্তিগত আক্রমণ না করে। সমালোচনার শব্দ ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাদের সতর্ক করাই আসল বার্তা। ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ে দুর্নীতি বা অনিয়ম হলে শিক্ষার্থীরা অবশ্যই সমালোচনা করবে।

নতুন নিয়ম পরিবর্তন বা পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না—জানতে চাইলে প্রক্টর বলেন, নতুন নিয়ম নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রতিক্রিয়া আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। এখনো এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন