[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

নদী দেখাতে মেয়েকে নিয়ে নামেন বাবা, বাসেই ছিলেন স্ত্রী ও সাত মাসের ছেলে

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ফেরির অপেক্ষায় থাকা বাসটি পন্টুন থেকে নদীতে পড়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। আজ বুধবার বিকেলে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে | ছবি: ভিডিও থেকে সংগৃহীত

ঈদের ছুটি শেষে পরিবার নিয়ে ঢাকায় কর্মস্থলে ফিরছিলেন নুরুজ্জামান। তার বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলার কচুয়া ইউনিয়নের খোন্দকবাড়িয়া গ্রামে। বাড়ি থেকে কাছে হওয়ায় বুধবার দুপুরে কুমারখালী থেকে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসে উঠেছিলেন।

কুমারখালী পৌরবাস টার্মিনালের সৌহার্দ্য পরিবহনের কাউন্টারে নুরুজ্জামানের মুঠোফোন নম্বর পাওয়া গেছে। রাত সাড়ে নয়টার দিকে তার সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি ফোন ধরেন। নুরুজ্জামান জানান, তিনি চার বছরের মেয়ে নূরে জান্নাতকে নিয়ে পদ্মাপাড়ে বসে আছেন, স্ত্রী ও সন্তানের জন্য আশায়।

ঢাকার মিরপুরে একটি হাসপাতালে চাকরি করেন নুরুজ্জামান। ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটে বাসটি ফেরির অপেক্ষায় ছিল। এই সময় তিনি চার বছরের মেয়ে নূরে জান্নাতকে পদ্মা নদী দেখাতে বাস থেকে নামান। বাসের ভেতরে সাত মাসের ছেলে নাজিফ বিন জামানকে কোলে নিয়ে ছিলেন স্ত্রী আয়েশা আক্তার। কিছুক্ষণের মধ্যে বাসটি ফেরিতে উঠার জন্য এগোতে গিয়ে পানিতে পড়ে যায়।

রাজবাড়ীর দৌলতদিয়ায় পদ্মা নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি যাত্রা শুরু করেছিল কুষ্টিয়ার কুমারখালি থেকে। ঢাকার উদ্দেশ্যে ছাড়ার সময় বাসটিতে মাত্র ছয়জন যাত্রী (দুটি শিশু ছাড়া) ছিলেন। পরে বিভিন্ন কাউন্টারে আরও যাত্রী ওঠেন। সবমিলিয়ে কাউন্টারমাস্টারের তথ্য অনুযায়ী বাসটিতে কমপক্ষে ৫০ জন যাত্রী ছিলেন। দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

তদন্তে জানা গেছে, প্রতিদিন বেলা ২টা ২০ মিনিটে সৌহার্দ্য পরিবহনের বাসটি কুমারখালি পৌরবাস টার্মিনাল থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয়। বুধবার বেলা ২টা ২০ মিনিটেও কুমারখালী থেকে দুটি পরিবারের ছয়টি টিকিটে, দুটি শিশুসহ আটজন যাত্রী নিয়ে বাসটি ছাড়ে।

কুমারখালী থেকে বাসে ওঠা যাত্রীদের মধ্যে ছিলেন গিয়াস উদ্দিন রিপন (৪৫), তার স্ত্রী লিটা খাতুন (৩৭) এবং সন্তানরা আবুল কাসেম সাফি (১৭) ও আয়েশা বিনতে গিয়াস (১৩)। গিয়াস খোকসা উপজেলার শোমসপুর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কুমারখালী পৌর ভবন এলাকার মৃত বকুল বিশ্বাসের জামাতা। শ্বশুরবাড়িতে ঈদের ছুটি কাটিয়ে পরিবার নিয়ে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ঢাকার তাকওয়া ফুড প্রোডাক্টের কারখানায় ফিরছিলেন।

গিয়াসের শ্যালক রাকিব হোসেন জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে তার বড় ভাই ইমরুল হোসেন দৌলতদিয়ায় গেছেন। তার দুলাভাই, বোন ও এক ভাগনে বেঁচে আছেন। তবে আয়েশা বিনতে গিয়াস এখনও নিখোঁজ।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন