‘দু-চার টাকা লাভের জন্যই তেল লুকিয়েছিলাম’, জানালেন দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যবসায়ী
![]() |
| মজুত রাখা তেল দোকানে বিক্রি করা হচ্ছে। আজ রোববার দুপুরে নাটোরের সিংড়া বাজারে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
‘দেশে তেলের সংকট হয়েছে, তাই ব্যবসায়ী হিসেবে দু-চার টাকা বাড়তি লাভের জন্য তেল লুকিয়ে রেখেছিলাম।’ নাটোরর সিংড়ায় বাঁশঝাড়ের নিচে পানির ট্যাংকে ১০ হাজার লিটার জ্বালানি তেল লুকিয়ে রাখা সেই ব্যবসায়ী রুবেল হোসেন রোববার দুপুরে এ কথা বলেন। প্রশাসনের নির্দেশে সকাল থেকেই তিনি মাটির নিচে জমিয়ে রাখা তেল তুলে দোকানে এনে ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করছেন। ভবিষ্যতে আর এমন কাজ করবেন না বলেও অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
রোববার দুপুরে সিংড়া বাজারের থানা মোড়ে ‘সততা ট্রেডার্স’ নামের দোকানে গিয়ে ব্যবসায়ী রুবেল হোসেনের সঙ্গে কথা হয়। তখন তিনি একজন কৃষকের কাছে ডিজেল বিক্রি করছিলেন। আরও কয়েকজন ক্রেতা সেখানে জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। দোকানে তেলভর্তি অর্ধশত ড্রাম (ব্যারেল) সাজিয়ে রাখা আছে। সেখান থেকেই তিনি যন্ত্রের (পাম্প) মাধ্যমে তেল বিক্রি করছিলেন।
এর আগেও এমন কাজ করেছিলেন কি না, জানতে চাইলে রুবেল হোসেন বলেন, ‘আমার বাবাও তেল বিক্রি করতেন। আমি ২০০৩ সাল থেকে এই ব্যবসায় আছি। তেল জমিয়ে রেখে খুচরা বিক্রির লাইসেন্স আমাদের আছে। কিন্তু কখনোই মাটির নিচে তেল জমিয়ে রাখিনি বা জরিমানা দিইনি। এবার তেলের সংকট দেখে ভেবেছিলাম কিছু তেল জমিয়ে রাখি।’ ভবিষ্যতে আবারও এমনটা করবেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আর কখনোই না। আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের দুর্নাম হয়ে গেছে।’
রুবেল হোসেন আরও জানান, ‘উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে সকালে মাটির নিচ থেকে ডিজেল তুলে এনে বিক্রি করছি। এখন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ হাজার লিটার বিক্রি হয়েছে। সরকার নির্ধারিত দামেই কৃষকদের কাছে তেল বেচছি।’ এত বড় তেলের পাত্র কোথায় পেলেন, জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নাটোর-বগুড়া সড়কের কাজ চলছে। রাস্তার ঠিকাদার পানি দেওয়ার জন্য ট্যাংকটি রেখেছিলেন। চার হাজার টাকা ভাড়ায় ট্যাংকটি নিয়েছিলাম। সেটিও ফেরত দিয়েছি। ভাড়ার টাকাটাই লোকসান হলো।’
সততা ট্রেডার্সে তেল নিতে আসা স্থানীয় কৃষক বাছিরুল ইসলাম বলেন, রোববার তেল নিতে কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ঠিক দামেই তেল পাওয়া যাচ্ছে। তবে দোকান থেকে তেলের কোনো রসিদ (মেমো) দেওয়া হচ্ছে না।
সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবদুল্লাহ আল রিফাত জানান, ‘শনিবার মাটির নিচ থেকে তেল উদ্ধারের পর রুবেল হোসেনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই তেল তুলে এনে দোকানে বিক্রির নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সেই অনুযায়ী আমি রোববার সকালে তাঁর দোকানে গিয়ে তেল বিক্রির বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। তিনি সঠিক দামেই তেল বিক্রি করছেন।’
অপরাধের গুরুত্ব অনুযায়ী জরিমানার পরিমাণ (পাঁচ হাজার টাকা) কম হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পেট্রোলিয়াম আইন ২০১৬ অনুযায়ী ওই অপরাধের জন্য ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা অনধিক ১০ হাজার টাকা জরিমানা বা উভয় দণ্ডের বিধান রয়েছে। তাই আইন মেনেই এই জরিমানা করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, রোববার সকালেও উপজেলার বামিহাল বাজারের দুই তেল ব্যবসায়ীকে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

Comments
Comments