চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা করে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
চাঁদাবাজ ও অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করে আইনি ব্যবস্থা নিতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। দ্রুতই দেশজুড়ে বিশেষ করে রাজধানী ঢাকা থেকে এই অভিযান শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) সদর দপ্তরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান। ডিএমপি সদর দপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দুটি বিষয়কে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথমত, চাঁদাবাজদের তালিকা তৈরি করে তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। দ্বিতীয়ত, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী ও চিহ্নিত অপরাধীদের একটি নিরপেক্ষ ও নির্ভুল তালিকা করা হচ্ছে। যারা সমাজে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে, তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।
তালিকা তৈরির ক্ষেত্রে পুলিশকে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান মন্ত্রী। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে তিনি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও চেয়েছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের প্রধান লক্ষ্য হলো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা। এই লক্ষ্য পূরণে পুলিশের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মন্ত্রী আরও বলেন, বিগত এক স্বৈরতান্ত্রিক শাসনামলে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মতো পুলিশ বিভাগও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এটি পুরো প্রতিষ্ঠানের দায় নয়; বরং নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির কর্মকাণ্ডের কারণে বাহিনীর সুনাম নষ্ট হয়েছে। এখন থেকে পুলিশ কোনো ব্যক্তিনির্ভর নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিক নিয়ম অনুযায়ী চলবে।
মন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন, পুলিশ আইন অনুযায়ী কাজ করবে এবং কোনো ব্যক্তির অন্যায় আবদার বা নির্দেশ পালন করবে না। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা দায়িত্বশীলতা ও জবাবদিহির সঙ্গে বিভাগ পরিচালনার অঙ্গীকার করেছেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশের মানুষকে আশ্বস্ত করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, দেশে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের স্বস্তিতে বসবাসের পরিবেশ নিশ্চিতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।
এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও বিশ্বস্বীকৃত নির্বাচনের মাধ্যমে বর্তমান সরকার গঠিত হয়েছে। তাই আগের পরিস্থিতির সঙ্গে বর্তমান সময়ের তুলনা করা ঠিক হবে না।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মন্ত্রণালয়ে কাজের শৃঙ্খলা বা 'চেইন অব কমান্ড' প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কোনো নিম্নপদস্থ কর্মকর্তা যেন ঊর্ধ্বতনকে এড়িয়ে সরাসরি মন্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ না করেন, সেটি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে প্রয়োজনে মন্ত্রী, পুলিশ কমিশনার বা পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) যেকোনো স্তরে যোগাযোগ করতে পারবেন। নিচ থেকে ওপরে যোগাযোগের ক্ষেত্রে নিয়ম মানতে হবে, তবে ওপর থেকে নিচে প্রয়োজনে যেকোনো পর্যায়ে যোগাযোগ করা যাবে—এই বার্তা ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
ঢাকার যানজট প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটি একটি বড় সমস্যা। এ বিষয়ে একটি বিশেষ সেল বা কমিটি গঠন করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনারকে ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় করে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
ব্যাটারিচালিত রিকশার সংখ্যা অনিয়ন্ত্রিতভাবে বেড়ে গেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যেখানে ইঞ্জিনবিহীন যানবাহন চলাচল নিষিদ্ধ, সেই সব গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান সড়কেও এসব যান চলছে। পরীক্ষামূলকভাবে উত্তরা থেকে বিমানবন্দর সড়ক হয়ে সচিবালয়মুখী প্রধান সড়কে এসব যানের চলাচল সীমিত করা হবে। পরে পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সড়কেও একই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন, যানজটের পেছনে নাগরিকদের অসচেতনতাও দায়ী। অনেকেই ট্রাফিক সংকেত মানেন না এবং বাঁ দিকের লেন খালি রাখার নিয়ম অনুসরণ করেন না। জনসচেতনতা বাড়ানো এবং ট্রাফিক আইন মেনে চলার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর তিনি বিশেষ জোর দেন। সবার সহযোগিতা পেলে যানজট সমস্যার বড় অংশ সমাধান করা সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

Comments
Comments