জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে লক্ষ্য করে ষড়যন্ত্র হচ্ছে: নাহিদ ইসলাম
![]() |
| ফরিদপুরে এনসিপি আয়োজিত ইফতার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। শনিবার বিকেলে শহরের ঐতিহাসিক অম্বিকা ময়দানে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, গণমাধ্যমের সহায়তায় বিভিন্ন পরিকল্পনার মাধ্যমে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। ৫ আগস্টের পর এবং এই নির্বাচনের পর থেকে সরকারের মদত ও সবুজ সংকেতে আওয়ামী লীগকে বড় আকারে পুনর্বাসনের চেষ্টা চলছে। সেই লক্ষ্যে নানা খবর, তথ্য ও ভুল তথ্য ছড়ানো হচ্ছে। সারা দেশে বিভিন্ন উপায়ে স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
শনিবার বিকেলে ফরিদপুর শহরের ঐতিহাসিক অম্বিকা ময়দানে এনসিপি আয়োজিত ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। জেলা এনসিপির আহ্বায়ক বায়েজিদ হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা খুব পরিষ্কারভাবে বলতে চাই—স্বৈরাচারদের কোনো ক্ষমা নেই। স্বৈরাচার ও তাদের দোসরদের বিচার এই বাংলার মাটিতে হবেই, ইনশাআল্লাহ। এই পথে যারা বাধা হয়ে দাঁড়াবে, আমরা তাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াব। বাংলাদেশের মানুষ তাদের রুখে দেবে।’
মুক্তিযুদ্ধকে গৌরবময় ইতিহাসের অংশ উল্লেখ করে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘যারা মুক্তিযুদ্ধের আকাঙ্ক্ষাকে নষ্ট করেছে, সেই স্বৈরাচারীরা ১৬ বছর ধরে শেখ মুজিবুর রহমান, ৭ মার্চ ও মুক্তিযুদ্ধের নাম ব্যবহার করে তাদের সব অপকর্ম—লুটপাট, গণহত্যা, গুম ও খুনকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা করেছে। এ ধরনের অপচেষ্টাকারীদের আমরা হুঁশিয়ার করে দিতে চাই—এতে কোনো লাভ হবে না। সংস্কার, বিচার ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার পক্ষে আসুন।’
বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘মেঘ দেখলে বোঝা যায় বৃষ্টি হবে কি না। দিনের শুরুতেই আকাশ দেখলে বোঝা যায় দিনটা কেমন যাবে। এই সরকারের শুরু থেকেই বোঝা যাচ্ছে তারা দেশকে কোন দিকে নিতে চায় এবং কীভাবে চালাতে চায়।’ তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর একটি কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন হয়েছে। কিন্তু সেই নির্বাচনেও কলঙ্ক লাগানো হলো; নির্বাচনকে নানাভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করা হয়েছে।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘আমরা সবকিছু মেনে নিয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের নির্দেশনা অনুযায়ী দুটি শপথ নিয়েছি। কিন্তু সরকারি দল একটি শপথ নিয়েই নির্বাচনের পরপরই সবার আগে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জুলাই সনদের প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। যে গণভোট হয়েছে—যেখানে মানুষ বড় আকারে সংস্কারের পক্ষে রায় দিয়েছে, সেই গণভোটের বৈধতা নিয়েও তারা নানা ষড়যন্ত্র করছে। জুলাই সনদ বাস্তবায়নের নির্দেশ ও গণভোটের বৈধতাকে তারা আদালতে নিয়ে গেছে। সরকারি দলের আইনজীবীরা আদালতে এর বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন এবং আদালতের ওপর চাপ তৈরি করছেন।’
এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, ‘গত শাসনামলে আমরা দেখেছি কীভাবে বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও পুলিশসহ রাষ্ট্রীয় সব প্রতিষ্ঠানকে দলীয়করণ করা হয়েছিল। একই প্রবণতা আমরা এই সরকারের প্রথম এক মাস থেকেই দেখতে পাচ্ছি।’ তিনি বলেন, ‘আমরা এই সরকারের সঙ্গে ইতিবাচক মনোভাব নিয়ে কাজ করতে চেয়েছিলাম। আমরা দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকায় সংসদে ও সংসদের বাইরে থাকতে চেয়েছি, এখনো চাই। কিন্তু তার জন্য সরকারকেও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।’
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আগামী ১২ তারিখ অধিবেশন শুরু হবে। সেই অধিবেশনের শুরুতেই সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নিতে হবে এবং স্বৈরাচারের রাষ্ট্রপতিকে সরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। এর অন্যথা হলে বা বিচ্যুতি ঘটলে, ১১ দল ও জাতীয় নাগরিক পার্টিকে নতুন সিদ্ধান্ত নিতে হবে।’
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এনসিপির উত্তরাঞ্চলের প্রধান সংগঠক সারজিস আলম, ফরিদপুর-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য ইলিয়াস মোল্লা, জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য আবদুত তাওয়াব, জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা বদরউদ্দিন, ফরিদপুর-২ আসনে ১১ দল সমর্থিত প্রার্থী শাহ আকরাম আলী, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের ফরিদপুরের সভাপতি আমজাদ হুসাইন আশ্রাফী, এনসিপির ফরিদপুর বিভাগীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক নিজামউদ্দিন এবং জাতীয় যুব শক্তির আহ্বায়ক তারিকুল ইসলামসহ আরও অনেকে।

Comments
Comments