১ হাজার ও ৫০০ টাকার জাল নোট তৈরি হচ্ছিল রামুর ভাড়া বাসায়
![]() |
| কক্সবাজারের রামুর একটি ভাড়া বাসায় তৈরি হচ্ছে জালনোট। শুক্রবার দুপুরে | ছবি: পুলিশের সৌজন্যে |
কক্সবাজারের রামুতে একটি ভাড়া বাসায় গোপনে ১ হাজার ও ৫০০ টাকার জাল নোট তৈরি করা হচ্ছিল। গত কয়েক দিনে সেখানে প্রায় পাঁচ লাখ টাকার জাল নোট তৈরি করা হয়েছে। ঈদের বাজারে এসব নোট ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে সেই সুযোগ পাওয়ার আগেই অভিযান চালিয়ে জাল নোট তৈরির কারিগরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে রামু উপজেলার ফতেখাঁরকুল ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম মেরুংলোয়া আমতলিয়াপাড়ার একটি বাড়িতে অভিযান চালায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ সময় প্রায় পাঁচ লাখ টাকার জাল নোট ও নোট তৈরির সরঞ্জামসহ মোহাম্মদ ইমরান (২৩) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়। ইমরান যশোর সদর উপজেলার খোলাডাঙ্গা এলাকার লুৎফুর রহমানের ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই অপকর্মের সঙ্গে জড়িত।
জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মছিউর রহমান বলেন, রামুর আমতলিয়াপাড়ার বাসিন্দা বাবুল বড়ুয়ার ভাড়া বাসায় জাল নোট তৈরি করা হচ্ছিল। গোপন খবরের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় একটি কক্ষ থেকে ১ হাজার ও ৫০০ টাকার প্রায় পাঁচ লাখ টাকার জাল নোট এবং নোট তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ সময় ইমরানকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ইমরান স্বীকার করেছেন যে, তিনি জাল নোট তৈরি করে ঈদের বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, এই চক্রের পেছনে আরও অনেকে জড়িত থাকতে পারে এবং তাদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে। গ্রেপ্তার ইমরানকে সন্ধ্যায় কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হয়েছে।
পুলিশ ও র্যাব কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা গেছে, রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে প্রতিবছর টেকনাফ, উখিয়া, রামু, চকরিয়াসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় জাল নোট ছড়িয়ে পড়ে। বেশ কয়েকটি চক্র কমিশনের ভিত্তিতে এসব জাল নোট বাজারে ছড়ায়। এই কাজে নারী-পুরুষসহ শতাধিক ব্যক্তি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ১৯ এপ্রিল রাতে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কের রামুর মরিচ্যা তল্লাশিচৌকিতে অভিযান চালিয়ে বিজিবি সদস্যরা ২ লাখ ৪৯ হাজার টাকার জাল নোট জব্দ করেন। সে সময় জাল নোট পাচারের অভিযোগে রামুর কাউয়ারকুপ ইউনিয়নের সদস্য মোহাম্মদ হাসানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
এছাড়া একই বছরের ২২ এপ্রিল বিকেলে র্যাব-১৫ চকরিয়া উপজেলার খুটাখালী ইউনিয়নের গর্জনতলী এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে কয়েক লাখ টাকার জাল নোট ও সরঞ্জামসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁরা হলেন গর্জনতলী এলাকার মো. সুলতান ও ঈদগাঁও উপজেলার জাফর আলম।
র্যাব-১৫ কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক ও সহকারী পুলিশ সুপার আ ম ফারুক বলেন, সম্প্রতি কক্সবাজারের বিভিন্ন জায়গায় অস্থায়ী কারখানা বসিয়ে জাল নোট তৈরির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। বেশ কিছু সংঘবদ্ধ চক্র এর সঙ্গে জড়িত। এ বিষয়ে র্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সজাগ রয়েছে।

Comments
Comments