ঝিনাইদহে তেল নিতে গিয়ে ফিলিং স্টেশনের কর্মীদের মারধরে তরুণ নিহত
![]() |
| নিরব আহমেদের মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালে লোকজনের ভিড়। শনিবার রাতে ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
ঝিনাইদহে জ্বালানি তেল নিতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়ে এক তরুণ নিহত হয়েছেন। শনিবার রাত পৌনে ৯টার দিকে ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার একটি জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্রে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত নিরব আহমেদের (২২) বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার বারোবাজার এলাকায়। তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতে নিরব তাঁর দুজন বন্ধুসহ মোটরসাইকেলে তেল নিতে যান। কিন্তু কেন্দ্রের বিক্রয়কর্মীরা তাঁকে তেল দেননি। তবে কিছুক্ষণ পরেই কেন্দ্রের কর্মীরা বোতলে তেল ভরছিলেন। সেটা দেখে তিনি জানতে চান কেন বোতলে তেল ভরা হচ্ছে এবং তাঁকে কেন তেল দেওয়া হয়নি। এ নিয়ে বিক্রয়কর্মীদের সঙ্গে তাঁর কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে কর্মীরা তাঁকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধর শুরু করেন। পরে বন্ধুরা তাঁকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঝিনাইদহ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক সব্যসাচী পাল সুমন বলেন, মুমূর্ষু অবস্থায় নিরব নামের এক রোগীকে হাসপাতালে আনা হয়। তাঁর কাঁধ ও মাথার পেছনে ফোলা জখম ছিল। রাত ৯টা ৫ মিনিটে পরীক্ষা করে তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
ঝিনাইদহ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজ হোসেন বলেন, তাজ ফিলিং স্টেশনে মোটরসাইকেলের তেল নিতে গেলে সেখানকার কর্মীদের সঙ্গে নিরবের হট্টগোল বাধে। একপর্যায়ে কর্মীরা তাঁকে পিটিয়ে আহত করেন। হাসপাতালে নেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি মারা যান। তিনি জানান, ওই প্রতিষ্ঠানের তিন কর্মীকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
ঝিনাইদহ জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক সাইদুর রহমান বলেন, আন্দোলনের সময় নিরব প্রথম সারিতে সক্রিয় ছিলেন। তিনি শহরের আদর্শপাড়ার বকুলতলা এলাকার একটি ছাত্রাবাসে থাকতেন।

Comments
Comments