[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

প্রস্তুত ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ, থাকবে ৫ স্তরের কড়া নিরাপত্তা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
১৯৯তম ঈদুল ফিতরের জামায়াতের জন্য প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক শোলাকিয়া ঈদগাহ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

ঈদুল ফিতরের জামাতের জন্য প্রস্তুত কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। এবার সেখানে অনুষ্ঠিত হবে ১৯৯তম ঈদের জামাত। মুসল্লিদের নিরাপত্তার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পাঁচ স্তরের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঐতিহ্যবাহী এ জামাতকে কেন্দ্র করে নেওয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা। ঈদের দিন ঈদগাহে আসা প্রতিটি রাস্তায় থাকবে তল্লাশিচৌকি। মোতায়েন থাকবে বিপুলসংখ্যক র‌্যাব, পুলিশ, বিজিবি ও আনসার। সাদাপোশাকে দায়িত্ব পালন করবেন বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার সদস্য। সব মিলিয়ে প্রায় দেড় হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী শোলাকিয়ায় দায়িত্বে থাকবেন। মাঠে ইতিমধ্যেই স্থাপন করা হয়েছে ছয়টি ওয়াচ টাওয়ার। এছাড়া জামাত চলাকালীন ক্যামেরাযুক্ত চারটি ড্রোন মুসল্লিদের নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ করবে। তিনটি আর্চওয়ের মাধ্যমে মেটাল ডিটেক্টরের তল্লাশি শেষে মুসল্লিদের মাঠে প্রবেশ করানো হবে।

ঈদগাহে মুসল্লিরা শুধু জায়নামাজ ও জরুরি প্রয়োজনে মুঠোফোন নিয়ে প্রবেশ করতে পারবেন। ছাতা, ব্যাগ ও অন্যান্য ডিভাইস সঙ্গে নেওয়া নিষিদ্ধ।

মুসল্লিদের নির্বিঘ্নে জামাত আদায়ের সুবিধার্থে মাঠ পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। সারির দাগ কাটা হয়েছে। সীমানাপ্রাচীরসহ মাঠের ভেতরের গাছগুলোকে রং করা হয়েছে। মিম্বরের চারপাশ আলোকসজ্জা করা হয়েছে। স্থায়ী অজুখানার পাশাপাশি অস্থায়ী অজুখানারও ব্যবস্থা করা হয়েছে। সুপেয় পানির জন্য মাঠ ও আশপাশে টিউবওয়েল ও পানির ট্যাংক স্থাপন করা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনের জন্য পর্যাপ্ত অস্থায়ী টয়লেটের ব্যবস্থা রয়েছে। মুসল্লিদের স্বাগত জানানোর জন্য নির্মাণ করা হয়েছে কয়েকটি তোরণ।

শোলাকিয়া ঈদগাহে আগত মুসল্লিদের সুবিধার্থে ঈদের দিন কিশোরগঞ্জ-ময়মনসিংহ ও ভৈরব-কিশোরগঞ্জ লাইনে শোলাকিয়া এক্সপ্রেস নামে দুটি স্পেশাল ট্রেন চলবে।

ঈদের দিন সকাল ১০টায় জামাত শুরুর আগে তিনবার বন্দুকের ফাঁকা গুলি ছোড়া হয়। এরপর শুরু হবে ঈদুল ফিতরের জামাত। জামাতের ইমামতি করবেন জেলা শহরের বড় বাজার মসজিদের খতিব মুফতি আবুল খায়ের মোহাম্মদ ছাইফুল্লাহ। বিকল্প ইমাম থাকবেন হয়বতনগর এ. ইউ. কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক মাওলানা জুবায়ের ইবনে আবদুল হাই।

মাঠের ভেতরে জায়গার সীমিততার কারণে মূল মাঠের তিন পাশের রাস্তাঘাট, আশপাশের বাড়িঘরের ছাদ, উঠান ও নরসুন্দা নদীপাড়সহ বিভিন্ন জায়গায় আরও হাজার হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করেন।

ঈদের দিন বেলা ১১টার দিকে মাঠ পরিদর্শনে আসেন কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাজহারুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক ও ঈদগাহ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা, র‍্যাব-১৪ ময়মনসিংহের অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি নয়মুল হাসান ও পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, ‘ঈদের জামাতের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ। নিরাপত্তা নিশ্চিতে সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এবার মুসল্লির সংখ্যা আগের দিনের চেয়ে বেশি হবে বলে আশা করছি। দূরের মুসল্লিদের জন্য দুটি ঈদ স্পেশাল ট্রেন থাকবে।’

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘জামাতকে ঘিরে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা থাকবে। কয়েক লাখ মুসল্লি আসেন। এবার মুসল্লির সংখ্যা বাড়তে পারে। তার জন্য ৬টি ওয়াচ টাওয়ার, চারটি ড্রোন ও পর্যাপ্ত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সাদাপোশাকে পুলিশের তৎপরতাও থাকবে। মুসল্লিরা নিরাপদে নামাজ আদায় করতে পারবেন।’

জনশ্রুতি আছে, মুঘল আমলে এখানকার পরগনার রাজস্ব ছিল শ লাখ টাকা, অর্থাৎ এক কোটি টাকা। কালের বিবর্তনে শ লাখ থেকে বর্তমান শোলাকিয়া নামটি এসেছে। আরেক বিবরণে বলা আছে, ১৮২৮ সালে শোলাকিয়া ঈদগাহে সোয়া লাখ মুসল্লি একসঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করেন। এরপর থেকে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে। কিশোরগঞ্জের ইতিহাস ও ঐতিহ্য বইয়েও এ দুটি বর্ণনা পাওয়া যায়।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন