[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

নোয়াখালীতে জমে উঠেছে ঈদবাজার, নিম্নবিত্তের ভরসা ফুটপাত

প্রকাশঃ
অ+ অ-
নোয়াখালী জমে উঠেছে ঈদ বাজার। শপিং মল থেকে শুরু করে ফুটপাতের দোকান, সবখানেই ক্রেতার ভিড়। গতকাল জেলা শহর মাইজদী থেকে তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

‘ঈদ উপলক্ষে নিজের জন্য কিছু না কিনতে পারলেও ছেলেমেয়েদের জন্য তো কিছু না কিছু কিনতেই হয়। ওদের কিছু কিনে না দিলে মন খারাপ লাগে, নিজের কাছেও খারাপ লাগে। বড় মার্কেটে গিয়ে কেনার সামর্থ্য আমাদের নেই, তাই ফুটপাতের দোকানই ভরসা।’

কথাগুলো বলছিলেন নির্মাণশ্রমিক মো. রফিক (৫৫)। গত সোমবার নোয়াখালীর গণপূর্ত এলাকায় ফুটপাতের দোকানে সন্তানদের জন্য ঈদের নতুন জামা কেনার সময় তিনি এই কথা বলেন। শুধু রফিক নন, নোয়াখালীতে তাঁর মতো স্বল্প আয়ের মানুষের ঈদের কেনাকাটার প্রধান ঠিকানা এখন ফুটপাত। তাই প্রতিদিনই জেলা শহরের বিভিন্ন ফুটপাতে মানুষের ভিড় লেগে আছে।

সরেজমিনে জেলা শহর মাইজদী ও জেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চৌমুহনীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, বিপণিবিতানগুলোতে ঈদের বেচাকেনা জমে উঠেছে। প্রতিটি জায়গাতেই ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। কোনো কোনো বিপণিবিতানে ঢোকার পথেই এত ভিড় যে ভেতরে যাওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে। ফুটপাতের দোকানগুলোতেও একই চিত্র দেখা গেছে।

ঈদ উপলক্ষে বিপণিবিতানগুলোতে বাড়তি আলোকসজ্জা করা হয়েছে। দেশি-বিদেশি নানা পোশাকের পসরা সাজানো হয়েছে এসব দোকানে। তবে দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতাদের মধ্যে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে।

নোয়াখালী সুপারমার্কেটে দুই সন্তানকে নিয়ে কেনাকাটা করতে আসা গৃহিণী রোকেয়া বেগম বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার পোশাকের দাম অনেক বেশি। সন্তানের পছন্দের কারণে বেশি দাম দিয়েই পোশাক কিনতে হয়েছে। অনেক দোকানেই আসল দামের চেয়ে দ্বিগুণ দাম চাওয়া হচ্ছে, এতে ক্রেতারা বিভ্রান্ত হচ্ছেন।

তবে বাড়তি দাম নেওয়ার অভিযোগ ঠিক নয় বলে জানান নোয়াখালী সুপারমার্কেটের বিক্রেতা সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এবার বেচাকেনা কম। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে অনেক প্রবাসী টাকা পাঠাতে পারছেন না, ফলে প্রবাসী পরিবারগুলোর কেনাকাটায় এর প্রভাব পড়েছে।

কাছেই ফুটপাতে কথা হয় বিক্রেতা শাহ আলমের সঙ্গে। তিনি বলেন, তাঁদের ক্রেতারা মূলত নিম্ন আয়ের মানুষ। তাই দামাদামি বেশি হয়। তারপরও তুলনামূলক কম লাভে পণ্য বিক্রি করার চেষ্টা করেন তাঁরা, যাতে কেউ খালি হাতে ফিরে না যান।

ঈদবাজারকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। শহরের বড় বাজার ও শপিং মলগুলোতে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং নিয়মিত পাহারা দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন বলেন, ঈদে ক্রেতারা যাতে নির্বিঘ্নে কেনাকাটা করতে পারেন, সে জন্য বড় বিপণিবিতান ও শপিং মলে পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। পাশাপাশি সাদা পোশাকের পুলিশ ও গোয়েন্দারাও দায়িত্ব পালন করছেন।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন