পাগলা মসজিদে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার দুই সাংবাদিক
![]() |
| কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে নিলামের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হন দুই সাংবাদিক | ছবি: সংগৃহীত |
কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদে নিলামের সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন দুই সাংবাদিক। বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের পর মসজিদের নিলামঘরের সামনে এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় একটি সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা এই হামলা চালিয়েছে।
আহত সাংবাদিকরা হলেন—চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের জেলা প্রতিনিধি খায়রুল আলম ফয়সাল এবং গ্লোবাল টেলিভিশনের জেলা প্রতিনিধি ফয়জুল ইসলাম ভূঁইয়া পিংকু। আহত অবস্থায় তাঁদের কিশোরগঞ্জ সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। চিকিৎসা শেষে রাতে তাঁরা বাড়ি ফিরেছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রতিদিন আসরের নামাজের পর পাগলা মসজিদে মানুষের দান করা গরু-ছাগল ও হাঁস-মুরগিসহ বিভিন্ন সামগ্রী নিলামে তোলা হয়। এই নিলাম ঘিরে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্র গড়ে উঠেছে, যারা দীর্ঘদিন ধরে কম দামে এসব সামগ্রী কিনে আসছিল। এই অনিয়ম নিয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে বৃহস্পতিবার বিকেলে চারজন সাংবাদিক ঘটনাস্থলে যান। এ সময় হঠাৎ করেই একদল লোক উস্কানিমূলক পরিস্থিতি তৈরি করে তাঁদের ওপর হামলা চালায়। পরে মসজিদের নিরাপত্তাকর্মীদের (আনসার সদস্য) সহায়তায় তাঁদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন কিশোরগঞ্জের সাংবাদিক নেতারা। পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা ও হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। এই হামলার প্রতিবাদে শুক্রবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ শহরে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং জীবন ও মনা নামের দুই অভিযুক্তকে আটক করেছে। কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার এস এম ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, পাগলা মসজিদকে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটমুক্ত রাখতে প্রশাসন সবসময় সক্রিয়। সাংবাদিকদের ওপর হামলার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। অপরাধী যে-ই হোক, দ্রুত শাস্তির আওতায় আনা হবে।
উল্লেখ্য, প্রতিদিন আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত পাগলা মসজিদে দান করা জিনিসপত্র নিলাম করা হয়। হাজার হাজার মানুষ বিশ্বাস থেকে এখানে দান করেন। এই নিলাম দেখতে ও অংশ নিতে প্রতিদিন অনেক মানুষ ভিড় জমান।

Comments
Comments