সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো সাংবিধানিক অস্তিত্ব নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
![]() |
| স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলছেন | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সাংবিধানিকভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অস্তিত্ব নেই। রাষ্ট্রপতি এই পরিষদের কোনো অধিবেশন ডাকেননি। দুই দিন বিরতির পর আজ রোববার ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশনে যোগ দেওয়ার আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গণভোটের রায়কে সংবিধানে যুক্ত করতে হলে আগে সংবিধান সংশোধন করতে হবে। সেটি সংসদে আলোচনার মাধ্যমে হতে হবে। সংবিধান সংশোধন হওয়ার পর যদি পরিষদ বা ফোরাম গঠন কিংবা শপথ গ্রহণের বিষয় আসে, তবে সেটি পরের ব্যাপার। তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডেকেছেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের কোনো অধিবেশন ডাকেননি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘আমরা সাংবিধানিকভাবে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে অংশ নিচ্ছি। এখন জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার পরিষদ) এর সদস্য হিসেবে কেউ কেউ শপথ নিয়েছেন। বিষয়টির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। সেটি বিচার বিভাগের বিষয়। তবে সাংবিধানিকভাবে এমন কোনো পরিষদের অস্তিত্ব আমাদের সামনে নেই।’
পরে এই ইস্যুতে সংসদের অধিবেশনে অনির্ধারিত আলোচনায় সরকারি অবস্থানের কড়া সমালোচনা করেন বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তাঁর বক্তব্যের জবাবে সরকারি দল (ট্রেজারি বেঞ্চ) থেকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যের আইনি ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা কোন নিয়মে এই আলোচনা তুললেন? জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ নোটিশ ছাড়া এভাবে আলোচনা করা যায় না।
অধিবেশনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের কথা উল্লেখ করে বলেন, রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশের মাধ্যমে সংবিধান পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই। এই তথাকথিত ‘বাস্তবায়ন আদেশ’ আইন নাকি অধ্যাদেশ, তা পরিষ্কার নয়। যে সংস্কার পরিষদের অস্তিত্ব নিয়েই আইনি প্রশ্ন আছে এবং উচ্চ আদালত রুল জারি করেছেন, সেই পরিষদের অধিবেশন ডাকার জন্য প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে পরামর্শ দিতে পারেন না।
তিনি আরও বলেন, জনগণ জুলাই সনদের পক্ষে গণভোট দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু সেই রায় কার্যকর করার জন্য আগে সংবিধানে সংশোধন আনতে হবে। সার্বভৌম সংসদ কোনো অসাংবিধানিক পথে হাঁটতে পারে না। ‘আমরা সংস্কার চাই, তবে তা হতে হবে আইনানুগ ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায়। প্রয়োজন হলে বাজেট অধিবেশনে এই বিষয়ে বিল উত্থাপন করা যেতে পারে,’ বলেন তিনি।

Comments
Comments