ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ, বহিষ্কার চেয়ে নেতাকর্মীদের বিক্ষোভ
![]() |
| কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম-আহ্বায়ক ইয়াছিন আরাফাতের বিরুদ্ধে এলাকাবাসীর বিক্ষোভ। বুধবার বিকেলে উপজেলার কামারচর গ্রামে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে এলাকায় বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। তাঁর শাস্তির দাবিতে স্থানীয় বাসিন্দা ও বিএনপির সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেছেন। বুধবার বিকেলে উপজেলার কামাল্লা ইউনিয়নের কামারচর গ্রামে এ বিক্ষোভ হয়।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতার নাম ইয়াছিন আরাফাত। তিনি মুরাদনগর উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, দলীয় প্রভাব খাটিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি দেখানোসহ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এসবের প্রতিবাদ করলে ভুক্তভোগীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে।
বিক্ষোভে অংশ নেন কামারচর গ্রামের বাসিন্দা হালিমা বেগম, স্থানীয় বিএনপি নেতা খলিলুর রহমান, মাহবুব আলম, নাছির উদ্দীন নয়ন, কামাল উদ্দিন, কামাল্লা ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাদেকুর রহমান এবং কামাল্লা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক জামির হোসেনসহ অনেকে।
হালিমা বেগম অভিযোগ করেন, প্রায় দুই বছর আগে জমি বিক্রির কথা বলে তাঁর কাছ থেকে ১৭ লাখ টাকা নেন ইয়াছিন আরাফাত। কিন্তু এখন পর্যন্ত জমি বুঝিয়ে না দিয়ে উল্টো আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয়ভাবে বিচার চাইতে গেলে তিনি অপমান ও নির্যাতনের শিকার হন।
কামাল্লা ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক রিয়াজুল ইসলাম বলেন, এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে এলাকাবাসী ইয়াছিনকে হাতেনাতে আটক করেছিলেন। পরে তিনি আটককারীদের বিরুদ্ধেই থানায় মিথ্যা মামলা করেন।
স্থানীয় নেতারা বলেন, ইয়াছিন আরাফাতের কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া এবং আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়ার দাবি জানান তাঁরা।
এদিকে গ্রামবাসীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মঙ্গলবার মুরাদনগর উপজেলা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে ইয়াছিন আরাফাতকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। এতে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দলীয় কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইয়াছিন আরাফাত। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা এবং সম্পূর্ণ মিথ্যা। বুধবার রাতে তিনি বলেন, ‘যারা এলাকায় মব তৈরি করে চাঁদাবাজি করে, আমি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলি। এসবের প্রতিবাদ করায় আমাকে নানা ভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দিয়েছি।’
বুধবার রাতে এ বিষয়ে জানতে মুরাদনগর উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক খাইরুল হাসানের মুঠোফোন ও হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

Comments
Comments