কাতারে আটকে আছে এলএনজিবাহী বড় জাহাজ
![]() |
| চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা ছিল ‘লিব্রেথা’ নামের এই ট্যাংকারের | ছবি: সংগৃহীত |
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ ঘোষণা করায় কাতারের রাস লাফান বন্দরে আটকে পড়েছে এলএনজিবাহী বড় ট্যাংকার ‘লিব্রেথা’। ৬২ হাজার টন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) নিয়ে জাহাজটির চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা থাকলেও পারস্য উপসাগর থেকে বের হতে পারছে না এটি।
জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘মেরিন ট্রাফিক’-এর তথ্য অনুযায়ী, লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ২৯৫ মিটার দীর্ঘ এই বিশাল ট্যাংকারটি তিন দিন ধরে কাতারের উপকূলের কাছাকাছি বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। পানির নিচে ট্যাংকারটির অবস্থানের গভীরতা (ড্রাফট) দেখে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে এটি এলএনজি বোঝাই অবস্থায় আছে।
কাতারসহ পারস্য উপসাগরের সাতটি দেশের জাহাজ চলাচলের একমাত্র পথ হলো হরমুজ প্রণালি। গত সোমবার ইরান এই পথ বন্ধ করে দেওয়ায় বর্তমানে কোনো জাহাজ এই রুট দিয়ে আসা-যাওয়া করতে পারছে না। ফলে ‘লিব্রেথা’র পাশাপাশি ‘ওয়াদি আল সেইল’ নামে আরেকটি ট্যাংকারও অনিশ্চয়তায় পড়েছে। জাহাজ দুটির মার্চের মাঝামাঝি সময়ে দেশে পৌঁছানোর কথা ছিল।
তবে এর মধ্যেই আশার খবর হলো, চারটি এলএনজিবাহী জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসতে শুরু করেছে। ‘আল জোর’ ও ‘আল জাসাসিয়া’ নামে দুটি জাহাজ ইতিমধ্যে পৌঁছেছে। এ ছাড়া আজ সোমবার ‘লুসাইল’ এবং আগামী বুধবার ‘আল গালায়েল’ পৌঁছানোর কথা রয়েছে। এই চার জাহাজে মোট ২ লাখ ৪৭ হাজার টন এলএনজি রয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশের এলএনজি আমদানির প্রায় ৬৫ শতাংশই আসে কাতার থেকে, যার প্রতিটি জাহাজকে হরমুজ প্রণালি পার হয়ে আসতে হয়। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে পেট্রোবাংলা দৈনিক প্রায় ২০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে খোলাবাজার (স্পট মার্কেট) থেকে চড়া দামে আরও দুটি এলএনজি কার্গো কেনা হয়েছে।
যুদ্ধ শুরুর আগে যেখানে প্রতি ইউনিট এলএনজি ১০ ডলারে কেনা হতো, এখন সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়া থেকে তা সাড়ে ২৪ ডলার এবং গানভর কোম্পানি থেকে ২৮ ডলারে কিনতে হচ্ছে। পেট্রোবাংলা আশা করছে, এই বাড়তি আমদানির ফলে অন্তত চলতি মাসে গ্যাসের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হবে।

Comments
Comments