[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

আরিচায় যমুনার পাড়ে বারুণী স্নান, সাথে পাঁচ দিনের লোকজ মেলা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব বারুণী স্নান উপলক্ষে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় যমুনা নদীর তীরে মানুষের ঢল নেমেছিল। মঙ্গলবার সকালে আরিচা ঘাট এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন   

হিন্দু সম্প্রদায়ের উৎসব বারুণী স্নান উপলক্ষে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় যমুনা নদীর তীরে মানুষের ঢল নামে। মঙ্গলবার ধর্মীয় নিয়ম-কানুন মেনে ও গম্ভীর পরিবেশে পুণ্যার্থীরা এই স্নান উৎসবে অংশ নেন। এ উপলক্ষে মেলাও বসে। শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজকল্যাণ সমিতি ও স্থানীয় শিবালয় ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে এই আয়োজন করা হয়।

স্থানীয়দের মতে, প্রায় ২০০ বছর ধরে আরিচায় যমুনা নদীর তীরে এই বারুণী স্নান পালিত হয়ে আসছে। প্রতি বছরের মতো এবারও মানিকগঞ্জ, রাজবাড়ী, পাবনা, ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন জেলা এবং রাজধানী ঢাকা থেকে বিপুলসংখ্যক পুণ্যার্থীর সমাগম ঘটে। এ ছাড়া পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত, বিশেষ করে কলকাতা থেকেও অনেক ভক্ত অংশ নিতে আসেন। বারুণী স্নানকে ঘিরে আয়োজন করা এই মেলা শুধু ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়; এটি এ অঞ্চলের মানুষের বড় একটি সামাজিক ও সাংস্কৃতিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে।

বারুণী স্নান উপলক্ষে আরিচা ঘাটসংলগ্ন যমুনা নদীর তীরে পাঁচ দিনব্যাপী মেলা বসেছে। সাধারণত এই মেলা তিন দিন চলে, তবে অনুকূল আবহাওয়া ও পরিস্থিতির কারণে অনেক সময় তা সাত থেকে দশ দিন পর্যন্তও বাড়ে। ঈদ সামনে থাকায় এ বছর মেলার সময় আরও বাড়তে পারে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

মেলায় নদীর তীরবর্তী চরে নানা ধরনের দোকানপাট বসেছে। হস্তশিল্প, খেলনা, প্রসাধনী, সাজসজ্জার জিনিস, বাঁশ ও কাঠের তৈরি পণ্য, বেতের জিনিস, মাটির পাত্র, লোহার সামগ্রীসহ গৃহস্থালির নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পণ্য বিক্রি হচ্ছে। পাশাপাশি মিষ্টি, বিন্নি, খৈ, বাতাসা ও অন্যান্য মুখরোচক খাবারও রয়েছে। শিশুদের বিনোদনের জন্য নাগরদোলা, দোলনা, ট্রেন রাইডসহ বিভিন্ন আয়োজন রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বেলুন, খেলনা ও নানা আকর্ষণীয় জিনিসের দোকান শিশুদের আনন্দ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

তেওতা জমিদারবাড়ির প্রধান পুরোহিত শংকর প্রসাদ চৌধুরী বলেন, প্রায় ২০০ বছরের ঐতিহ্য বহন করে আসছে মহাবারুণী স্নান। প্রতি বছরের মতো এবারও বিপুলসংখ্যক ভক্তের সমাগম হয়েছে। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই স্নানের মাধ্যমে যমুনার জলে ডুব দিলে মানুষের পাপ মোচন হয়। এই আয়োজন শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি মানুষকে ভ্রাতৃত্ব ও মিলনের বন্ধনে যুক্ত করে। স্নান শেষে ভক্তদের পারস্পরিক আলিঙ্গন ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে এক মিলনমেলার পরিবেশ তৈরি হয়, যা বারুণী স্নানের অন্যতম প্রধান দিক।

শিবালয় বন্দর ব্যবসায়ী সমাজকল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক এস এম রাজু আহম্মেদ জানান, বারুণী স্নানে আসা পুণ্যার্থীদের সুবিধার জন্য বন্দর সমিতির পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্নান শেষে কাপড় পরিবর্তনের জন্য আলাদা প্যান্ডেল ও খাবারের ব্যবস্থা রাখা হয়। স্থানীয় সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীরের সহযোগিতার পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উপজেলা প্রশাসন, শিবালয় থানা–পুলিশ, কোস্টগার্ড, ফায়ার সার্ভিস এবং আনসার ও গ্রাম পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।

শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনিষা রানী কর্মকার বলেন, বারুণী স্নান উপলক্ষে আসা পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঘাট এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, স্নানার্থীদের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন