[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

জঙ্গল সলিমপুরে সকাল থেকে অভিযান, মাঠে যৌথ বাহিনীর ৪ হাজার সদস্য

প্রকাশঃ
অ+ অ-

 

পাহাড়ের মাঝখানের এই সড়ক ধরে ঢুকতে হয় জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরে। সম্প্রতি তোলা | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুরে যৌথ বাহিনীর বিশেষ অভিযান চলছে। সোমবার সকাল ছয়টায় সেনাবাহিনী, র‍্যাব ও পুলিশের প্রায় চার হাজার সদস্যের অংশগ্রহণে এই অভিযান শুরু হয়।

অভিযানের বিষয়টি চট্টগ্রাম জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গণমাধ্যম) মো. রাসেল নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, যৌথ বাহিনীর চার হাজার সদস্য অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অভিযানের বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

গত জানুয়ারি মাসে অভিযানে গিয়ে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহত হওয়ার পর জঙ্গল সলিমপুর এলাকাটি নতুন করে আলোচনায় আসে। এরপর সেখানে বড় ধরনের অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করা হয়। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে থাকায় ওই সময় আর অভিযান চালানো সম্ভব হয়নি।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকে জঙ্গল সলিমপুরের চারপাশ ঘিরে ফেলে যৌথ বাহিনী। এলাকায় ঢোকা ও বের হওয়ার পথগুলোতে বসানো হয়েছে তল্লাশিচৌকি, যাতে অভিযান শুরুর পর কেউ পালিয়ে যেতে না পারে। যৌথ বাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন দলে ভাগ হয়ে এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অতীতে এই এলাকায় অভিযানে গিয়ে হামলার শিকার হওয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবার ভিন্ন কৌশল নিয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুরে অভিযান চালানোর সময় সন্ত্রাসী হামলায় র‍্যাব-৭-এর উপসহকারী পরিচালক (নায়েব সুবেদার) মোতালেব হোসেন ভূঁইয়া নিহত হন। এই ঘটনায় সীতাকুণ্ড থানায় মামলা করে র‍্যাব। এতে মোহাম্মদ ইয়াসিনকে প্রধান আসামি করা হয়। মামলায় ইয়াসিন, নুরুল হক ভান্ডারীসহ ২৯ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, র‍্যাব সদস্যরা আসামি ধরতে গেলে সন্ত্রাসী মোহাম্মদ ইয়াসিনের নির্দেশে রামদা, কিরিচ ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় র‍্যাবের আটক করা এক আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। এমনকি চার র‍্যাব সদস্যকে অপহরণ করে নিয়ে যান আসামিরা। পরে সেনাবাহিনী ও পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে।

চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থেকে দুই কিলোমিটার পশ্চিমে এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটি। এর বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে ৩ হাজার ১০০ একর জায়গায় জঙ্গল সলিমপুরের অবস্থান। সীতাকুণ্ড উপজেলায় হলেও এটি নগরের কাছেই। এলাকাটির পূর্ব দিকে হাটহাজারী উপজেলা এবং দক্ষিণে বায়েজিদ বোস্তামী থানা।

জঙ্গল সলিমপুর দুর্গম পাহাড়ি এলাকা হওয়ায় এটি সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা হয়ে উঠেছে। চার দশক ধরে সরকারি পাহাড় কেটে এখানে কয়েক হাজার অবৈধ বসতি গড়ে উঠেছে। এখনো পাহাড় কেটে চলছে প্লট কেনাবেচা। এই দখল টিকিয়ে রাখতে এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে সন্ত্রাসী বাহিনী, যারা সবসময় সশস্ত্র পাহারায় থাকে। র‍্যাবের ওপর হামলার আগে গত বছরের অক্টোবরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে এখানে একজন নিহত হন। পরদিন সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের হামলায় দুই সাংবাদিকও আহত হন।

পুলিশ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় দুটি সন্ত্রাসী পক্ষ রয়েছে। একটি পক্ষের নেতৃত্বে মোহাম্মদ ইয়াসিন এবং অপর পক্ষে রোকন উদ্দিন। ইয়াসিন বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীতাকুণ্ডের সাবেক সংসদ সদস্য এস এম আল মামুনের অনুসারী ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে ইয়াসিন নিজেকে বিএনপি নেতা আসলাম চৌধুরীর অনুসারী দাবি করে আসছেন। তবে র‍্যাব কর্মকর্তা নিহতের পর আসলাম চৌধুরী বিবৃতিতে জানান, জঙ্গল সলিমপুরে তাঁর কোনো অনুসারী নেই এবং এই ঘটনার সঙ্গে বিএনপির কেউ জড়িত নন। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন