[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

রায় জালিয়াতিসহ ৪ মামলায় জামিন পেলেন সাবেক প্রধান বিচারপতি

প্রকাশঃ
অ+ অ-

সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক | ফাইল ছবি

রায় জালিয়াতির অভিযোগসহ পৃথক চার মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। এসব মামলায় তাঁর জামিন আবেদনের ওপর চূড়ান্ত শুনানি শেষে বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রোববার এই রায় দেন।

এর আগে গত ৪ মার্চ পৃথক চার মামলায় খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে জারিকৃত রুলের ওপর শুনানি শেষ হয়। আদালত রায়ের জন্য রোববার দিন ঠিক করেছিলেন। সেই অনুযায়ী দুপুর দুইটায় আদালতের কার্যতালিকায় আবেদন চারটি রায়ের জন্য ওঠে। দুপুর ২টা ৫ মিনিটের দিকে রুল যথাযথ ঘোষণা করে রায় দেন আদালত।

রায় জালিয়াতি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলাসহ মোট পাঁচটি মামলায় খায়রুল হকের জামিন প্রশ্নে গত বছরের ২৬ অক্টোবর রুল দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। মামলাগুলোতে কেন তাঁকে জামিন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে দুদক ও রাষ্ট্রপক্ষকে ১০ দিনের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছিল। এর মধ্যে হাইকোর্টে চার মামলায় জামিন আবেদনের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হলো।

খায়রুল হকের অন্যতম আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন জানান, দুদকের করা মামলায় তাঁর জামিন প্রশ্নে রুলটি হাইকোর্টের অন্য একটি দ্বৈত বেঞ্চে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে। আগামী ১১ মার্চ সেখানে শুনানি হতে পারে।

আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, সারা হোসেন ও সাঈদ আহমেদ রাজা। রায় ঘোষণার সময় তাঁর পক্ষে উপস্থিত ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মোহাতার হোসেন সাজু ও আইনজীবী মোনায়েম নবী শাহীন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল নাহিদ হোসেন ও মো. জহিরুল ইসলাম সুমন।

রায়ের পর উপ-অ্যাটর্নি জেনারেল মো. জহিরুল ইসলাম সুমন বলেন, চার মামলায় হাইকোর্ট খায়রুল হককে জামিন দিয়েছেন। এর বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করা হবে কি না, সে বিষয়ে প্রধান সরকারি আইন কর্মকর্তা (অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল) সিদ্ধান্ত নেবেন।

এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তাঁর নেতৃত্বে আপিল বিভাগ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেন। এই রায়ের মাধ্যমেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের প্রায় এক বছর পর ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তাঁকে আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর বেআইনি রায় দেওয়া ও ভুয়া রায় তৈরির অভিযোগে গত বছরের ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জে করা একটি মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে গত বছরের ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় মামলা করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন। একই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় গত বছরের ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা নামের এক ব্যক্তি। এ ছাড়া নিয়মবহির্ভূতভাবে প্লট নেওয়ার অভিযোগে গত বছরের আগস্টে খায়রুল হকের বিরুদ্ধে একটি মামলা করে দুদক।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন