কক্সবাজারে গ্যাসপাম্পে বিস্ফোরণ, আরও এক চালকের মৃত্যু
![]() |
| বিস্ফোরণের পর আগুনে পুড়ে যাওয়া গাড়ির গ্যারেজ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন |
কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কের আদর্শ গ্রামে একটি গ্যাসপাম্পে বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দগ্ধ মোতাহার হোসেন (৩৬) নামের আরও এক গাড়িচালকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। মোতাহারের বাড়ি কক্সবাজার শহরের কলাতলী গ্রামে।
এর আগে একই ঘটনায় দগ্ধ কলাতলী আদর্শ গ্রামের বাসিন্দা আবু তাহের ও আবদুর রহিমের মৃত্যু হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। মোতাহারের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তাঁর ভাতিজা মো. হৃদয়। তিনি জানান, মরদেহ নিয়ে তাঁরা কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন এবং শুক্রবার সকালে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাতে ‘কক্সবাজার এলপিজি স্টেশন’ নামে নবনির্মিত পাম্পটিতে বিস্ফোরণ ও আগুন লাগে। এতে ৪টি বাড়ি, একটি গ্যারেজে থাকা ৪০টি গাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আগুনে অন্তত ১৬ জন দগ্ধ হন, যাঁদের মধ্যে ছয়জনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রাম ও ঢাকায় ভর্তি করা হয়।
নিহতদের মধ্যে গত মঙ্গলবার সকালে আবু তাহের এবং বুধবার গ্যারেজ মালিক আবদুর রহিম ঢাকা মেডিকেলে মারা যান। ঘটনার রাতে তাঁরা পাম্পের পাশের গ্যারেজটিতে অবস্থান করছিলেন।
এদিকে লাইসেন্স ছাড়া গ্যাসপাম্প স্থাপনের অভিযোগে ১ মার্চ রাতে পাম্পমালিক নুরুল আলম ওরফে এন আলমের বিরুদ্ধে মামলা করেছে বিস্ফোরক পরিদপ্তর। মামলার এজাহারে বলা হয়, পাম্পটি স্থাপনের জন্য জেলা প্রশাসনের অনাপত্তিপত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, ফায়ার সার্ভিসের অনুমতি বা বিস্ফোরক পরিদপ্তরের কোনো লাইসেন্স নেওয়া হয়নি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন বলেন, ঘটনার পর থেকেই পাম্পমালিক এন আলম আত্মগোপনে রয়েছেন, তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আ. মান্নান জানান, এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Comments
Comments