[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

সান্তাহারে সংকেত অমান্য করে নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, আহত অন্তত ৬৬

প্রকাশঃ
অ+ অ-
নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি বগুড়ার আদমদীঘিতে লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার বিকেলে দিকে উপজেলার শান্তাহার জংশনের অদূরে বাগবাড়ি এলাকায় | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্তাহার জংশনের কাছে লোকোমাস্টার সংকেত না মানায় বাগবাড়ি এলাকায় নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়েছে। বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে দুর্ঘটনা ঘটে।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের আদমদীঘি স্টেশনের কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত আহত ৪৮ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। রেলপথ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আহতের সংখ্যা ৬৬।

দুর্ঘটনার পর রেলওয়ের পশ্চিমাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী আহাম্মেদ হোসেন মাসুম জানান, চার সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির প্রতিবেদন হাতে এলে দুর্ঘটনার দায় কার, তা জানা যাবে। দ্রুত মেরামত করে রেললাইন সচল করা হবে। রাতের মধ্যেই কাজ শুরু হবে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাগবাড়ি এলাকায় তখন রেললাইন মেরামতের কাজ চলছিল। ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে লাল নিশানা টাঙানো ছিল। ঢাকা থেকে নীলফামারীগামী নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঈদে ঘরমুখী যাত্রীতে ভরা ছিল। সান্তাহার জংশনে যাত্রাবিরতির পর ট্রেনটি আক্কেলপুর স্টেশনের দিকে রওনা দেয়। জংশনের দুই কিলোমিটার উত্তরে বাগবাড়িতে এসে ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়।

এ সময় ট্রেনের ছাদে থাকা যাত্রীরা নিচে পড়ে আহত হন। বগির ভেতরে থাকা অনেক যাত্রীরও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ৪৮ যাত্রীকে উদ্ধার করে। দুর্ঘটনার পর ঈদে ঘরমুখী যাত্রীরা চরম বিড়ম্বনায় পড়েন এবং বিভিন্ন যানবাহনে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা হন।

বিকেল চারটায় ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে, ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়ে আছে। কয়েকটি বগির চাকা লাইন থেকে উঠে পাথরের ওপর পড়েছে। কিছু বগি বেঁকে গেছে এবং রেললাইনও উপড়ে গেছে।

বাগবাড়ি গ্রামের সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘দুপুরে বাড়ির বাইরে কাজ করছিলাম। ট্রেনের ছাদে থাকা অনেকের হাত-পা ভেঙেছে, কারও মাথা কেটেছে।’ অন্য বাসিন্দা ছামাদ বলেন, ‘রেললাইন মেরামতের কাজ চলছিল। সব ট্রেন ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ পার হচ্ছিল। নীলসাগর এক্সপ্রেস লাল নিশানার মধ্য দিয়ে পার হতে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়।’

সান্তাহার রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার খাদিজা খাতুন জানান, রেললাইনে আগে থেকেই ত্রুটি ছিল। বেলা আড়াইটার দিকে ট্রেনটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। এই রুটে আপাতত ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। উদ্ধারকাজে দুটি রিলিফ ট্রেন কাজ করছে।

রেলপথ মন্ত্রণালয় জানায়, ট্রেনটি বুধবার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে ঢাকা থেকে চিলাহাটির উদ্দেশে ছাড়ে। সান্তাহার পার হয়ে তিলকপুর স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় ব্যানার সিগন্যাল অমান্য করার কারণে বাগমারী এলাকায় ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে আহত হন ৬৬ জন। এদের মধ্যে ২০ জন নওগাঁ সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, ৪০ জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং ৬ জনকে বগুড়া আদমদীঘি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছাড় দেওয়া হয়েছে।

ট্রেন লাইনচ্যুত হওয়ায় উত্তরবঙ্গের ৫ জেলা নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন  

সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ায় তিনটি স্টেশনে ঈদযাত্রার ৫টি ট্রেন আটকা পড়েছে। রেল কর্তৃপক্ষ বলছে, রাত দুইটা নাগাদ লাইনচ্যুত ট্রেনটি উদ্ধার হবে। এতে উত্তর ও দক্ষিণাঞ্চলের আরও কয়েক জোড়া ট্রেন আটকা পড়তে পারে। ঘটনার পর উত্তরবঙ্গের ৫ জেলা নীলফামারী, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও জয়পুরহাটের সঙ্গে ঢাকার রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় রেল কন্ট্রোলার শফিকুর রহমান জানান, ঘটনার পর থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ঈদযাত্রার তিনটি ট্রেন আটকা পড়েছে। এর মধ্যে পঞ্চগড় থেকে রাজশাহীগামী বাংলাবান্ধা এক্সপ্রেস জয়পুরহাটের আক্কেলপুরে, খুলনা থেকে চিলাহাটিগামী রূপসা এক্সপ্রেস নাটোরের রানীনগরে, খুলনা থেকে পার্বতীপুরগামী রকেট মেইল নাটোরে, ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পঞ্চগড়গামী একতা এক্সপ্রেস নাটোরের আবদুলপুর স্টেশনে ও রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী বরেন্দ্র এক্সপ্রেস আবদুলপুর স্টেশনে আটকে আছে।

পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের পাকশী বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজিব কায়সার বলেন, লাইনচ্যুত ট্রেনটি উদ্ধার করতে রাত দুইটা বাজতে পারে। এতে আরও কয়েক জোড়া ট্রেন আটকা পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে দ্রুত লাইন চালুর চেষ্টা করা হচ্ছে।

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন