[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

বিদ্যুতের আসা–যাওয়ায় ভোলায় গ্রাহকের ভোগান্তি

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির প্রবেশপথ | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

পুরোদমে গরম শুরু হওয়ার আগেই উপকূলীয় জেলা ভোলায় তীব্র বিদ্যুৎ-বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুতের এই ‘আসা-যাওয়ার ভেলকিবাজিতে’ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। গতকাল রোববার সকাল থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত অন্তত পাঁচবার বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করেছে। এতে বাসাবাড়ির ফ্রিজে থাকা কাঁচামাল এবং দোকানের ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া কল-কারখানায় উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

ভোলা বিসিক শিল্পনগরীর খান ফ্লাওয়ার মিলের মালিক মো. জামাল উদ্দিন জানান, বিদ্যুতের এই অস্থিরতার কারণে তাঁর মিলের মোটর পুড়ে গেছে, যাতে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতি হয়েছে। বিদ্যুৎ না থাকলেও শ্রমিকদের বসিয়ে রেখে পুরো মজুরি দিতে হচ্ছে, যা ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের দাবি, জেলায় বর্তমানে কোনো লোডশেডিং নেই; বরং বাতাসের কারণে সঞ্চালন লাইনে সমস্যা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, প্রয়োজনীয় ট্রান্সফরমার, গ্রিড সাবস্টেশন এবং টেকসই সঞ্চালন লাইনের অভাবেই বিতরণ বিভাগ ঠিকমতো লোড নিতে পারছে না।

বর্তমানে ভোলা সদরে ওজোপাডিকোর আওতায় ২০-২২ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা রয়েছে এবং গ্রাহক সংখ্যা ৮৫ হাজার। অন্যদিকে, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৯১ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে বোরহানউদ্দিন প্ল্যান্ট থেকে মিলছে মাত্র ৬৮-৭০ মেগাওয়াট। আগে একটি রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও বর্তমানে তা বন্ধ রয়েছে। তবে ৪ লাখ ৪৬ হাজার গ্রাহকের এই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শাহ্ মো. রাজ্জাকুর রহমান দাবি করেছেন, তাঁদের এলাকায় এখনো লোডশেডিং শুরু হয়নি।

জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে চালু থাকা ৩৪.৫ মেগাওয়াটের একটি রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট গত বছরের জুলাইয়ে চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে এখন প্রায় ৪২ কিলোমিটার দূরে বোরহানউদ্দিনের ২২৫ মেগাওয়াট পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে পুরো জেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু সেখানে থাকা দুটি ট্রান্সফরমারের মধ্যে একটি বড় ট্রান্সফরমার গত বছরের মে মাস থেকে অকেজো হয়ে আছে। বর্তমানে মাত্র একটি ট্রান্সফরমার দিয়ে পুরো জেলার চাহিদা সামাল দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে।

দীর্ঘ দূরত্বের সঞ্চালন লাইন হওয়ায় ঝড়-বৃষ্টিতে প্রায়ই লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং তা মেরামতে দীর্ঘ সময় লাগে। এলাকাবাসীর মতে, এই সংকট কাটাতে বন্ধ হয়ে যাওয়া রেন্টাল প্ল্যান্টটি পুনরায় চালু করা, অকেজো ট্রান্সফরমার দ্রুত মেরামত এবং ভোলা সদরে একটি স্থায়ী গ্রিড সাবস্টেশন স্থাপন করা জরুরি।

কনজ্যুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জেলা সাধারণ সম্পাদক মো. সুলাইমান জানান, ভোলা থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে গেলেও স্থানীয় গ্রাহকরা নিরবচ্ছিন্ন সেবা পাচ্ছেন না, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।

তবে ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ইউসুফ দাবি করেছেন, বর্তমানে কোনো লোডশেডিং নেই। তাঁর মতে, গত এক সপ্তাহ ধরে তীব্র বাতাসের কারণে সুপারি গাছসহ বিভিন্ন গাছের ডালপালা বিদ্যুতের তারের ওপর পড়ায় এই সাময়িক বিভ্রাট ঘটছে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন