মাকে মারধরের অভিযোগে ছেলের গলায় কলসি ঝুলিয়ে বাজার ঘোরানো হলো
![]() |
| নোয়াখালীতে মাকে মারধরের অভিযোগে ছেলেকে গলায় পানিভর্তি কলস ঝুলিয়ে বাজারে ঘোরানো হচ্ছে। রোববার সকালে নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া বাজারে | ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া |
বৃদ্ধ মা শেষরাতে সাহ্রি খাওয়ার সময় ছেলের ঘরে রান্না করা একটু খাসির মাংস খেতে চেয়েছিলেন। ছেলে (৩৬) মাংস না দিয়ে উল্টো মাকে মারধর করেন। মা তখন কাঁদতে কাঁদতে বিচার নিয়ে হাজির হন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যানের বাড়িতে। চেয়ারম্যান রোববার সকালে অভিযুক্ত ছেলেকে গ্রাম পুলিশ দিয়ে ধরে আনেন। পরে ইউনিয়ন পরিষদে প্রকাশ্য সালিসে ছেলের গলায় পানিভর্তি কলসি ঝুলিয়ে স্থানীয় বাজার ঘোরানো হয়।
ঘটনাটি নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলার ছাতারপাইয়া ইউনিয়নের একটি গ্রামের। ওই ঘটনায় রোববার সকালে ছাতারপাইয়া বাজার সংলগ্ন ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের সামনে সালিস করেন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান। চেয়ারম্যানের সালিসের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
ভিডিওতে চেয়ারম্যান আবদুর রহমানকে উপস্থিত লোকজনের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ‘এ রকম কোনো ব্যক্তি যদি মাকে ভাত না দেয় বা মারধর করে, তাহলে বিচার নিয়ে আমাদের কাছে আসবেন। কোনো জেল-হাজতের দরকার নাই, বিচার আমরাই করব।’
পরে বিষয়টি নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে চেয়ারম্যান আবদুর রহমান বলেন, বৃদ্ধ মা ছেলের ঘরে খাসির মাংস রান্না হয়েছে শুনে গত শনিবার শেষরাতে সাহ্রি খাওয়ার সময় এক টুকরো মাংস চেয়েছিলেন। ছেলে মাংস তো দেননি, উল্টো মাকে মারধর করেছেন। একের পর এক লাথি দিয়েছেন। ওই সময়েই মা কাঁদতে কাঁদতে তাঁর বাড়িতে এসে ঘটনাটি জানান এবং বিচার চান। এরপর সকালে তিনি গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে ছেলেকে ধরে এনে বিচারের ব্যবস্থা করেন।
মাকে মারধরের অভিযোগে ছেলেকে ধরে এনে সালিসে গলায় পানিভর্তি কলসি ঝুলিয়ে বাজারে ঘোরানোর ঘটনাটি অন্যদের মুখে শুনেছেন বলে উল্লেখ করেন সেনবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল বাশার। তিনি বলেন, গ্রাম্য সালিসে সমাধান করার অধিকার তাঁদের আছে। কিন্তু এ ধরনের বিচারের কথা আগে তিনি শোনেননি। বিষয়টি দৃষ্টিকটু। এ বিষয়ে থানায় কেউ কোনো অভিযোগ করেননি।

Comments
Comments