[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

দুই মাসে কক্সবাজার এক্সপ্রেসে আয় বেড়েছে কোটি টাকা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
ঢাকা–কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী বিরতিহীন কক্সবাজার এক্সপ্রেস | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী বিরতিহীন কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে গত বছরের নভেম্বর মাসে রেলওয়ের আয় হয়েছিল ৫ কোটি ৫২ লাখ টাকা। চলতি বছরের জানুয়ারিতে এই আয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকায়। অর্থাৎ দুই মাসের ব্যবধানে এই আন্তনগর ট্রেন থেকে আয় বেড়েছে ১ কোটি ১৩ লাখ টাকা।

শুধু কক্সবাজার এক্সপ্রেস নয়, রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের বিভিন্ন রুটে চলাচলরত অধিকাংশ আন্তনগর ট্রেনের আয়ও বেড়েছে। গত বছরের নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে আয় বেড়েছে ৮ কোটি ৮২ লাখ টাকা এবং জানুয়ারিতে বেড়েছে ৯ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, বিভিন্ন রুটে ‘সেতু মাশুল’ আরোপ করায় আয় বেড়েছে। ডিসেম্বর থেকে এই বাড়তি মাশুল কার্যকর করা হয়েছে।

রেলওয়ের ভাষায়, রেলপথে কোনো সেতু বা এই জাতীয় কাঠামো থাকলে ভাড়ার সঙ্গে যে অতিরিক্ত মাশুল নির্ধারণ করা হয়, তাকেই সেতু মাশুল বলা হয়। এ ক্ষেত্রে ১০০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতুকে আড়াই কিলোমিটার দূরত্ব হিসেবে ধরা হয়। ফলে কাগজে-কলমে যাত্রাপথের দূরত্ব বেড়ে যায় এবং সেই অনুযায়ী ভাড়াও বৃদ্ধি পায়।

সরাসরি টিকিটের দাম না বাড়িয়ে সেতু মাশুল আরোপের মাধ্যমে ভাড়া সমন্বয় করা হয়েছে। এর ফলে প্রায় ৯ বছর পর ট্রেনের ভাড়া বাড়াল রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল। এই মাশুলের কারণে ট্রেন ও আসনভেদে সর্বনিম্ন ৫ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ২২৬ টাকা পর্যন্ত ভাড়া বেড়েছে। নতুন ভাড়ার ভিত্তিতে গত ১০ ডিসেম্বর থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। সেদিন ২০ ডিসেম্বরের ট্রেনের টিকিট বিক্রি করা হয়েছিল।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, ছয়টি রুটের ১১টি সেতুতে এই মাশুল আরোপ করা হয়েছে। রুটগুলো হলো ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-কক্সবাজার, ঢাকা-সিলেট, চট্টগ্রাম-সিলেট, চট্টগ্রাম-জামালপুর এবং ঢাকা-দেওয়ানগঞ্জ। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ নিয়ে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চল গঠিত।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ রুটে ৫৮টি (২৯ জোড়া) আন্তনগর ট্রেন চলাচল করে। এ ছাড়া পূর্বাঞ্চল থেকে পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াত করে ২১টি ট্রেন। সব মিলিয়ে মোট ৭৯টি আন্তনগর ট্রেন রয়েছে।

রেলওয়ের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে ৭৯টি ট্রেনের মধ্যে ৭৪টির আয় বেড়েছে। গত বছরের নভেম্বরে আন্তনগর ট্রেন থেকে পূর্বাঞ্চলের মোট আয় ছিল ৭৬ কোটি টাকা। ডিসেম্বরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৮৪ কোটি ৮৩ লাখ টাকায়। আর চলতি বছরের জানুয়ারিতে আয় হয়েছে ৮৫ কোটি ৩৫ লাখ টাকা।

মাসিক আয় বৃদ্ধির দিক থেকে উল্লেখযোগ্য ট্রেনগুলোর মধ্যে রয়েছে ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটের সুবর্ণ এক্সপ্রেস, যার আয় বেড়েছে ১১ লাখ টাকা। মহানগর গোধূলী ও মহানগর প্রভাতী ট্রেনের আয় বেড়েছে ৫২ লাখ ২১ হাজার টাকা। মহানগর এক্সপ্রেসে বেড়েছে ২৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা, তূর্ণা এক্সপ্রেসে ৩১ লাখ ৫৪ হাজার টাকা, সোনার বাংলা এক্সপ্রেসে ১৮ লাখ ১৮ হাজার টাকা এবং চট্টলা এক্সপ্রেসে ৪৩ লাখ ৪১ হাজার টাকা।

ঢাকা-কক্সবাজার রুটের পর্যটক এক্সপ্রেসে আয় বেড়েছে ৪১ লাখ ৯০ হাজার টাকা। চট্টগ্রাম-সিলেট রুটের পাহাড়িকা এক্সপ্রেসে বেড়েছে ২১ লাখ টাকা এবং উদয়ন এক্সপ্রেসে ২৫ লাখ ২৫ হাজার টাকা। 

অন্যদিকে পাঁচটি ট্রেনের আয় কমেছে। এগুলো হলো তারাকান্দি–ঢাকা রুটের অগ্নিবীণা এক্সপ্রেস, দেওয়ানগঞ্জ–ঢাকা রুটের ব্রহ্মপুত্র এক্সপ্রেস, মোহনগঞ্জ–ঢাকা রুটের হাওর এক্সপ্রেস, জামালপুর–চট্টগ্রাম রুটের বিজয় এক্সপ্রেস এবং মোহনগঞ্জ–ঢাকা রুটের মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেস। এসব ট্রেনের মাসিক আয় সর্বনিম্ন ১৭ হাজার টাকা থেকে সর্বোচ্চ ১২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা পর্যন্ত কমেছে।

রেলওয়ের মাসিক আয় পর্যালোচনায় দেখা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে আন্তনগর ট্রেন থেকে পূর্বাঞ্চলের মোট আয় হয়েছে ৫৬৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকা। এ সময় যাত্রী পরিবহন করা হয়েছে ১ কোটি ৫৫ লাখ ৮৩ হাজার জন। গত তিন অর্থবছরের মধ্যে এবারই রেলের আয় ও যাত্রীসংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রধান বাণিজ্যিক ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান বলেন, নিরাপদ বাহন হিসেবে ট্রেনের প্রতি মানুষের আগ্রহ আগের তুলনায় বেড়েছে। পাশাপাশি সেতু মাশুল আরোপ করায় আয়ের পরিমাণও বাড়ছে। তিনি আরও বলেন, ডিসেম্বর মাসে রেলপথ অবরোধ না হলে এবং জানুয়ারিতে দুটি দুর্ঘটনা না ঘটলে আয় ও যাত্রীসংখ্যা আরও বাড়তে পারত। তবে শুধু সেতু মাশুল নয়, আয় বাড়াতে অভ্যন্তরীণভাবে বিভিন্ন উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে, যার সুফল পাওয়া যাচ্ছে। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন