[tenolentSC] / results=[3] / label=[ছবি] / type=[headermagazine]

শাহবাগ থানার সামনে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানো নিয়ে দুই পক্ষের উত্তেজনা

প্রকাশঃ
অ+ অ-
শাহবাগ থানার ভেতরে মারধরের ঘটনা ঘটে | ছবি: পদ্মা ট্রিবিউন

রাজধানীর চানখাঁরপুলে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ বাজানোর ঘটনায় নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে আটকের প্রতিবাদে শাহবাগ থানার সামনে আবারও ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি ডাকেন কয়েকজন। তাঁদের মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীও ছিলেন। কর্মসূচি অনুযায়ী শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে থানার সামনে রিকশার ওপর একটি শব্দযন্ত্রে (সাউন্ড বক্স) ভাষণ বাজানো হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী শেখ তাসনিম আফরোজ ইমির নেতৃত্বে থানার সামনে এই কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী অংশ নেন।

এই কর্মসূচির প্রতিবাদে সেখানে পাল্টা অবস্থান নেন ডাকসু ও জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতারা। এতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে কর্মসূচিতে থাকা নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের এক নেতাকে মারধর করা হয়।

পাল্টাপাল্টি এই ঘটনায় রাত ১১টা পর্যন্ত শাহবাগ থানার সামনে উত্তেজনা বিরাজ করছিল। এর আগে দুপুরে রাজধানীর চানখাঁরপুল মোড়ে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ শব্দযন্ত্রে (সাউন্ড বক্স) বাজানো হয়। সেখান থেকে আসিফ আহমেদসহ দুজনকে আটক করে শাহবাগ থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।

এ সময় ঘটনাস্থল থেকে ব্যবহৃত শব্দযন্ত্রটিও পুলিশ জব্দ করে। আসিফ আহমেদ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদুল্লাহ হল ছাত্রলীগের (বর্তমানে নিষিদ্ধ) কর্মসংস্থান সম্পাদক।

রাত সাড়ে ৯টার দিকে শাহবাগ এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, থানার বিপরীতে জাতীয় জাদুঘরের ফটকের সামনে একটি রিকশার মধ্যে রাখা শব্দযন্ত্রে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানো হচ্ছে। পাশেই ইমিসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী দাঁড়িয়ে আছেন। আটক শিক্ষার্থীকে না ছাড়া পর্যন্ত ভাষণ বাজানোর কথা জানান তাঁরা। এই খবর পেয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক তাহমিদ আল মোদাসসিরের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের আরেকটি পক্ষ থানার সামনে পাল্টা অবস্থান নেয়।

এ সময় দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি স্লোগান দিলে উত্তেজনা তৈরি হয়। এর কিছুক্ষণ পরে ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের ও মোসাদ্দেক আলী ইবনে মোহাম্মদ সেখানে আসেন। আরও কিছুক্ষণ পাল্টাপাল্টি স্লোগান চলে। একপর্যায়ে তাঁদের নেতৃত্বে ভাষণ বাজানো রিকশাসহ ইমিকে শাহবাগ থানার ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। এই নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে থানার ভেতরে ইমির সঙ্গে থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল শাখা ছাত্রলীগের সহসম্পাদক আবদুল্লাহ আল মামুনকে মারধর করা হয়।

এই বিষয়ে ডাকসু নেতা এ বি জুবায়ের বলেন, ‘সাতই মার্চের ভাষণকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে এবং মুক্তিযুদ্ধের নাম ব্যবহার করে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। যে ছেলেকে ধরা হয়েছে সে চিহ্নিত আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী। জুলাইয়ের আন্দোলনে সে হামলা করেছিল।’

পুরো ঘটনার বিষয়ে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামানের বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

রাত একটা পর্যন্ত এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আবদুল্লাহ আল মামুন থানায় আটক ছিলেন। আগে থেকেই আটক রয়েছেন আসিফ আহমেদ। থানার সামনে ভাষণ বাজানোর কর্মসূচি পালন করতে আসা বাকিরা চলে গেছেন। ডাকসু নেতারাও থানা থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফিরে গেছেন। 

Fetching live reactions...
Was this article helpful?

Comments

Comments

Loading comments…
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন